বিদ্রোহের আগুনে পুড়ল সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের চাচাতো ভাই কিশোরগঞ্জ জেলা যুব কমান্ডের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটুর কপাল।
শনিবার অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শরীফের কাছে ১২ হাজার ৯৩০ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৬৭ ভোট এবং বিজয়ী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী পেয়েছেন ৬২ হাজার ৭৯৭ ভোট।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তিনি। সংগঠিত আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়ার পরও অসংগঠিত বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যেতে হয়েছে তাকে। কারণ অসংগঠিত বহুধা বিভক্ত বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও মূলধারার সব শ্রেণীর নেতাকর্মীরা দল সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছে।
অপরদিকে সংগঠিত আওয়ামী লীগের মূলধারার নেতাকর্মীরা দল সমর্থিত প্রার্থীর সঙ্গে অনেকটা প্রতীকী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে বিনিদ্র রজনী প্রচারণা চালিয়েছেন।
অথচ কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে তার চাচাতো ভাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একাধারে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারই আসনের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ পরাজয়কে মেনে নিতে পারছে না অনেকেই। এ ব্যাপারে কথা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের বেশ ক’জন নেতা অবশ্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
শনিবার অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দু’জন এবং বিএনপির একজন বিদ্রোহী প্রার্থী অংশ নেয়।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু (কাপ-পিরিচ) প্রতীক নিয়ে ৪৯ হাজার ৮৬৭ ভোট, বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আনোয়ার কামাল (দোয়াত কলম) প্রতীক নিয়ে ৯ হাজার ৯৯৪ ভোট এবং অপর আওয়ামী লীগ নেতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মফিজ উদ্দিন (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে ৫ হাজার ৩২১ ভোট পেয়েছেন।              
[b]ঢাকা, ১৭ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // ইএইচ [/b]