বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ট্যাব বিতরণ ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান বলেন, এর আগে বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রিফাত তার সহযোগীদের নিয়ে তার বাবার প্রতিদ্বন্দী বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং খুনি ভাড়া করে। ঢাকার পল্টনে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়, ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। ওই ঘটনায় তিনি যদি মারা যেতেন তবে এর দ্বায় দেওয়া হতো আমার ওপর। মানে এখানে বিএনপির ওই নেতা এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের পরিকল্পনা করেছিলেন। গতকাল ওই মামলায় পুলিশ তার ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলরসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে বিএনপি নারায়ণগঞ্জে একাধিক প্রোগ্রাম করেছে আমরা কোথাও বাধা দেইনি। চাষাঢ়ায় বড় সমাবেশের আয়োজন হলো। যিনি মূল খেলোয়াড় তিনি ওমরায় গিয়েছিলেন। সেখানেও হামলার পরিকল্পনা ছিল, খবর পেয়ে আমি সংসদ থেকে চলে আসি এবং চাষাঢ়ায় অবস্থান নিই, যেন নাশকতা না হয়। আমার উপস্থিতি টের পেয় সেদিন তড়িঘড়ি করে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। কারণ আমরা হামলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ যদি চায় এবং জনগণ যদি আমাদের চায় তবে ক্ষমতায় আসবো, নয়তো না।
বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছিল, আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেইনি। আপনারা কী করছেন এবং কী করতে চাচ্ছেন তার খবর সরকারও যেমন রাখে ঠিক শামীম ওসমানও তেমন রাখে। তাই সাবধান হোন, ভবিষ্যতে আর ছাড় দেওয়া হবে না। রাজনীতি করেন, আমাকে গালি দেন, কোনো আপত্তি নাই, কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না। নারায়ণগঞ্জে খুবই বাজে ধরনের খেলার চেষ্টা চলছে। এখানে আমাদের ভেতরের কেউ জড়িত থাকলেও থাকতে পারে, যাদের ওই নেতাদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা অনেকগুলো প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এই প্রজেক্টগুলো হয়ে গেলে তোমাদের আর ঢাকায় যেতে হবে না। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর রোড হবে এই লিংক রোড। ঈদের পর এই রোডের কাজ শেষ হবে। এই রাস্তার পাশেই বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এই রোডের পাশেই আমরা পাঁচ শ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ করবো। এর অপর পাশেই আমরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট করবো। এর পাশেই শেখ কামাল আইটি ইনস্টিটিউট হবে।
এবি





