২০ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনির্দিষ্টকালের অবোরোধ কর্মসূচিতে রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষ আতম্কে রয়েছে। প্রতি মুহূর্তেই রয়েছে পেট্রোল বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণে জীবন নাশের শঙ্কা। ইতিমধ্যেই নারী-শিশুসহ বহুলোকের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন অনেকে।

বিরোধী জোটের ডাকা অবরোধে সারাদেশ এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। বিগত কয়েকদিনের জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

চলমান অবোরোধে রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরাও। প্রতি নিয়ত দগ্ধ হচ্ছেন তারা।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা নিয়েও সংশয় কাটছে না শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের মধ্যে। আদৌ তারা পরীক্ষা দিতে পারবেন কি না এমন আশঙ্কায় ভূগছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দগ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, অবোরোধকারীরা শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

অপরদিকে বিরোধীদলও এর দায় নিতে নারাজ। যে কোনো মূল্যে তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেই।

তাহলে কী দমণ-পীড়ণ এবং ধ্বংষাত্নক ঘটনা ঘটার মধ্য দিয়েই চলবে দেশ?

সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ বলছেন, সরকারের দায়িত্বই বেশি, তাই সরকারকেই সংকট সমাধানের পথে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৃষ্ট সংকট এখন ধীরে ধীরে আরো ঘনীভূত হচ্ছে। সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে সৃষ্ট সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন- দেশের বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা।

এখনই সংলাপ বা আলোচনায় বসে সমঝোতায় না আসলে দেশের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহতার দিকে যাবে বলেও মনে করছেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হাতছাড়া হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে এ ভয় থেকেই তারা বিরোধী জোটের সাথে নির্বাচন কেন্দ্রিক কোন সংলাপ বা সমঝোতায় যেতে চাচ্ছেন না।

অন্যদিকে বিরোধীজোটও দীর্ঘ দিন কোণঠাসা থাকার পর ধারণা করছে আন্দোলন ছাড়া এ সরকারকে বিদায় করা সম্ভব হবে না। এ লক্ষ্যে তারা এখন কঠিন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে।

তাদের মতে, সভা-সমাবেশের অধিকার সবারই আছে। বিএনপি জোটকে যদি একটি সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হতো তাহলে রাজনীতিতে হয়তো এই সংকট সৃষ্টি হতো না। এখন দুই জোটের অনঢ় অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে সৃষ্ট সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে।

রাজনীতিতে সৃষ্ট সংকটের সমাধান কোন পথে আসতে পারে জানতে চাইলে বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবী প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, দুই জোটকেই আলোচনায় বসতে হবে। সংলাপ ছাড়া বর্তমান সৃষ্ট সংকট সমাধানের কোন পথ নেই। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক কোন পরিবেশ নেই।

ক্ষমতাসীনদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা কোন আলোচনা বা সংলাপে বসবে না। কোন প্রকার সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কোন সমঝোতা না হয় আর সংঘাত বাড়তে থাকে তাহলে দেশ আরো খারাপের দিকে যাবে।

সংলাপ বা আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিকে চলে যাবে বলে মনে করেন আরেক রাজনীতি বিশ্লেষক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাদেক খান। তিনি বলেন, রাজনীতিতে সৃষ্ট সংঘাত ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে। আলোচনায় বসা ছাড়া এর কোন সমাধান হবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান বলেন, এটা কোন নতুন সংকট না। এ সংকট আরো আগ থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকটের সমাধানের জন্য তাদেরকে সমঝোতায় আসতে হবে। সমঝোতা ছাড়া এর কোন সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনীতিতে সৃষ্ট সংকটের একটি টেকসই সমাধান দরকার। আর এ সমাধানের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন একটি সরকারের ব্যাপারে সকলকে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী আইনের সংস্কার করতে হবে। বর্তমান কমিশন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলগুলোরও সংস্কার করতে হবে।

তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারিতে কোন নির্বাচন হয়নি। কারণ, আমরা ভোট দিতে পারিনি। জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এখন জনগণও একটি পক্ষ। কারণ, সরকার জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছে।

এমকে, জেএ