তারেক রহমানের বইয়ে শুধু আওয়ামী লীগের জবাবই নয় ইতিহাস বিকৃতিকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম।

রোববার বিকালে তারেক রহমান সম্পাদিত 'জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক'বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এ প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে।

সরকারের সমালোচনা করে তরিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে চতুর্দিকে মিথ্যার বেসাতি চলছে। সরকার বল প্রয়োগ করে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করতে চাইছে। এজন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। তারেক রহমান এই বইয়ে ইতিহাসের সত্যটুকু তুলে ধরেছেন। জিয়াউর রহমানের সফলতা এবং শেখ মুজিবের ব্যার্থতাগুলো তুলে ধরেছেন। কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের সেই ব্যার্থতা মানতে নারাজ। তাই জিয়াউর রহমানকে তাদের সহ্য হয়না, তারেক রহমান ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে তাদের সহ্য হয়না।

তিনি নেতা কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে চান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান- তাহলে সমস্ত বিভাজন  ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দলকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। তবেই এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন নিশ্চিত করা যাবে। আর আগামী দিনে রাজপথের আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি বলেন, বইটি বিরুদ্ধবাদীদের জন্য চাবুকের ন্যায় কাজ করেছে। এর মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই বইটি অনেক প্রয়োজন ছিলো। সেই প্রয়োজনের তাগিদেই তারেক রহমান বইটি প্রকাশ করেছেন। ইতিহাসকে বিকৃত করা যায়, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না-এটা স্বঘোষিত । প্রধানমন্ত্রীকে তা বুঝতে হবে।

জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন তা নিয়ে আজকে বিতর্কের কিছু নেই। আমরা বিতর্কে যেতে চাই না। আমরা শেখ মুজিবকেও খাটো করতে চাই না। কিন্তু তারা যখন মৌলিক বিষয় অস্বীকার করে বসে তখন আর চুপ করে বসে থাকা যায় না।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত থাকতে কখনো নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করেননি। জিয়া পরিবার আজকে ৩জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জিয়া পরিবার আজ ৫৭ হাজার বর্গমাইল এলাকায় বিস্তৃত। যারা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী তারা সবাই জিয়া পরিবারের সদস্য। আর জিয়া পরিবারের সদস্য হয়ে থাকলে জিয়াউর রহমানের অবমাননা কেউ সহ্য করতে পারে না।

গণস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, যারা জিয়াউর রহমানের বিষদগার করে তারা মানসিক বিকারগ্রস্ত। শেখ মুজিব জীবিত থাকতে কখনো প্রথম প্রেসিডেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। কারণ শুধু শেখ মুজিবুর রহমানই না আওয়ামী লীগের নেতারাও ইতিহাসের সত্যটুকু জানত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানই দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট। এ কথা আজ প্রতিষ্ঠিত। সত্য ইতিহাস যত বিলম্বেই হোক প্রতিষ্ঠা পাবেই।

সুপ্রীমকোর্ট বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তারেক রহমান আমাদের দায় মুক্ত করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেভাবে বিকৃত হচ্ছিল তাতে এমন একটি দলীল দরকার ছিলো। এটা তার নিজের লেখা কোনো মৌলিক গ্রন্থ নয়। তিনি ইতিহাসের বিভিন্ন দলীল সংকলন করেছেন মাত্র। জিয়াউর রহমানের জীবনের খণ্ডিত অংশ মাত্র এ বইতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রফেসর ড. মাহবুবুল্লাহ বলেন, যে ইতিহাস নিয়ে আমরা আলোচনা করি সে ইতিহাসের অনেক অলিগলি পথ আছে। অনেক অজানা অধ্যায় থাকে। একদিন না একদিন এই সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই। প্রয়োজনে ১০০ বছর পরে হলেও হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির কর্মীদের আরও অনেক বেশি জানতে হবে। যারা রাজনীতি করেন তাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো ইতিহাসের আসল অধ্যায়টুকু জানা। নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করা।

নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক বলেন, দেশে হিটলারী শাসন চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রস্তুত থাকতে হবে। তবেই গুম খুন বন্ধ হবে। মনে রাখতে হবে হিটলারী করে কেউ বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে নাই।

তিনি জিয়াউর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে স্মৃতি চারণ করেন।

বাংলাদেশের প্রধান কবি আল মাহমুদ উপস্থিত থাকলেও অসুস্থতার জন্য বক্তব্য রাখেন নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি ইউসুফ হায়দার, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডা. ফরহাদ হোসেন ডোনার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ।

ঢাকা, এমএইচ, ১৫ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ