কক্সবাজারের উখিয়া ইয়াবার স্বর্গরাজ্য পরিণত হয়েছে। আইনের ফাঁক দিয়ে ধরা পড়ে জেল থেকে বেরিয়ে এসে দেশি-বিদেশি হরেক ব্র্যান্ডের তরল ও শুকনো মাদক, হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবাসহ এসব মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাদক সম্রাটরা।
তরুণ ও স্কুল কলেজ গামী ছাত্ররা মাদকাসক্ত হয়ে মানব পাচারসহ তারা দিন দিন অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চলতি বছরে শত কোটি টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করলেও মিয়ানমার থেকে কোটি টাকার ইয়াবা পাচার অব্যাহত থাকায় কোন ভাবেই ইয়াবা ব্যবসা থামানো যাচ্ছেনা।
সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারীরা আগে তাদের ভাড়াটে লোক দিয়ে মাদক পাচার ও বাজারজাত করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা এসব মাদক পাচার ও বাজারজাতে বিভিন্ন ধরনের কৌশলের অবলম্বন হিসেবে মহিলা, স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের টার্গেট করে কাজ চালাচ্ছে। এতে মাদক পাচার ও বাজারজাত করা যেমন সহজ ও নিরাপদ, অন্যদিকে নগদ টাকার লোভে পড়ে শিক্ষার্থী, নিম্ম, মধ্য ও উচ্চ বিত্ত পরিবারের লোকজন, বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি, বেসরকারি, এনজিও কর্মী, চাকরিজীবী, বেকার কিশোর-যুবকরা জড়িত হয়ে পড়ছে।
পাশাপাশি প্রতি বছর মাদকের সাথে পাচার হয়ে যাচ্ছে সরকারের দেওয়া ভুর্তকি মূল্যের সার, ডিজেল, কেরোসিন, ভোজ্যতেল, জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন ঔষধ। এ ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি সদস্যদের ভূমিকা ও তৎপরতা কিছুটা প্রশংসনীয় ও উল্লেখযোগ্য হলেও এসব এলাকায় সরকারের নিয়োজিত অন্যান্য বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার লোকজনের তৎপরতা ও ভূমিকা তেমন আশানুরূপ নয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এতে মাদক প্রতিরোধের স্থলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার এক শ্রেণির লোকজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাচারকারীদের সহযোগিতা দিয়ে বা নিজেরা জড়িয়ে পড়ে লাভবান হচ্ছে বলেও একাধিক সূত্রে জানা অভিযোগ।
উপজেলার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া, থাইংখালী রহমতেরবিল, ধামনখালী, বালুখালী কাটা পাহাড়, হাতি মুড়া, ডেইলপাড়া, পূর্ব ডিগলিয়া, কড়ইবনিয়া, চাকবৈঠা, নাইক্ষ্যংছড়ি, ঘুনধুম, জলপাইতলি, তুমব্রু কোনারপাড়া, মগপাড়া, রেজু, আমতলী, ওয়ালিদং ও আচারতলীসহ প্রায় ৪২টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকারের মাদক দ্রব্য পাচার হয়ে এদেশে আসছে। সীমান্তের এসব পয়েন্টের ওপাড়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় ৩৭টির মত ইয়াবা তৈরির ছোট বড় কারখানা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ২ শতাধিক মাদক পাচারকারী ও চোরাকারবারীরা যৌথ সিন্ডিকেট করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পিস ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক দ্রব্য পাচার করে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এসব মাদক চোরাকারবারীর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে উখিয়ার হিজলীয়া এলাকার এক মাদক সম্রাট।
সীমান্ত নিরাপত্তায় নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) পক্ষ থেকে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী (বিজিপি) সদস্যদের নিকট বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সভায় সীমান্তের মাদক পাচার ও মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে স্থাপিত ৩৭টি ইয়াবা তৈরির কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে স্থানীরা।
প্রতিটি সভায় মিয়ানমারের পক্ষ থেকে মাদক পাচার প্রতিরোধে ও ইয়াবা তৈরির কারখানা বন্ধের ব্যাপারে বিজিবিকে আশ্বস্ত করা হলেও কার্যত এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার তেমন কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে কক্সবাজারস্থ বিজিবির সেক্টর কমান্ডার এম আনিসুর রহমান জানিয়েছেন।
গেল বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সারাদেশে ৭৬৮ জন ইয়াবা পাচারকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে তালিকাভুক্ত উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি ও টেকনাফের অধিকাংশ পাচারকারীর নাম রয়েছে। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে প্রতিটি থানা ও বিজিবিসহ বিভিন্ন সরকারীর সংস্থার নিকট আলাদা তালিকা রয়েছে। সেই তালিকাকে অনুসরণ করে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানা গেছে।
উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে ঘরে ঘরে ইয়াবা ব্যবসায়ী হওয়ায় যুব ও ছাত্র সমাজ ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ইউনিয়নের সিংহভাগ তরুণ ইয়াবা আসক্ত হয়ে যাবে। তিনি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানান।
উখিয়া থানার ওসি মোঃ হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, উখিয়ায় চিহ্নিত ইয়াবা পাচারকারী রয়েছে, তাদেরকে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ও ইতিমধ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করেছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বদ্ধ পরিকর।
এমএ





