সত্তর দশকের দুই জোড়া হরিণের বংশ আজ প্রায় ৩০ হাজার হরিনের আবাস নিঝুমদ্বীপ। কিন্তু অবৈধ হরিণ শিকারি চক্র ও ঘূর্ণিঝড় কোমেনসহ প্রতিনিয়তই ঝড় জলোচ্ছ্বাসের হুমকির মুখে নিঝুমদ্বীপের হরিণরা।
জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অধিক জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে বিস্তৃীর্ণ এলাকা। এতে নিঝুমদ্বীপের প্রায় ৩০ হাজার চিত্রা হরিণের আশ্রয় ও খাদ্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। হরিণের খাদ্য সংকট দূর করার লক্ষ্যে যে নতুন বনায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা জোয়ারে ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
নিঝুমদ্বীপের অরক্ষিত হরিণের খাদ্য নিশ্চয়তা ও যোগান অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বেশি জোয়ারের ফলে হরিণ উচু স্থানে আশ্রয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে। আর এসময় হরিণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিঝুমদ্বীপের সংরক্ষিত বনের ভিতরে মাটির কিল্লা নির্মাণ ও নির্মিত কিল্লা বিশেষ ধরণের গাছ দিয়ে আবৃত করা হলে জলোচ্ছ্বাস থেকে হরিণ রক্ষা করা সম্ভব বলে স্থানীয়দের ধারণা। কিল্লা তৈরি কাজে যে পুকুর হবে তাতে মিঠা পানির সঙ্কটও সমাধান সম্ভব হবে। জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনের কোনো প্রকার গাছ কাটা ছাড়া ৫০টির বেশি কিল্লা নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকার নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নিঝুমদ্বীপের জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনায়নের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় কোনো প্রকার প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে না। স্থানীয় ভাবে জানা যায় দেশী বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির হাত থেকে জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করার কোটি কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলেও তা চোখে পড়েনি নিঝুমদ্বীপের জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে।
নিঝুমদ্বীপে জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র বিশেষ করে চিত্রা হরিণ রক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদি ও স্থানীয় সমন্বিত কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচী গ্রহণ একান্ত জরুরি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
ইআর





