কুষ্টিয়ায় বোর ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণে ভরে উঠছে ফসলের ক্ষেত। আর কদিন পরেই শুরু হবে ধান কাটা, মাড়াই আর ঘরে তোলার মহোৎসব। কৃষকের ঘরে ঘরে শুরু হবে ধান তোলার পালা। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সোনালী কাঁচা-পাকা ধানের ফসলি খেত যেন দিগন্ত ছূঁয়ে গেছে। সোনালী শীষের ঝলকানিতে মাতোয়ারা কৃষক।
জেলার মাঠে মাঠে এখন সোনালী ধান। পাকা, আধাপাকা ধান মাঠ জুড়ে। ধান দেখে কৃষকের মন আনন্দে উদ্বেলিত। ইতিমধ্যে জেলার কিছু স্থানে ধান কাটা শুরু হয়েছে। গোলায় ধান উঠছে। তাই কৃষকদের মনে মহা আনন্দ। এ আনন্দের যেন শেষ নেই।
গ্রামের কিষাণ-কিষাণীদের এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। তাদের হাতে সময় নেই। জেলার বিভিন্ন স্থানে এখনিই ধান কাটার ধুম পড়েছে। কৃষকরা ধান কাটা আর মাড়াই দিতে ব্যস্ত। কৃষকদের এ যেন এক মহোৎসব। তবে জেলার ৩টি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানায়, এবার বোর ধানের ভাল ফলন হয়েছে। তবে বৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কোন কোন এলাকায় ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, এবার জেলার ৬টি উপজেলায় ৭৫ হাজার ৮৪ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও আবাদ হয়েছে ৮০ হাজার ১১৫ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোর ধানের খুব ভালো আবাদ হয়েছে।
সুলতানপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, এবার ধানের ফলন ভাল হলেও চৈত্রের খরায় এবং বৈশাখীর শিলাবৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। সবেমাত্র ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে আবহাওয়ার ঠিক ঠিকানা না থাকায় ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত দুশ্চিন্তা থেকে যায়।
জেলার ছাতিয়ান গ্রামের কৃষক কবিরুল ইসলাম জানান, এবার ধানের ফলন ভাল হলেও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে। ধান কাটা শুরু হলেও এখনও মনে আতংক কাজ করছে। আবহাওয়ার গতি প্রকৃতি বুঝা যাচ্ছে না। কখন কি হয়।
কুমারখালি এলাকার কৃষক সবুর উদ্দিন বলেন, আমাদের মাথায় হাত। ধান কাটার আনন্দ নেই। সব আনন্দ বেদনায় মিলিয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের শিলাবৃষ্টিতে অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও কিছু ধান কাটছি। খোরাকী না হলেও ধার দেনা মিটাতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস জানান, এবার বোর ধান ভালো হয়েছে। তবে কয়েক দফা কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা ধান কাটছেন। এবার ধানের ফলনও ভাল হয়েছে।
মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, খেতে দোল খাচ্ছে কৃষকের দিগন্ত ভরা বোর ধানের খেত। অনেক খেতের ধানের শীষ ইতিমধ্যে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে। বাকিগুলো ধীরে ধীরে সোনালী হয়ে উঠছে।
এমকে





