শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধলবাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ির পার্শ্ববর্তী ঈদগাহের পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধলবাড়িয়া গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিন সানার ছেলে।
ধলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জামালউদ্দিন জানান, শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে ঈদগাহের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন এই জামায়াত নেতা। এ সময় একদল পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম জানান, ১ আগস্ট সকালে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে সাতক্ষীরা শহরের আমতলা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে নারকেলতলা এলাকায় সরকারি বীজভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে আটক ৩২ জনসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় আবদুল খালেক ৩৬ নম্বর আসামি।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ৪২টি নাশকতার মামলা রয়েছে। তবে অধিকাংশ মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আবদুল খালেককে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৮ আগস্ট বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, পুলিশ ১৮ আগস্ট (শুক্রবার) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পৈত্রিক বাড়ির ঢলবাড়ি মসজিদ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আবদুল খালেককে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাযায় বাধা দেয়া হয়েছে। কয়েক শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আমি মুহাদ্দিস আবদুল খালেকের গ্রেফতারের এবং স্বৈরাচারী জালেম সরকারের এইসব অমানবিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সরকার গত ১৫ বছর যাবত জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর যে জুলুম, নির্যাতন চালিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে, তারই অংশ হিসেবে মুহাদ্দিস আবদুল খালেককে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে।
এভাবে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর জুলুম ও নির্যাতন চালিয়ে অতীতে যেমন কোনো সরকারই ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে পারেনি, তেমনি বর্তমান জালেম সরকারও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
অবিলম্বে জুলুম-নির্যাতন, গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করে মুহাদ্দিস আবদুল খালেকসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের আটককৃত সকল নেতাকর্মীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এন





