বিএনপির সঙ্গে সংলাপ ও নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের মূল আসামি নূর হোসেনের গ্রেফতার নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগে। এ ব্যাপারে দলের শীর্ষ নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন মত। ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারক নেতাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের মূল আসামি নূর হোসেনের গ্রেফতারের বিষয় ভিন্ন মত দিয়েছেন।

সোমবার (১৬ জুন) সকালে ‘জাতীয় ফল প্রদর্শণী-২০১৪’ ও ‘ফলজ বৃক্ষরোপন পক্ষ’ উদ্বোধনের সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের মূল আসামি নুর হোসেন গ্রেফতারের বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না। সরকার যতটুকু জেনেছে, পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছে। 

অন্যদিকে একই দিন দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউটের হলরুমে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত এক আলোচান সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, সরকারের যোগসাজসে ভারত সরকার নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের মূল আসামি নূর হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে আমাদের সরকারের ঐকান্তিক চেষ্টায় ভারত পুলিশ নূর হোসেনকে গ্রেফতার করতে সফল হয়েছে।

এদিকে গত ৯ জুন (সোমবার) বিএনপির সঙ্গে সংলাপের বিষয়েও ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ও দলের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরস্পরবিরোধী মত দিয়েছেন।

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি দেশে সঙ্কট তৈরী করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ আলোচনায় বিশ্বাসী। সংবিধান মেনে যে কোনো স্থানে সংলাপ হতে পারে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় উপ-কমিটির বৈঠক শেষে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বাংলাদেশে আলোচনা করার মতো কোনো সঙ্কট তৈরি হয়নি। বিদেশি বন্ধুদের বলব, আমাদের দেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করলে দেশের মানুষ শান্তি পাবে।

অপরদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশরত্ন সেবক পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে নয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৯ সালের আগে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনার প্রশ্নই আসে না।

এর আগে ৮ জুন (রোববার) ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে খালেদা জিয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যে কোনো সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে মত দেন। এর পরদিন সোমবার পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতারা এসব মত দেন।

ঢাকা, এমআর, ১৬ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর