সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাটেক্সপো ২০২৬-এর রজতজয়ন্তী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাটেক্সপো দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন। বিশ্ববাজারে পোশাক খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায় এ ধরনের আয়োজনে বাংলাদেশের সক্ষমতা, স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বাটেক্সপোর উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের একটি রীতি ছিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় অর্থনীতি ও পোশাকশিল্পের স্বার্থে এ ধরনের অংশগ্রহণ ঐক্যের বার্তা দিত বলে তাঁর বক্তব্য।

মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, এবারের আয়োজনে সেই রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে একটি জাতীয় বাণিজ্যিক আয়োজনের দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র বদলে যাওয়া কাম্য নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক বিষয় নয়। এ শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক, বিদেশি ক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা যুক্ত। ফলে বাটেক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনকে জাতীয় স্বার্থ ও শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থের জায়গা থেকে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বর্তমানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ পরিস্থিতিতে বিভাজনের বদলে সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিজিএমইএর সাধারণ সদস্য ও পরিচালকদের মধ্যে বাটেক্সপোর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিকে কোনো ব্যক্তির বিরোধিতা হিসেবে না দেখে শিল্পের ঐতিহ্য ও দেশের ভাবমূর্তির প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বাটেক্সপোর আয়োজক বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতি অতীতের অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আয়োজনগুলোতেও রাজনৈতিক সৌজন্য, জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি বজায় রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থে এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা উচিত।

বাটেক্সপো ২০২৬-এর আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি এর সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন।

এস