চলতি বছরের ৭ মার্চ জন্ম নিয়েছে অদ্ভুত আকৃতির একটি শিশু। নাম মোহাম্মদ আলী। এ শিশুর শরীরের সাথে আরেকটি শিশুর অর্ধেক দেহ যুক্ত হয়ে আছে। যে অর্ধেক যুক্ত হয়ে আছে এটা আরেকটি শিশু মনে হলেও এর মাথা, বুক ও দু’হাত নেই। এটা শিশুটির দেহের সাথে আটকে আছে। অনেকটা পরজীবীর মতো।

বঙ্গবন্ধূ শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিশু সার্জরি বিভাগে শিশু ভর্তি আছে গত ১০ মার্চ থেকে। শিশুটির মা পরিমনি এর আগে তিনটি সুস্থ শিশু জন্ম দিলেও এবারের এ অদ্ভূত শিশুটিকে তিনি পড়েছিলেন বেশ বিপাকে। কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। বাগেরহাট জেলার মো: জাকারিয়া শিশুটির পিতা।

শিশুটির জন্মের তিন দিনের মাথায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রুহুল আমিন বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘প্যারাসাইটিক টুইন’ বলে। অপূর্ণাঙ্গ শিশুটির একটি কিডনী, মূত্রাশয় ও পুংলিঙ্গ রয়েছে- যা দিয়ে সে নিয়মিত প্রসাব করছে।

অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, অপূর্ণাঙ্গ যমজ শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অপূর্ণাঙ্গ শিশুটি সংযুক্ত আছে পূর্ণাঙ্গ শিশুটির পেটের ডান দিকে। অপূর্ণাঙ্গ শিশুটির পিঠের হাড় পূর্ণাঙ্গ শিশুটির বুকের হাড়ের সাথে মিশানো আছে। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ শিশুটির নাভিও অসম্পূর্ণ যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় এক্সমফালোস (Exomphalos)। এর ভেতরের যকৃৎ ও খাদ্যনালী রয়েছে একটি পর্দা দিয়ে ঢাকা অবস্থায়। এটাকেও একটি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে নাভির অসম্পূর্ণতা ঠিক করে দিতে হবে।

তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে শিশু দু’টিকে আলাদা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ শিশুটিকে অপূর্ণাঙ্গ শিশু থেকে আলাদা করার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ শিশুটির নাভির অপূর্ণতাও ঠিক করে দেয়া হবে। এ জটিল অপারেশনে সহযোগিতায় থাকবেন এ্যানালজেশিয়া, এ্যানেসথেশিয়া এ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ এবং নবজাতক বিভাগের সম্মানিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। শিশুটির চিকিৎসার ব্যয় এ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো: কামরুল হাসান খান সম্মতি দিয়েছেন।

গত ২০০৮ সালে বহুল আলোচিত বন্যা ও বর্ষাকে মাত্র তিন মাস বয়সে এ শিশু সার্জারি বিভাগে দীর্ঘ ৮ ঘন্টাব্যাপি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করা হয়েছিল। তবে বর্ষার হৃদযন্ত্র বন্যার উপরে নির্ভরশীল ছিল। আলাদা করার পর বর্ষাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বন্যা গত ২৪ মার্চ আট বছর পূর্ণ করেছে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু সার্জারি বিভাগে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আরও একটি শিশুর পেটের ভেতর থেকে তিনটি অসম্পূর্ণ শিশু বা প্যারাসাইটিক ট্রিপলেট (Parasitic Triplet ) বের করে আনা হয়।

এমআইএস