ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম ফরজ ইবাদাত হলো হজ্জ। পরিবারের ভরণ পোষণ ও হজ্জের খরচাবলী মিটিয়ে বাড়ী ফেরা পর্যন্ত টাকা পয়সা কারো কাছে মজুদ থাকলে তার উপর হজ্জ ফরজ হয়ে থাকে।

আনুমানিক ৬/৭ লাখ টাকা কারো সঞ্চয়ে থাকলে তার জন্য হাজ্জ ফরজ হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ টাকা পেলে প্রথমে বিয়ে করে, তারপর বাড়ী বানায়, জমি ক্রয় করে, ফ্লাট কিনে, ফিক্স ডিপোজিট করে, লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করে, নব বধুকে নিয়ে হানিমুনে লক্ষ টাকা ব্যয় করে থাকে।

আর মনে করে বয়স বাড়লে হজ্জ করবে। অথচ হজ্জ হচ্ছে ইসলাম ধর্মের অন্যতম একটি ফরজ ইবাদাত। ফরজ হলেই পালন করতে হবে।

আবার অনেকে বলে জীবনকে ভালো ভাবে উপভোগ করে শেষ জীবনে হজ্জ করে নেব, সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। যদিও এরকম মনগড়া কথার কোন ভিত্তি নেই।

বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকই তাদের চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করার পর বা বৃদ্ধ বয়সে হজ্জ করে থাকেন।

ধর্মমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে হজ মিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হজ মৌসুমে বাংলাদেশী হাজি মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৭৩জন। এর মধ্যে মক্কায় ১১৯ জন, মদিনায় ২৯ জন, জেদ্দায় সাতজন ও মিনায় ১৮ জন (পুরুষ ১৫৩ জন, মহিলা ২০ জন) রয়েছেন।

২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, হজ করতে এসে মৃত্যু বরণ করেছেন মোট ১৮ জন হজ যাত্রী।হজ যাত্রীদের সবাই হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান বলে জানিয়েছেন মক্কা হজ মিশন সূত্র।

এ ১৮ জনের মধ্যে, মক্কায় ১১ জন, মদিনায় পাঁচজন ও জেদ্দায় দুইজন । এদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, তিনজন নারী রয়েছেন।

মক্কা হজ্জ মিশন সূত্রে আরো জানা যায়, হজ্জ গমনকারী প্রত্যকেই হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।

১৯১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানা যায়, পবিত্র হজ্জ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশী ২৯ হাজী ইন্তেকাল করেছেন।

তাদের মধ্য মক্কায় ২২ জন এবং মদিনায় ৭ জন ইন্তেকাল করেছেন। এর মধ্যে ২৩ জন পুরুষ আর ৬ জন নারী। নিহতেরা বেশির ভাগ বার্ধক্য জনিত ও হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ৫৮ হাজার ৩৬৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৫৫ হাজার ৯৯৪ জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার দুই হাজার ৩৭১ জন রয়েছেন।

ধর্মমন্ত্রণালয়ের এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বয়সের দিক থেকে যাদের বয়স ৪০ বছরের চেয়ে বেশি তারা হলেন শতকরা ৫১ জন এবং যারা ৪০ বছরের চেয়ে কম তারা হলেন মাত্র শতকরা ১৫ জন।

অথচ এ বয়স হজ্জ পালনের জন্য অত্যান্ত নিরাপদ। কারন এ বয়সে ব্যক্তিগণ সুঠাম ও বলিষ্ঠ দেহের হয়ে থাকে। শুধু হজ্জ নয় এ বয়সে যে কোন ইবাদত পালন করা হলে তা মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা যায়।

অপরপক্ষে যাদের বয়স ৬০ বছরের চেয়ে বেশি তারা হলেন শতকরা ৩৪ জন। অথচ এ বয়সে হজ্জ করা দূরে থাক দেশের মধ্যে অন্য কোন স্থানে যাতায়াত করা তার জন্য খুবেই কষ্টকর।

তারপরে হজ্জ পালন করতে সৌদিতে যাওয়া তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ এ ষাটোর্ধ্বো বয়সেই আমাদের দেশের হাজীরা হজ্জ পালন করতে বেশি আগ্রহ।

আবার অনেক বৃদ্ধরা মনে করেন শেষ বয়সে হজ্জ করতে গিয়ে যদি মারা যাই তাহলে আমি জান্নাতে যেতে পারবো। এ ভেবে অনেক বৃদ্ধরা অক্ষম হওয়া শর্তেও তারা হজ্জ পালন করতে সৌদিতে যান।

২০১৫ সালে সর্বশেষে ১১ সেপ্টেম্বর ভারি বর্ষণে সৌদি আরবের মক্কায় মসজিদে হারামের ক্রেন ছিঁড়ে অন্তত ১০৭ জন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ শতাধিক। আহতদের মধ্যে ৪০জন বাংলাদেশি যার মধ্যে ৩জন আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবে বাংলাদেশি দুতবাস কর্মকর্তা।

আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৩জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনই শরিয়তপুর জেলার বলে জানা গেছে।

সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে দিয়েছ আলজাজিরা জানিয়েছেন।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট মাসে সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে ৩ জন নারীসহ ১৬ বাংলাদেশি মারা গেছেন। এদের অধিকাংশই বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

এ ১৬ জনের মধ্য মদিনায় মোঃ আফজাল হোসেন নামে বাংলাদেশী এক হজ্জ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ২৬ আগষ্ট ভোর সাড়ে তিনটায় মদীনার কিং ফাহাদ হসপিটালে বার্ধক্য জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। আফজাল নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার উকিল পাড়া গ্রামের আছমত আলীর ছেলে।

গুরুত্বপূর্ণ এ বিধান পালনে গড়িমসি বা বিলম্বতা আমাদেরকে মহান আল্লাহর নৈকট্য থেকে দীর্ঘদিন দূরে রাখে। আবার যারা দুনিয়াবী কোন পদ পদবী লাভের আশায় হজ্জ করে থাকেন তারাও মারাত্নক ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত আছেন। তাই বেশি বয়সে নয় বরং সমর্থ হলেই হজ্জ পালন করা উচিত।

এসএইচ