একইভাবে ১৬ টাকার মোনাস/মন্টিলুকাস ট্যাবলেট হয়েছে ১৭ টাকা পঞ্চাশ পয়সা। ভিটামিন বি১ বি৬ ট্যাবলেটের দাম ৮ টাকা থেকে হয়েছে ১০ টাকা। সেফোক্সিন ট্যাবলেটপ্রতি দাম ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকার ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ৩৫ টাকার ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা। গিভিফ্লাক্স নামে গ্যস্ট্রিকের একটি সিরাপ ২৫০ টাকা থেকে হয়েছে ৩০০ টাকা। একইভাবে প্রতিটি ওষুধের দাম বেড়েছে।
শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল মেডিসিন মার্কেটের ‘মেডিসিন প্লাস’ নামে ওষুধ দোকানের বিক্রয়কর্মী জানান গেল তিন মাসের ব্যবধানে অ্যান্টিবায়োটিকসহ সব ওষুধের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। গেল তিন মাসের ব্যবধানে কোনো কোনো ওষুধের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তবে সবেচেয়ে অস্তিরতা বিরাজ করছে আমদানি করা ওষুধ ও চিকিৎসা সারঞ্জামের। কোনো কোনো আমদানি করা ওষুধের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
চাঁদপুর থেকে ওষুধ কিনতে আসা রাশেদুল ক্ষুব্ধ হয়ে জানান, এই ওষুধের দাম পাতাপ্রতি দশটাকা বাড়িয়েছে। আমার প্রতিদিন ১৭ পিস ওষুধ খেতে হয়, এখন আমাদের আয়তো বাড়ছে না, আমাদের কি অবস্থা হবে? অপর একজন ওষুধ ক্রেতা জানান, ‘দাম বাড়লেও আমাদের করার কিছু নেই, ওষুধতো খেতেই হবে আমাদের। যতদিন সম্ভব খাওয়াই লাগবো, না পারলে ছেড়ে দিতে হবে। বাজারে সব জিনিসের দাম বেশি, এমনেই সংসার চালানো মুশকিল, আমাদের আর রোগের চিকিৎসা করতে হবে না।’

ডালারের বাড়তি মূল্য, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কথা বলছে ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিরা। তবে এ ব্যাপারে কথা বলতে চায়নি ওষুধ কোম্পানির মালিকরা। তবে বাজারে ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পরিচালক আইয়ুব হোসেন বলেন, ডলারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সব খাতেই পড়েছে। সেক্ষেত্রে ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে যেমন ব্যয় বেড়েছে তেমনি অভ্যন্তরিণ উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এর পরেই কয়েক দফা আমাদের কাছে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে, সেখান থেকে কিছু ওষুধের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
তিন আরও বলেন, দাম সমন্বয় করা না হলে কিছু ওষুধ হয়ত বাজারে সংকট তৈরি হতে পারে। এজন্যই মূলত দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
এদিকে, দামের কারণে চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ না হলে রোগের জটিলতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এতে চিকিৎসা ব্যয় আরও বেশি হবে বলে মনে করছেন তারা। এ অবস্থায় সরকারি পর্যায়ে ভুর্তুকির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান খসরু বলেন, ওষুধ অনেক সময় খাদ্য বা খাদ্যের চেয়েও জরুরি বিষয়। সরকার প্রতিটি জরুরী মহুর্তে কিছু বরাদ্দ দেন। ওষধের অস্বভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারকেই বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। না হলে মানুষ প্রয়োজনীয় ওষধ কিনতে পারবে না, এতে রোগের জটিলাত যেমন বাড়বে ঠিক তেমনি চিকিৎসার ব্যয়ও বাড়বে।
চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি ওষুধ দেশে উৎপাদন হচ্ছে বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা ফিনিশিং ও মোড়কীকরণেই সীমাব্ধ। ৯৫ শতাংশের বেশি কাঁচামালই আমদানি নির্ভর। এ অবস্থায় ওষুধের দামের স্থায়ী সমাধান আনতে হলে কাঁচামাল উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে খুব কম সময়ের ব্যবধানে ওষুধের দাম আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা।
এইচএম





