ঐতিহ্য হারাতে বসেছে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের বিশ্ব কবির শিলাইদহের কাচারিবাড়ি। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন শিলাইদহের কাঁচারী বাড়ি এখান কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাঁচারীবাড়িতে বসেই জমিদারী পরিচালনা করতেন।

রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ির পাশেই রয়েছে কাঁচারীবাড়ি। ৬ একর জমির ওপর নির্মিত এই কাঁচারী বাড়ি থেকে পরিচালিত হত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারী। কিন্তু কালের বিবর্তণে হারাতে বসেছে এর ঐতিহ্য। সংরক্ষণের অভাবে ভবনটি আজ জরাজীর্ণ।

পাশেই দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এক সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবা এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকল্পে নির্মাণ করেছিলেন এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সঠিকভাবে সংরক্ষেণের অভাবে এর অস্তিত্বও বিলীনের পথে।

শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাঁচারীবাড়ী কিংবা চিকিৎসালয়ই নয়, কুমারখালী খোরশেদপুরে নাটোরের মহারানী ভবানী নির্মিত গোপীনাথ মন্দির আজো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে এসব ঐতিহ্য রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের। এসব পুরাকীর্তি রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের এগিয়ে আসার কথা থাকলেও কোন মাথাব্যথা নেই তাদের।

কুষ্টিয়ার স্থানীয় এনজিও সংস্থা বিবর্তণের নির্বাহী পরিচালক তরুণ গবেষক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব জানান, কুষ্টিয়ার অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। এসব নিদর্শন যথাযথ ভাবে সংরক্ষিত হয় না। এসব নিদর্শনের তদারকি প্রয়োজন।

এব্যাপারে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, কাঁচারীবাড়ীসহ যেসব নিদর্শন এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় আসেনি তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধিনে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এতে করে কুষ্টিয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়বে।

কুষ্টিয়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, জেলার এসব পুরাকীর্তি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে নিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এআর