সিরিয়া ইস্যুতে বর্তমানে আমেরিকা ও রাশিয়া মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সিরিয়ায় রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ্টোন কার্টার বলেছেন, রাশিয়াকে শিগগিরি এর মূল্য দিতে হবে। মার্কিন বহু কর্মকর্তা এবং সিনেটরও রুশ অভিযানের বিরোধিতা করেছেন। রিপাবলিকান অনেক প্রভাবশালী সিনেটর বলছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে হবে। সর্বশেষ খবর হচ্ছে- ইরাকে রুশ সামরিক বিমান ভূপাতিত করতে ব্রিটিশ সরকার তার রয়্যাল এয়ার ফোর্সকে অনুমতি দিয়েছে বলে ব্রিটেনের গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। এ খবরের ব্যাখ্যা চাইতে মস্কোয় নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে রুশ সরকার।

এসব নানা ঘটনার প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে। এ অবস্থায় অনেকে হিসাব করতে শুরু করেছেন, যদি যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে কে জিতবে? রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে কার সামরিক শক্তি বেশি- সে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাশিয়া ও আমেরিকার সামরিক শক্তির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি এ নিবন্ধে।

বর্তমান বিশ্বে মার্কিন সামরিক শক্তি সবাইকে ছাড়িয়ে। তবে যুদ্ধে পরমাণু বোমা যদি শক্তির বড় মাপকাঠি হয়ে থাকে তাহলে তাতে রাশিয়া এগিয়ে। রাশিয়া “জার বোম্বা”নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা করেছে। ১৯৫৩ সালে এটি তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ায় তৈরি করা হয়। জার বোম্বাকে সকল বোমার জনক বলে ঘোষণা করা হয়। বিশিষ্ট সোভিয়েত পরমাণু বিজ্ঞানী আন্দ্রে শাখারভ এ হাইড্রোজেন বোমার জনক হিসেবে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। নোভেয়া জেমলিয়া দ্বীপপুঞ্জে ১৯৬১ সালে ৩০ অক্টোবর এ বোমার সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। বিস্ফোরণের ফলে বোমা থেকে নির্গত হয় ৫৬ মেগাটন টিএনটি শক্তি। বিস্ফোরণের পর মাশরুম আকৃতির বিরাট কৃত্রিম মেঘমালা ১৬০ কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যায়। এছাড়া, ৫৬ কিলোমিটার ওপরের উঠেছিল সে মেঘমালা। প্রকৃতপক্ষে বোমার নকশা তৈরী করা হয় ১০০ মেগাটনের উপযোগী করে কিন্তু বিস্ফোরণ উপযোগী পরিবেশ না থাকায় এবং কারিগরী ত্রুটির কারণে এর শক্তি ৫৬ মেগাটনে নামিয়ে আনা হয়। এর ধ্বংসক্ষমতা ছিল হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বর্ষণের তুলনায় প্রায় ১,৪০০ গুণ বেশি। এছাড়া, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত সকল ধরণের অস্ত্র ও বোমার ক্ষমতার চেয়ে দশ গুণ বেশি।

বিশেষভাবে তৈরী তুপোলভ টিইউ-৯৫ভি বিমানের সাহায্যে জার বোম্বাকে পরীক্ষাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানচালক ছিলেন আন্দ্রেই দুরনোভসেভ। কোলা উপদ্বীপ থেকে অন্য আরেকটি টিইউ-১৬পর্যবেক্ষক বিমানকে সাথে নিয়ে উড্ডয়ন করা হয়। টিইউ-১৬ পর্যবেক্ষক বিমানের কাজ ছিল বাতাসের নমুনা সংগ্রহসহ পরীক্ষার ভিডিও ধারণ করা।

২৭ টন ওজনবিশিষ্ট বোমাটি আট মিটার বা ২৬ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২ মিটার বা ৬.৬ ফুট ব্যাসার্ধ আকৃতির ছিল। এর বিপুল আয়তনের প্রেক্ষাপটে টিইউ-৯৫ভি বিমানের বে ডোর এবং জ্বালানী ট্যাঙ্ক অপসারণ করতে হয়। যখন বোমাটির বিস্ফোরণ হয় তখন এক কিলোমিটার সামনে চলা টিইউ-৯৫ভি বিমানে মৃদু ধাক্কা অনুভূত হয়।এ বোমার বিস্ফোরণের পর অগ্নিগোলক প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা গিয়েছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রের গ্রাউন্ড জিরো থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরবর্তী সেভার্নিগ্রামের কাঠ এবং ইট দিয়ে তৈরি সব ভবন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া, শত শত কিলোমিটার ব্যাসার্ধে কাঠের ঘর-বাড়িগুলোর দরজা-জানালা ধ্বংস হয়। বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রায় ৪০ মিনিট ব্যাঘাত ঘটে। একজন অংশগ্রহণকারী কালো চশমা পড়ে পরীক্ষা কার্য দেখেন। এর অতি উজ্জ্বল আলো ২৭০ কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যায়।

এমন শক্তিধর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায় ১৯৯১ সালে। তারপর এত দ্রুত রাশিয়া বিশ্ব অঙ্গনে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ক’জন তা ভেবেছিলেন? কিন্তু প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া আবার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। পুতিনের সুবিধা হচ্ছে- তার বিরুদ্ধে কোনো কমিউনিজম বা পুঁজিবাদের মতো কোনো মতবাদ লালনের অভিযোগ আপাতত কেউ তুলতে পারছেন না। বরং এ মুহূর্তে অনেকেই বিশ্ব রাজনীতির পাঠশালায় পুতিনকে ‘ত্রাতা’হিসেবে দেখছেন। অনেকেই আশায় বুক বেধেছেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বে যে এককেন্দ্রিক নির্যাতনমূলক ব্যবস্থা চালু করেছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা তার যাঁতাকল থেকে হয়ত মুক্তি পাওয়া যাবে পুতিনের নেতৃত্বে।

সম্ভবত পুতিনও বিশ্বের মুক্তিকামী জনতার ‘নাড়ি’বোঝেন। তিনি মনে হয় সিরিয়া দিয়েই তার মূল যাত্রা শুরু করেছেন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি সিরিয়ায় সামরিক অভিযানে নেমেছেন। আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিরিয়ার আকাশ ছাড়ার জন্য। সিরিয়ার মাটিতেই তিনি বেশ কিছু অস্ত্র, জঙ্গিবিমান ও সামরিক সরঞ্জামের পরীক্ষাও করে নিলেন ভালোভাবে। বহুদিন ধরে রাশিয়া সেভাবে যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতে নেই। সে ক্ষেত্রে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান মার্কিন বিরোধী অবস্থানে যেতে পুতিনের জন্য টনিকের মতো কাজ করবে বলে ধারণা করা যায়।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলেও পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া আবার নতুন করে সুপারপাওয়ারের আসনে বসতে চলেছে। অবস্থা যখন এমন, তখন সিরিয়ায় সামরিক সংঘাত শুরু। মুখোমুখি অবস্থানে আবার দুই বড় শক্তি। ঠিক এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাসীর মনে যেসব কথা উঁকি দিচ্ছে তা হচ্ছে- যদি দু দেশের মধ্যে যুদ্ধ লাগে তাহলে কে জিতবে, কার কী সামরিক অস্ত্র বা শক্তি আছে? এমন জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে এ লেখার প্রয়াস।

এ কথা বলতে দ্বিধা নেই সামরিক শক্তিতে এখনো এগিয়ে আমেরিকা। তবে সামরিক শক্তি কার কতটা আছে তার চেয়ে বরং যুদ্ধ জয়ের জন্য আরো কিছু ফ্যাক্টর কাজ করে। ফলে এ কথাও ঠিক, যুদ্ধজয় শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। এবার দেখে নেয়া যাক রাশিয়া ও আমেরিকার সামরিক শক্তির একটি তুলনামূলক চিত্র।

জনশক্তি: রাশিয়ার চেয়ে আমেরিকার মোট জনসংখ্যা দ্গিুণেরও বেশি। সে কারণে সামরিক প্রয়োজনের মুহূর্তে আমেরিকা তার জনিশক্তিকে সহজেই কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে। আমেরিকার মোট জনশক্তির মধ্যে তাত্ত্বিকভাবে সাড়ে ১৪ কোটি মানুষকে সামরিক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। সেখানে রাশিয়া তার মোট জনশক্তির সাত কোটির মতো সামরিক কাজে ব্যবহার করতে পারবে।

সক্রিয় সেনা সদস্য: রাশিয়ার চেয়ে অবশ্যই আমেরিকা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এগিয়ে। আমেরিকার হাতে রয়েছে রাশিয়ার চেয়ে বড় সামরিক বাহিনী। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সক্রিয় সেনা সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। অন্যদিকে রাশিয়ার হাতে রয়েছে ৭ লাখ ৬৬ হাজার সেনা। তবে দু দেশের মাথাপিছু হারে রাশিয়া সেনাসংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে। অর্থাৎ জনসংখ্যার তুলনায় রাশিয়া সেনা সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। রাশিয়ার পদাতিক সেনার সংখা তিন লাখ। বিপরীতে আমেরিকার সেনা সংখ্যা ৫,৪১,২৯১। মার্কিন রিজার্ভ সেনার সংখ্যা হচ্ছে ৮,৫০,০০০। রুশ রিজার্ভ সেনা সে তুলনায় অনেক কম।

বিমান শক্তি: মার্কিন সামরিক শক্তির একটি বিরাট অংশ হচ্ছে বিমান বাহিনী এবং সে শক্তির প্রমাণ মিলবে বিমানের সংখ্যার দিক দিয়ে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে আমেরিকা যেকোনো সময় ১৩,৫০০ বিমান যুদ্ধে নিয়োগ করতে পারে। তবে উইকপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, মার্কিন বিমান বাহিনীতে ৫,৬৩৮টি বিমান সক্রিয় রয়েছে। মার্কিন বাহিনীতে জঙ্গিবিমান রয়েছে ২,০২৫টি। বিভিন্ন শ্রেণীর জঙ্গিবিমানের মধ্যে রয়েছে এফ-৪ ফ্যান্টম, এফ-১৫সি এবং এফ-১৫ডি স্ট্রাইক ঈগল; এফ-১৬ সি এবং এফ-১৬ডি ফাইটিং ঈগল; এফ-২২ এ র‍্যাপ্টর এবং এফ-৩৫। এছাড়া, রয়েছে এ-১০সি থান্ডারবোল্ট গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান।এ ধরনের বিমান ২০১৯ সালের মধ্যে অবসরে যাবে এবং সেই জায়গা পূরণ করবে এফ-৩৫। এর পাশাপাশি রয়েছে স্পেশাল ইলেক্ট্রনিক মিশনের জন্য ইসি-১৩০এইচ কম্পাস কল, ইসি-১৩০ জেকমান্ডো সোলো, ই-৩বি,ই-৩সি এবং ই-৩জি সেন্ট্রি, ই-৪বি নাইটওয়াচ, ই-৮সি জে স্টারস,ই-৯এ উইজেট এবং ই-১১ এ।

অন্যদিকে, রাশিয়ার হাতে চার হাজারের মতো যুদ্ধবিমান রয়েছে। তবে কয়েক ধরনের অত্যাধুনিক সুখোই জঙ্গিবিমান ও ‘ফিফথ জেনারেশনের টি-৫০ স্টিলথ বিমান রয়েছে যা যেকোনো যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। রাশিয়ার টি-৫০ স্টিলথ জঙ্গিবিমান আমেরিকার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে আগেই। রাশিয়ার কাছে আছে এসইউ-২৪, এসইউ-২৫, এসইউ-২৭, এসইউ-৩০, ফোর্থ জেনারেশনএসইউ-২৭, ফোর্থ জেনারেশন মিগ-২৯ এবং মিগ-৩১ ইন্টারসেপ্টর। এছাড়া সর্বাধুনিক এসইউ-৩৫ ফোর্থ প্লাস-প্লাস জেনারেশন জঙ্গিবিমান রয়েছে।

বোমারু বিমান:দু দেশের হাতেই রয়েছে দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান। বর্তমানে রাশিয়ার হাতে তিন রকমের বোমারু বিমান রয়েছে। এর একটি হলো-দীর্ঘপাল্লার সুপারসনিক টিইউ-১৬০ স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান। এ বিমানের গতি শব্দের গতির চেয়ে দ্বিগুণ এবং এর পাল্লা হচ্ছে ১২,০০০ কিলোমিটার। এ বিমান প্রচলিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অথবা পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা যায়। বোমারু বিমানের দ্বিতীয়টি হচ্ছে টিইউ-৯৫ এমএস টারবোপ্রপ স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান। এগুলোর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ৯২০ কিলোমিটার এবং পাল্লা হচ্ছে ১৫,০০০ কিলোমিটার। এ ধরনের বিমান প্রচলিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা সজ্জিত করা যায়। রাশিয়ার হাতে আরেক ধরনের বোমারু বিমান রয়েছে যার নাম হলো টিইউ-২২এমথ্রি সুপারসনিক বোমারু বিমান। এর গতি প্রতি ঘণ্টায় ২,০০০ কিলোমিটার এবং এর পাল্লা হচ্ছে ৬,৮০০ কিলোমিটার। জানা যাচ্ছে- রাশিয়ার কাছে রিফুয়েলিংয়ের জন্য ২০ থেকে ২৫টি ট্যাংকার বিমান রয়েছে এবং আরো ৪০টি বিমানের অর্ডার দেয়া হয়েছে। এগুলো যোগ হলে রুশ বাহিনীতে ট্যাংকার বিমানের ঘাটতি কমবে।

অন্যদিকে, আমেরিকার হাতে রয়েছে বি২এ, বি১বি এবং বি-৫২ এইচ বোমারু বিমান। এর সবগুলো অত্যন্ত কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে। ট্যাংকার বিমানের দিক দিয়ে রাশিয়া আমেরিকার চেয়ে অনেক এগিয়ে। দুই দেশের হাতেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সামরিক পরিবহন বিমান।

হেলিকপ্টার: আকাশ যুদ্ধে হেলিকপ্টার এখন অনেক বেশি ব্যবহৃত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত। এই খাতেও আমেরিকার প্রাধান্য রয়েছে। আমেরিকার হাতে রয়েছে ৬,০০০ এর বেশি সক্রিয় সামরিক হেলিকপ্টার। অন্যদিকে রাশিয়ার হাতে রয়েছে ১,০০০ মতো হেলিকপ্টার।

ট্যাংক শক্তি: বহু আগে থেকেই স্থল অভিযানে ট্যাংক অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ-উপাদান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিজয়ে এই ট্যাংক অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এইশক্তির দিক দিয়ে সারা বিশ্বে রাশিয়ার রয়েছে একক প্রাধান্য। রুশ বাহিনীর দখল রয়েছে ১৫,৫০০ সক্রিয় ট্যাংক যা মার্কিন বাহিনীর ট্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি। অবশ্য, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স’এর হিসাব মতে রাশিয়ার হাতে রয়েছে ২২,০০০ ট্যাংক। মার্কিন বাহিনীর হাতে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৮, ৩২৫টি ট্যাংক।

সাবমেরিন: আধুনিক যুদ্ধের জন্য সমুদ্রশক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সমুদ্রে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান উপাদান সাবমেরিন। আমেরিকা ও রাশিয়া -দু দেশের হাতেই রয়েছে খুব কাছাকাছি সংখ্যার সাবমেরিন। তবে আমেরিকারে হাতে রয়েছে কিছু বেশি সাবমেরিন। পার্থক্যটা এতই কম যে, ঠিক বলা মুশকিল এ ক্ষেত্রে কার শক্তি বেশি। আমেরিকার হাতে মোতায়েনযোগ্য ৭২টি সাবমেরিন রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার হাতে রয়েছে ৬৩টি সাবমেরিন।

বিমানবাহী জাহাজ: রাশিয়ার হাতে রয়েছে একটি মাত্র বিমানবাহী জাহাজ যার নাম হলো কুজনেৎসভ। অন্যদিকে আমেরিকার হাতে রয়েছে অন্তত ২০টি বিমানবাহী জাহাজ। বাস্তবতা হচ্ছে- সারা বিশ্বে যতগুলো বিমানবাহী জাহাজ রয়েছে তার চেয়ে একা আমেরিকার হাতে বেশি আছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয়: সারা বিশ্বে সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে আমেরিকা সবাইকে ছাড়িয়ে। এজন্য রাশিয়ার চেয়ে সামরিক ব্যয় যদি আমেরিকার বেশি হয় তাহলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকে না। ২০১৩ সালে আমেরিকা সামরিক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এ ব্যয় শীর্ষ অবস্থানে থাকা সামরিক শক্তির ১৪টি দেশের সম্মিলিত সামরিক ব্যয়ের চেয়েও বেশি। অন্যদিকে রাশিয়া ওই বছর ৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে প্রতিরক্ষা খাতে। রাশিয়ার হাতে যে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের সামরিক উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে ২০১৫ সালে তার অর্ধেক শেষ হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র, জঙ্গিবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, বিমান প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ও গোয়েন্দা সরঞ্জাম তৈরিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

পরমাণু অস্ত্র: পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও অন্যান্য কয়েকটি চুক্তির আওতায় আমেরিকা ও রাশিয়া দুদেশই তাদের পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করেছে। তারপরও এ খাতে এখনো রাশিয়া আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সামরিক শক্তির বিরাট গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে রাশিয়ার হাতে রয়েছে ৮, ০০০ বোমা ও ওয়ারহেড। সেখানে আমেরিকার হাতে রয়েছে আনুমানিক ১,০০০ কম অর্থাৎ ৭,০০০।রাশিয়ার হাতে রয়েছে প্রায় ১,৫০০ স্ট্র্যাটেজিক ওয়ারহেড যা আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ও ভারী বোমারু বিমানে মোতায়েন করা রয়েছে।  

২০১২ সালে প্রাফিক্স ডিজাইনার ম্যাক্সিমিলিয়ান বোডে বলেছিলেন, বিশ্বে বর্তমানে যে পরিমাণে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে তা দিয়ে পুরো মানবসভ্যতাকে মুহুর্তের মধ্যে সহজেই মুছে ফেলা সম্ভব এবং এর অন্তত শতকরা ৭৫ ভাগ দায় থাকবে রাশিয়া ও আমেরিকার।

লেখক: রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক