তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোন আন্দোলনের মুখে পিছু হটবে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বরং ক্ষমতায় থেকে বিরোধী জোটের সকল আন্দোলন বা 'ধ্বংসাত্ম' কর্মসূচি মোকাবেলা করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মহাজোট সরকার ও তার দল।

১৪ দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দেশের চলমান সঙ্কট দূরীকরণে সংলাপ বা মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাবে না মহাজোট সরকার। ১৪ দল ও সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে বিরোধী দলের সকল আন্দোলন মোকাবেলা করে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে-এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে দেশের সকল শ্রেণীপেশা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হবে। যাতে করে বিরোধী জোট কোন ধরণের তান্ডব চালাতে না পারে। পশাপাশি সহিংসতা রোধে আইনশৃঙ্খলাবাহীনিকেও যতটা সম্ভব কঠোর হওয়ার দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রসাশনকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে মাঠে থাকবেন ১৪ দলের নেতাকর্মীরাও।

এদিকে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সন্ত্রাস মোকাবেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ১৪ দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আগামী কয়েক মাস মাঠে সরব থাকবে। বিরোধী জোটের যে কোন নীল নকশা ঠেকাতে ১৪ দল প্রস্তুত বলে ১৪ দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে গণমিছিল। শুক্রবার বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ-এর (বঙ্গবন্ধু স্কয়ার) সামনে থেকে শুরু হয়ে গণমিছিলটি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়াও সারাদেশে গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা, বিভাগীয় শহরে একযোগে বিকাল ৪টায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার প্রথম প্রহরে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় রাজশাহীর কাটাখালীতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। 

এছাড়াও ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকাল ৩টায় ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত বংশালে গণতন্ত্রী পার্টির উদ্যোগে ১৪ দলের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এসব কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে বেশ তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় নির্দেশনা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে গণমিছিল সফল করতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আওয়ামী লীগের সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতীম ও ঢাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দল।

এছাড়াও শুক্রবারের গণমিছিলে লোক সমাগম ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ একটি বর্ধিত সভা করেছে।

তাছাড়া দেশের চলমান সংঙ্কট নিরসনে সুশীল সমাজ সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যদিকে জতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দুই নেত্রীকে (শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া) সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। এছাড়াও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানববধিকার সংগঠনসহ অনেকে সমঝোতার আহবান জানাচ্ছেন। বিএনপি এসব উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সরকার ও তার দল এসব আহবানকে পওাই দিচ্ছে না।

জতিসংঘের মহাসচিবের চিঠির আহবানে সাড়া দিয়ে ক্ষমতাসীনরা সংলাপে বসবে কি না? বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অনেকে অনেকভাবে আশা প্রকাশ করতে পারে। আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল। যারা দানবের মত মানুষের ওপর হামলা করে তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। সংলাপের প্রশ্নই আসে না।

সারাদেশে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে সাধারণ মানুষও হত্যা হচ্ছে’এ বিষয়ে ১৪ দলের অবস্থান কি ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ব্যবস্থা নেবেই। তারা আগে থেকেই বলে আসছে আক্রান্ত হলে গুলি করবে।’

এদিকে ক্ষমতাসীনরা দাবি করছেন- দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপিকে নির্বাচনের আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি সংলাপ ও সমঝোতার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে ফোন করেছেন, কিন্তু তিনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচনে আসেননি। সংবিধান অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। আবার ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। এর আগে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে নির্বাচন ঠেকাতে সারাদেশে সন্ত্রাস চালিয়েছে বিএনপি। আবার সরকার এক বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিএনপি আবার আন্দোলনের নামে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে নাশকতা চালাচ্ছে। যা অসনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। এদের নৈরাজ্য আর সহ্য করা হবে না। দেশের সকল শ্রেনী-পেষার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এদেরকে প্রতিরোধ করবো।

১৪ দলের এক নেতা জানান, চলমান আন্দোলনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পর্যায়ক্রমে আরও কিছু কৌশল ব্যবহার করা হবে। তবে এসব কৌশল কী ধরনের হবে দলের স্বার্থে তা প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাত রাস্তা মোড়ে ঢাকা জেলা মটর মেকানিক ইউনিয়নের হরতাল-অবরোধ বিরোধী এক প্রতিবাদ সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি হরতাল-অবরোধের নামে সন্ত্রাস করে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের সাথে কোন সংলাপ হয় না। তাই বিএনপির সাথেও কোন সংলাপ হবে না। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই এই এদের নির্মূল করা হবে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একাত্তরে আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। সেই পাকিস্তানি দানব হিসেবে খালেদা জিয়া বাংলাদেশে আর্বিভূত হয়েছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) দেশের নারী, পুরুষ, শিশু, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করছেন।

তিনি আরও বলেন, দানবের বিরুদ্ধে জনগণের শক্তি সব সময় ঐক্যবদ্ধ ছিল। এখনও আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। এই দানবীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানবতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি মাঠে নেমেছে। জনগণের শক্তি নিয়েই এদের মোকাবেলা করবো। এদের সঙ্গে সংলাপ হবে না।

এমআর, জেএ