প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। আমরা প্রতিটি গ্রামে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করছি। দেশের সকল নাগরিকের জন্য মানসম্মত আবাসন এবং আগামি প্রজন্মের বাসযোগ্য নগর ও গ্রাম গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ভূমির সুষ্ঠু, সঠিক ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে সুপরিকল্পিত গৃহায়ন এবং নগরায়নের পাশাপাশি সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও রণাবেণে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসমূহের সার্বিক কর্মকান্ড উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন আবদুল্লাহ, পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ঢাকা মহানগরীর উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহন করেছি। ইতোমধ্যে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার, স্থাপত্য ভবন ও ঢাকা নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হয়।
এছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ-২, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, খুলনায় শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালসহ দেশব্যাপী অসংখ্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আইন লংঘন করে আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে,যা স্থানীয় জনগণের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। আবাসিক এলাকায় কোনো হাসপাতাল ও স্কুল নির্মাণের অনুমতি দেয়া হবে না। তিনি রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণেরও আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করেছি। বিএনপি-জামায়াত জোটের অচলাবস্থা কাটিয়ে তুলে অন্যান্য খাতের ন্যায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত খাতের উন্নয়নেও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আমাদের ’৯৬ সরকারের অসমাপ্ত ও বন্ধ কাজগুলো আবার চালু করি। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ, খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ-২, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালসহ বিএনপি-জামাত জোট আমলে বন্ধ থাকা অসংখ্য স্থাপনের অসমাপ্ত নির্মাণ কাজ শেষ করে তা জনগণের কল্যাণে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার পরিকল্পিত নগরী ও সকলের জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে গত ছয় বছরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। হাউজিং এবং বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট টেকসই ও ব্যয় সাশ্রয়ী গৃহ নির্মাণ করার লক্ষে বিভিন্নমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর গত ছয় বছরে দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপরে ৯টি ফাট নির্মাণ প্রকল্প এবং ১ হাজার ৯৬৪টি প্লট উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৭৫৬টি প্লট উন্নয়নের কাজ শেষ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যায়ে এ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার আওতায় ৩৫টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্প এবং ২৯টি ফাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে।
এর অধীনে ৪২ হাজার ৯৭১টি প্লট উন্নয়ন এবং ৩২ হাজার ৮১৬টি ফাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৩৭ হাজার ৯৫৯ প্লট উন্নয়নের জন্য এ মন্ত্রণালয়ের ২৬টি প্রকল্প এবং ৭২ হাজার ১৯৭টি ফাট নির্মাণের জন্য ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য ২০-তলা বাসভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ঢাকার আজিমপুর, মতিঝিল সরকারি কলোনি এবং বেইলী রোডে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্বাচল নতুন শহরে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিপিপি অনুযায়ী ৬২ হাজার ফাট নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। আমি আশা করি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জাতীয গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর আরো অধিক সংখ্যক প্লট উন্নয়ন ও ফাট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সমস্যা সমাধানে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেখ হাসিনা বলেন, পঞ্চ-বার্ষিক এবং প্রেতি পরিকল্পনায় বস্তিবাসী ও নিন্ম আয়ের মানুষের আবাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৮০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে প্রো-পুওর স্লান ইন্টিগ্রেশন প্রজেক্ট নামে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পয়ঃনিষ্কাশনসহ পরিকল্পিত নগর উন্নয়নে এ মন্ত্রণালয় ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ৪টি লুপসহ কুড়িল ফাইওবার চালু করা হয়েছে। ৩০০ ফুট প্রশ্বস্ত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্বাচল লিংক রোড ও বালু নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। গুলশানে দুটি বেইজমেন্টসহ ১৫-তলা কার পার্কিং-কাম-অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ তৈরি এবং ঢাকা মহানগরীর একটি নতুন প্রবেশ পথ সৃষ্টির ল্েয প্রগতি সরণি থেকে বালু নদী পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় রেল লাইনের ওপর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মান করা হয়েছে। শান্তিনগর থেকে মতিঝিল প্রকল্প পর্যন্ত নতুন একটি ফাইওভার নির্মাণের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগুনবাড়ী খাল ও হাতিরঝিল উন্নয়নের ফলে বৃষ্টির পানি সংরণসহ ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এ প্রকল্পে মেইন ডাইভারসন স্যুয়ারেজ লাইন ও লোকাল ডাইভারসন স্যুয়ারেজ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও অন্যান্য নগরীর উন্নয়নকেও প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে বহদ্দারহাট ফাইওভার, দেওয়ানহাট ওভারপাস, ঢাকা ট্রাংক রোড, কাপাসগোলা রোড, পাঠানটুলি রোড, অক্সিজেন থেকে কোয়াইশ পর্যন্ত সড়কপথ, অলিখাঁ মসজিদ থেকে মুরাদপুর জংশন পর্যন্ত হাটহাজারী রোড, কালুরঘাট থেকে বহদ্দারহ্টা পর্যন্ত আরাকান রোড নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড, লুপ রোড, মুরাদপুর ২ নম্বর গেইট ও জিইসি জংশনে ফাইওভার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, রংপুরসহ দেশের বড় বড় শহরের উন্নয়নে গত ছয় বছরে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কুয়ালালামপুর সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূূত সামী ভেলু আমার সাথে সাাৎ করতে এলে আমি তাকে ঢাকার নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কামরাঙ্গীরচরে বহুতল আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের আহবান জানাই। তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ‘গত ছয় বছরে এ মন্ত্রণালয় যে সফলতা অর্জন করেছে তার দাবিদার আপনারা। আমাদের সরকার জনগণের সরকার। জনগণের কল্যাণের জন্যই আমার রাজনীতি। আজ বাংলাদেশ প্রতিটি সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রা করতে হবে। সরকার উন্নয়ন কাজের সফল বাস্তবায়ন আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব।’
এমকে





