ঢাকা শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ২০১৬ সালে ঢাক-ডোল বাজিয়ে দুই সিটি করপোরেশন প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যায়ে চালু করলো মিনি ডাস্টবিন নামক প্রকল্প। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের সঠিক তদারকির অভাবে ও জনসাধারণের অসচেতনতার কারণে এ প্রকল্পটি এখন অনেকটাই ভেস্তে যেতে বসেছে।
দুই সিটি করপোরেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ডাস্টবিনই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু ডাস্টবিন চুরি হয়ে গেছে, কোথাও ডাস্টবিনের বক্স ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আবার কোথাও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা জমে তা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কোথায় ডাস্টবিন নেই, কোথায় ডাস্টবিন চুরি হয়ে গেছে। আবার কোথাও রাস্তার পাশের ডাস্টবিনগুলো পরিষ্কার পরিছন্ন না করায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক ডাস্টবিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা দোকানের সামনে বসানোয় তারা সুকৌশলে সেটি ব্যবহার অনুপযোগী করে রেখেছে। কেউ বা ডাস্টবিন উল্টো করে রেখেছে। অথচ এই মিনি ডাস্টবিনগুলো বসানো হয়েছিলো ঢাকাকে পরিপাটি করে রাখার জন্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুর রহমান শাকিল টাইমনিউজকে বলেন, ‘ডাস্টবিন বসানোর উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। কিন্তু এগুলো দেখাশোনা করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকা গচ্ছা গেল। প্রকল্পের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার যে কৌশল তারা শিখেছে তা রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর-১ নম্বরের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান টাইমনিউজকে বলেন, ডাস্টবিন রক্ষণাবেক্ষণে যেমন কর্তৃপক্ষের সচেতনতা প্রয়োজন। ঠিক তেমনি এটা ব্যবহারেও সাধারণ মানুষদের সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ অনেকে ডাস্টবিনে ময়লা না ফেলে তার আশেপাশে ফেলে রাখে। যেটা পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, দুই সিটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০ হাজার ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ডাস্টবিন। ছোট ডাস্টবিন প্রতিটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা এবং বড় ডাস্টবিন তৈরিতে খরচ ১২ হাজার টাকা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, ডিএসসিসি এলাকায় ২২০টি বিন চুরি হয়েছে। ৭০০টি বিন নষ্ট বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ডাস্টবিন ব্যবহার হচ্ছে না। বাকিগুলো ঠিকঠাক চলছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ৫০০ থেকে ৭০০ ডাস্টবিন নষ্ট হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। অনেক জায়গায়, বিশেষ করে যেসব এলাকায় রাতের বেলায় জনসমাগম কম সেসব এলাকার ডাস্টবিনের ঢাকনা চুরির ঘটনা ঘটছে। টোকাই শিশুরা এ রকম করছে। আমরা বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারের অনেক টাকা নষ্ট হচ্ছে। শুধু প্রকল্প হলেই হবে না তা মানুষের কতটুকু কাজে লাগে সেই দিকে নজর দিতে হবে।তা না হলে জনগণ সুফল পাবে না। আর ফল ভোগ করবে কিছু অসাধু সুবিধাভোগীরা ।
এসএম





