স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মধ্যে প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে জেলা পরিষদ। কিন্তু দীর্ঘ ২৬ বছর অতিক্রম হলেও কোন নির্বাচন হয়নি জেলা পরিষদের। নির্বাচন না হওয়ার কারণে বর্তমানে চলছে 'দলীয়ভাবে নিয়োগ'পাওয়া অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে বার বার চিঠি দেয়া হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ সারা দেয়নি। ফলে নির্বাচন কমিশনের সব উদ্যোগই ভেস্তে গেল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৬ মাসের দায়িত্ব দিয়ে বিগত ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ বাদে ৬১ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচন না হওয়ায় ছয় মাসের সেই অনির্বাচিত প্রশাসকরা এখনও চালাচ্ছেন জেলা পরিষদ। ৬১ জেলা পরিষদের মধ্যে ৪টি এখন প্রশাসক শূন্য। এর মধ্যে দু'জন মারা গেছেন এবং দু'জন দশম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সূত্র আরও জানায়, সহসাই জেলা পরিষদে নির্বাচন দেয়ার পক্ষে নয় সরকার। সরকারের ইচ্ছাতেই চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের উদ্দেশ্য ছিল, গত ৫ জানুয়ারির বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোটকে 'দৌড়ের উপর' রাখা। কিন্তু প্রথম দুই দফায় নিজেদের পরাজয়ে এতে 'বিপত্তি ঘটে'। বাকি ধাপগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা ও অনিয়মের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন। এ নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়েই জেলা পরিষদ নির্বাচনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জেলা পরিষদের ইতিহাস ২০০ বছরের । ব্রিটিশ আমলে সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮৫-এর আওতায় ১৮৮৬ সালে জেলা পরিষদ গঠিত হয়। তখন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা পদাধিকারবলে জেলা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান আমলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জেলা পরিষদের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর সামরিক আইন জারি হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা ফের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীনের পর এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৮ সালে প্রথম জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করে, কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ণ হয়নি।

১৯৮৮ সালে প্রণীত জেলা পরিষদ অধ্যাদেশের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের আমলে প্রথম জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয় অনির্বাচিত ব্যক্তিদের। এরশাদ সরকার জেলার গুরুত্বপূর্ণ সংসদ সদস্যকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের বিদায়ের পর এ পদে নির্বাচন বা নিয়োগ হয়নি। সর্বশেষ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মহাজোট সরকার একইভাবে পছন্দের ব্যক্তিদের জেলা পরিষদে ড মাসের জন্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলেও নির্বাচন না হওয়ায় আজ পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য কয়েকবার স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার কোন উদ্যোগ না নেয়ায় আমরা এ নির্বাচন করতে পারেনি বলে জানান তিনি।
ঢাকা, এএম, ২৫ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর