হারপার্স ম্যাগাজিনের সাবেক সম্পাদক প্রখ্যাত সাংবাদিক ক্রিস্টোফার হিচিন্স ‘দ্যা ট্রায়াল অব হেনরি কিসিঞ্জার’ শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, কিসিঞ্জার বাংলাদেশ সংকট নিয়ে কাজ করার জন্য কঠোর সমালোচনা ও কিছুটা উপহাসের পাত্র হয়েছিলেন। চীনে তার সুন্দর সময়গুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তিনি (তার সহযোগী রজার মরিসের মতে) আলেন্দের সঙ্গে মুজিবের তুলনা করেছিলেন।

বইটিতে আরো বলা হয়েছে, ১৯৭৩ সালে কিসিঞ্জার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়ার পরই ঢাকায় মার্কিন কনস্যুলেট অফিসে কর্মরতদের মধ্যে ১৯৭১ সালে যারা গণহত্যার প্রতিবাদে স্বাক্ষর করেছিলেন, তাদেরকে পদাবনতি করেন।

বাংলাদেশে কিসিঞ্জারের সফর সম্পর্কে হিচিন্স বলেন, ১৯৭৪ সালের নভেম্বরে এ অঞ্চলে তার লোক দেখানো সংক্ষিপ্ত সফরের অংশ হিসেবে কিসিঞ্জার বাংলাদেশে আট ঘণ্টা সফর করেন। এ সময় তিন মিনিটের এক সংবাদ সম্মেলনে তিন বছর আগে তিনি কেন বঙ্গোপসাগরে ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ পাঠিয়ে ছিলেন, এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

বইটিতে আরো লেখা হয়েছে, তার ঢাকা ত্যাগের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের একটি গ্রুপ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মুজিবের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারী একদল বাংলাদেশী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শুরু করে। এই অভ্যুত্থানে মুজিব এবং তাঁর পরিবারের ১৪ জন সদস্য নিহত হন। এ ঘটনার কয়েক মাস পরে কারাগারে মুজিবের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীকেও হত্যা করা হয়।সূত্র:বাসস

ইআর