বৃহস্পতিবার রাজধানীর সার্কিট হাউসে ডিএফপি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিবর্তন দেখছি একজন মানুষের মধ্যে, যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব। তিনি চেষ্টা করছেন, তিনি নতুন নতুন নজির স্থাপন করছেন এবং সেই নজির যদি আমরা সামনে নিয়ে যাই সবাই মিলে, তাহলে আমার মনে হয় যে হয়তোবা পরিবর্তনটা হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই জুলাই সম্পর্কে কথা বলতে হলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার একটা ভারাক্রান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমার কাছে যেটা মনে হয় যে মূল বিষয়টা হচ্ছে আমরা পরিবর্তন চাই। পরিবর্তন কিন্তু একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাপার এবং চলমান ব্যাপার, পরিবর্তন হতেই হবে, কিন্তু সেটাকে একেবারে অত্যন্ত নিয়মের মধ্য দিয়ে, একটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করা—এটা একটা ভিন্ন ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে, যুদ্ধ হয়েছে, আমরা একটা স্বাধীন দেশও পেয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, তখন থেকেই আবারও সেই একই গান গাইতে হয়েছে—পরিবর্তন চাই।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পরিবর্তনটা আসলে করতে হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের যে, স্বাধীনতার ৫৫ বছর হয়ে গেছে, চীনের স্বাধীনতাও প্রায় একই কাছাকাছি সমযয়ে। কাছের যে সিঙ্গাপুর তারও প্রায় একই সময়। তারদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীবন জীবিকা কোথায় চলে গেছে; আর আমরা এখনো এখানে পড়ে আছি।’
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো, যখনই কোনো পরিবর্তনের কথা বলতে হয়েছে, তখন প্রাণ দিতে হয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একদম ২৪-এর জুলাই পর্যন্ত আমরা যারা ক্ষমতায় যাই, আমার কাছে মনে হয় এই চেয়ারের একটা কেমিস্ট্রি আছে। সেই কেমিস্ট্রি আপনাকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে শুরু করে দেয়। এটার পরিবর্তন চেয়েছে ছেলেরা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যখন আন্দোল করেছি, মহাসমাবেশ করেছি—সব জায়গায় একটা কথাই তখন মনে হতো, আমি জোর দিয়ে বলতাম—তরুণদের দেখতে পাই না। কোথায় আমার সেসব তরুণেরা, যুবকেরা, যারা পরিবর্তন আনবে? কিন্তু অলৌকিকভাবে এই ২৪-এর জুলাইয়ে সেই তরুণেরা নেমে এসেছে। প্রথমে এসছে তাদের নিজস্ব দাবিতে। পরবর্তীকালে সেই দাবি পরিণত হলো সরকার পরিবর্তনের দাবিতে।’
আজকের এই পরিবর্তনের জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘এখন আমরা যদি এই মূল্য দেওয়াটাকে ধারণ করতে না পারি, সেটাকে সামনে রেখে যদি পরিবর্তনের চেষ্টা না করতে পারি, তাহলে এই (জুলাইয়ের শহীদদের) মায়ের এই অশ্রুধারা, রক্তস্রোত এমনি এমনি হারিয়ে যাবে। কথাগুলো বলছি অনেক কষ্টে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন—প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম, সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডালের সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রমুখ।
এস