হৃদরোগে আক্রান্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- দলটির নীতিনির্ধারক ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য দুই সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খান।

আজ (০৩ মার্চ) রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক হয়।  

বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সোয়া  ৮টার দিকে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এই তিন নেতা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে রওনা দেন।

উল্লেখ্য, নোয়াখালী-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

কাদেরকে দেখতে মাউন্ট এলিজাবেথ’র ৩ চিকিৎসক ঢাকায়

হৃদরোগে আক্রান্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় সিঙ্গাপুর থেকে ৩ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় পৌঁছেছেন।  

আজ (০৩ মার্চ) রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের এই ৩ চিকিৎসক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন বলে জানান সেতু বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা ওয়ালিদ ফায়েজ।  

তিনি আরও জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে বসে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটেই (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেমে রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে প্রবেশ করেন চিকিৎসকরা।  

এদিকে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ’র দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা না গেলে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছু বলাও যাবে না।

ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড আজ (০৩ মার্চ) সন্ধ্যায় জানায়, মাউন্ট এলিজাবেথের এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া সম্ভব না হলে তারা এখানেই চিকিৎসা দেবেন।

মেডিকেল বোর্ড আরও জানায়, ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয়। কিছুটা উন্নতি করলেও এখন শঙ্কা কাটেনি। এই অবস্থায় তাকে দেশের বাইরে নেয়ার পক্ষে নয় মেডিকেল বোর্ড।

ওবায়দুল কাদেরকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। হৃদযন্ত্রে পাওয়া তিনটি ব্লকের মধ্যে একটিতে স্টেন্ট (রিং) পরানোর পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

এইসব তথ্য জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিক মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক।

ডা. হারিসুল হক বলেন, সকাল থেকেই ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা এই ভালো এই মন্দ। উন্নতি-অবনতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।

ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতার খবর পেয়ে বিকেলে হাসপাতালে ছুটি যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন দলের শীর্ষনেতারা। 

উল্লেখ্য, ০৩ মার্চ (রোববার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

এমবি