ইসরাইলি দখলদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ চুরি করছে যায়নবাদী ইহুদি শক্তি।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত এমন অভিযোগ এনে বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের যেসব অঞ্চলে ইসরাইলি শক্তি জবরদখল কায়েম করেছে সেখানে যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কর্তন করে তা চুরি করছে দখলদার ইহুদিবাদীরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর ২০১৫) জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে লেখা এক চিঠিতে এমন অভিযোগ করেন সংস্থাটিতে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর।

চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইলি দখলদারদের হাতে যেসব ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন তাদের দেহ নিজ দেশে ফেরত দেয়ার সময় দেখা গেছে কর্নিয়াসহ দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নেই।

মানুষের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি করার যে অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা মহল থেকে বলা হচ্ছিল, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের অভিযোগের মধ্য দিয়ে তা আবারও জনসম্মুখে আসলো।

জাতিসংঘ মহাসচিবকে দেয়া চিঠিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত লিখেছেন, দখলদার ইহুদিদের হাতে নিহত যেসব ফিলিস্তিনির দেহ ফেরত দেয়া হয়েছে সেগুলোর ওপর পরিচালিত এক মেডিকেল পরীক্ষায় দেখা গেছে ওইসব মৃতদেহে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই।

রাষ্ট্রদূত মানসুর বিগত (অক্টোবর ২০১৫) মাসে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ করে চিঠিতে আরও অভিযোগ করেন, ইসরাইল ক্রমাগতভাবে সন্ত্রাসীমূলক শক্তি প্রয়োগ করছে এবং জুলুম-নিপীড়ন চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানব অঙ্গ চুরির প্রথম প্রতিবেদনটি ছাপা হয় ২০০৯ সালে। কানাডার সবচেয়ে বেশি পঠিত দৈনিক পত্রিকা “আফতোনব্লাদেত (Aftonbladet)” এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

এমনকি মানব অঙ্গ পাচার চক্রের ইসরাইলি সদস্যরা যে বিপুল অংকের অর্থ কামাচ্ছে- এ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আমেরিকার প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক “দি নিউইয়র্ক টাইমস (The New York Times)। গত (২০১৪) বছরের ১৭ই আগস্ট এ প্রতিবদনটি প্রকাশিত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে ২০০০ সাল থেকে মানব অঙ্গ পাচারের যেসব বড় বড় ঘটনা ঘটেছে তার ওপর গবেষণা চালিয়ে বলা হয়, মানব অঙ্গ পাচারের সাথে ইসরাইল অস্বাভাবিক উচ্চ মাত্রায় জড়িত।

এদিকে, ইসরাইলি দখলকৃত যেসব সংঘাতময় এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চুরি হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত মানসুর উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সেসব অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রুপ নিয়েছে।

বিশেষ করে গত আগস্টে (২০১৫) জেরুজালেমের পূর্ব-আল-কুদুস অঞ্চলে আল-আকসা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। আর পরবর্তীতে তা ভয়াবহ রুপ ধারন করে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্র্রনালয়ের সবশেষ দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত অক্টোবর (২০১৫)-এর শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর হাতে অন্তত ৭৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন। আর এ সময় ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের মুখে অন্তত ১১ ইসরাইলি নিহত হন।

সংঘাতের সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ইসরাইলি দখলদারদের হাতে নিহত হওয়ার পর অনেক দিন কেটে গেলেই কেবল ফিলিস্তিনিদের লাশ স্বজনদের কাছে ফেরত দেয়া হয়। আর এ সময়ের মধ্যেই তাদের দেহ থেকে গুরুত্বপুর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে চুরি করা হয়।

আমেরিকায় ইসরাইলের সমর্থনে ধ্বস

এদিকে, লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী উইলিয়াম স্প্রিং বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০১৫) ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ইসরাইলের এসব কর্মকান্ড দেশটিকে আমেরিকায় তাদের সমর্থকদের নিকট ভয়াবহ (terrible) হিসেবে তুলে ধরছে।

আমেরিকায় ইসরাইলের দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকতাকে “খ্রিস্টান-ইহুদি (Christian-Zionists)” দোসরতা হিসেবে আখ্যায়িত করে মানবাধিকার কর্মী উইলিয়াম স্প্রিং আরও বলেন, ইসরাইলি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষায় আমেরিকানদের মধ্যে যতই আগ্রহ থাকুক না কেন দেশটির মানব অঙ্গ চুরির মতো এমন অমানবিক কর্মকান্ডকে কখনই মার্কিনিরা ভালো চোখে দেখছে না।

উইলিয়াম স্প্রিং বলেন, অদূর ভবিষ্যতে “খ্রিস্টান-ইহুদি” দোসরতা যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ইসরাইলকে বর্তমান পর্যায়ে তুলে আনতে যেই আমেরিকানরা এতদিন একচেটিয়া কাজ করেছেন তারা তাদের অন্ধ সমর্থন যে আর বেশিদিন বজায় রাখবেন না- সে বিষয়টি আমি খুব স্পষ্টভাবেই উপলব্ধি করতে পারছি। (সূত্র: প্রেসটিভি, আল-জাজিরা, নিউইয়র্ক টাইমস ও ইন্টারনেট)

কেবি