অন্য দিনগুলোর মতো সেদিনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিমান অভিযান পরিচালনার কথা ছিল। সুখোই-২৪ বোমারু বিমান নিয়ে আকাশে উড়লেন এবং ঠিকঠাক মতো সন্ত্রাসী অবস্থানে বোমাবর্ষণ শেষে রাশিয়ার পাইলট লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওলেগ পেশকভ এবং কো-পাইলটক্যাপ্টেন কনস্টানটাইন মুরাখতিনসিরিয়ার হেমেইমিম ঘাঁটিতে ফিরছিলেন। কিন্তু বাধসাধলো তুরস্কের এফ-১৬ জঙ্গিবিমান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তুর্কি এফ-১৬ থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে সুখোই-২৪’র পেছনের অংশে। উপায়হীন হয়ে প্যারাস্যুটের সাহায্যে বিমান থেকে বেরিয়ে পড়েন দুই পাইলট।

ঘটনাটি ছিল ২৪ নভেম্বর দিনের বেলায়। তুরস্কের সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটার দূরে তাদের শেষ অভিযান। সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় স্বর্গরাজ্য বানিয়ে বসেছে। রাতদিন সমর্থন পাচ্ছে তুর্কি সরকারের। বড় নিশ্চিন্তে সন্ত্রাসীরা কথিত ইসলাম কায়েমের লড়াইয়ের নামে হেন অপরাধ নেই যা না তারা করছে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পেছনে শুধু তুরস্ক কেন, আমেরিকাসহ দুনিয়ার প্রায় সব বড় বড় অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিধর দেশগুলো সমর্থন দিচ্ছে।

একেক জনের একেক রকমের লাভ। তুরস্কের নগদ লাভ হচ্ছে- দখল করে নেয়া এলাকা থেকে সিরিয়ার সন্ত্রাসীরা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পাচার করে। ইরাক হয়ে সে তেল নির্বিঘ্নে সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যায় তুরস্কে। বোঝাই যায়- চোরাই মাল; দামও নিতান্তই কম। তুরস্ক থেকে যা পাবে তার পুরোটাই সন্ত্রাসীদের লাভ। এতে সন্ত্রাসীদেরও পোয়া বারো আবার তুরস্কেরও ‘পৌষ মাস’।

এই লাভের হিসাব গোলমাল করে দিচ্ছে রাশিয়ার বোমা হামলা। প্রতিদিন সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংস হচ্ছে রুশ বোমায়। এতদিন আস্তানার ওপর দিয়ে গেলেও রাশিয়ার বিমানগুলো গত কয়েকদিনে সন্ত্রাসীদের তেলবাহী অন্তত এক হাজার ট্যাংকার ধ্বংস করে দিয়েছে। তাতে সিরিয়া থেকে তেলের সাপ্লাই প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

২৪ নভেম্বর অভিযানের শেষ পর্যায়ে তুর্কি বাহিনী কী ভেবেছিল? একদম নাগালের ভেতর রুশ বোমারু বিমান পেয়ে কী তারা সুযোগ নষ্ট করতে চায় নি!হয়ত ভেবেছিল- এত কাছে পেয়ে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না। আমেরিকা আর ন্যাটো তো আছেই। বিপদ হলে বন্ধুদেরকে খবর দেয়া যাবে। অতএব সিদ্ধান্ত হলো- রুশ বিমান ভূপাতিত করতে হবে। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ।  তুর্কি বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৬ জঙ্গিবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হলো এবং তা আঘাত হানলো রুশ সুখোই-২৪ এ।

তবে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই প্যারাস্যুটের সাহায্যে বেরিয়ে গেলেন পাইলটলেফটেন্যান্ট কর্নেল ওলেগ পেশকভ এবং কো-পাইলট ক্যাপ্টেন কনস্টানটাইন মুরাখতিন। কিন্তু ভাগ্য খারাপ; আকাশে থাকা অবস্থাতেই সিরিয়ার তুর্কমেন ১০ ব্রিগেডের সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাইলট ওলেগ পেশকভ মারা যান। আর  কোনো রকমে প্রাণে বাঁচেন কো-পাইলট মুরাখতিন। যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে মারা গেছেন পাইলট পেশকভ তারা হচ্ছে কথিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মিযাদেরকে তুরস্ক, সৌদি আরব, অন্য কয়েকটি আরব দেশ ও আমেরিকা এবং তার মিত্ররা ‘উদারপন্থী জিহাদি’ বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। পাইলট পেশকভের দেহ মাটিতে পড়ার পর সন্ত্রাসীরা আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে এবং আক্ষেপ করতে থাকে যে, “জীবিত পেলে পুড়িয়ে মারা যেত”!

পরে লেগে যায় কো-পাইলট মুরাখতিনের খোঁজে। এরইমধ্যে রাশিয়ার এমআই-৮ হেলি কপ্টার নেমে যায় দুই পাইলটের সন্ধানে। সে অভিযানেও সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গোলার আঘাতে হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন উদ্ধারকারী মেরিন সেনা নিহত হন। প্রথমে খবর বের হয় যে, দুই পাইলটই নিহত হয়েছেন। পরে ফ্রান্সে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ওরলভের মাধ্যমে খবর বের হয় যে, একজন পাইলট আহত অবস্থায় বেঁচে আছেন। এ অবস্থায় রাশিয়া সিদ্ধান্ত নেয়- যে এলাকায় বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে সে এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। শুরু হয় দুঃসাহসিক অভিযান; পরের ঘটনাপ্রবাহ বড়ই রোমাঞ্চকর।

বৃহস্পতিবার ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ জানিয়েছে সেই ভয়াবহ অভিযানের গল্প। বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আল-কুদস ব্রিগেডের বিশ্ববিখ্যাত কমান্ডার মেজর জেনারেল সোলায়মানি ওই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মজার বিষয় হলো কোনো রকমের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সফলভাবে উদ্ধার অভিযান শেষ করতে সক্ষম হয়েছেন। সে গল্প জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা স্পুৎনিকের সাংবাদিক ইমাদ আবশেনাস।

কেমন ছিল সেই অভিযান:

সিরিয়ার লাতাকিয়া এলাকায় কর্মরত সিরিয়একজন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তার কাছে ইমাদ আবশেনাস জানতে চেয়েছিলেন উদ্ধার অভিযানের কাহিনী। নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক সিরিয়ার সেনা কর্মকর্তা জানালেন সে গল্প-

“কো-পাইলট ক্যাপ্টেন মুরাখতিন প্যারাস্যুটের সাহায্যে যে এলাকায় নামে তা ছিল বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার এলাকা অচেনা; শুধুই শত্রুর বসবাস! সিদ্ধান্ত হলো ক্যাপ্টেন মুরাখতিনকে উদ্ধার করতে হবে। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পরপরই রাশিয়ার দুটি হেলিকপ্টার রওয়ানা দিল সেদিকে। কিন্তু পশ্চিমা সমর্থিত কথিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা এফএসএ এবং তুরস্ক সমর্থিত তুর্কমেন সন্ত্রাসীরা রকেট ও উন্নত অস্ত্র দিয়েহেলিকপ্টারগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালাতে থাকল। এসব অস্ত্র তারা খুব সম্প্রতি পেয়েছে। অভিযানে রাশিয়ার একজন সাহায্য কর্মী (কেউ কেউ বলছেন মেরিন সেনা) মারা গেলেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছিল- বিমান ভূপাতিত হওয়ার ওই এলাকায় তুরস্ক স্পেশাল ইউনিটের সেনাদেরকে পাঠায় যাতে আটক রুশ পাইলটকে তারা নিয়ে যেতে পারে এবং পরে রাশিয়াকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া শিগগিরি আরেকটি অপারেশন পরিচালনার পরিকল্পনা করছিল যার মাধ্যমে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করা যায়।

এ অবস্থায় ইরানের জেনারেল সোলায়মানি রুশ সেনা কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তিনি একটি বিশেষ টাস্কফোর্স ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দেন যাতে থাকবে হিজবুল্লাহর স্পেশাল ফোর্স এবং সিরিয়ার কমান্ডো সেনা যাদেরকে ইরান প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসব সেনার কাছে ওই এলাকা ছিল সম্পূর্ণ পরিচিত। এদের নিয়েই জেনারেল সোলায়মানি পাইলট উদ্ধারের অভিযান পরিচালনা করবেন আর আকাশ থেকে রুশ বাহিনী বিমান ও স্যাটেলাইট তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।জেনারেল সোলায়মানি রুশ সেনা কর্মকর্তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, আল্লাহ চান তো তিনি নিরাপদে এবং অক্ষত অবস্থায় পাইলটকে উদ্ধার করবেন।  

রুশ পাইলটের ব্যবহার করা জিপিএস শনাক্ত করে তার অবস্থান জানা গেল যে, তিনি যেখানে অবস্থান করছেন সেখান থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে সিরিয়ার সেনা ও সন্ত্রাসীদের ফ্রন্টলাইন। সেখানে বার বার সংঘর্ষ হয়েছে। 

হিজবুল্লাহর স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের ছয় যোদ্ধা এবং সিরিয়ার ১৮ কমান্ডোকে নিয়ে উদ্ধার অভিযানে রওয়ানা দিলেন জেনারেল সোলায়মানি। এরইমধ্যে রুশ বিমান ও হেলিকপ্টার ওই এলাকায় এমনভাবে হামলা শুরু করল যেন সন্ত্রাসীদের জন্য তা দোজখে পরিণত হলো। বিমান ও হেলিকপ্টার হামলায় সন্ত্রাসীদের সদরদপ্তর ধ্বংস হয়ে গেল এবং মোতায়েন করা শত্রুরা যারা বেঁচে আছে তারা পালিয়ে যেতে থাকল। এ পর্যায়ে শুরু হলো স্পেশাল ইউনিটের স্থল অভিযান।”

গল্পের মাঝে সিরিয়ার ওই সেনা কর্মকর্তা জানালেন, “অভিযানের পুরো সময় স্পেশাল ইউনিট রাশিয়ার স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের আওতায় কাজ করেছে। পাইলটের অবস্থানের ১০০ মিটারের কাছাকাছি পৌঁছালে তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয় এবং সে সময় ক্রেমলিনের একজন অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে প্রতি মুহূর্তের অভিযানের রিপোর্ট জানানো হচ্ছিল (বলা হচ্ছে রুশ উচ্চ পদস্থ এ কর্মকর্তা আর কেউ নন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট পুতিন) এবং এটা পরিষ্কার যে, মস্কো থেকে তিনি পুরো অভিযান স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছিলেন।”

গল্পের কথক সিরিয়ার ওই সেনা কর্মকর্তার বর্ণনা অনুসারে- “অভিযানের এক পর্যায়ে তা সন্ত্রাসী ধরার অভিযানে পরিণত হয় যা আকাশ থেকে পরিচালনা করছিল রুশ বাহিনী আর স্থলভাগ থেকে জেনারেল সোলায়মানি। অভিযানের সময় রুশ বাহিনী শক্তিশালী ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার শুরু করে এবং শত্রুদের সব ধরনের স্যাটেলাইট ও যোগাযোগ যন্ত্র অকেঁজো হয়ে যায়। এ যুদ্ধ শুরু হয় অভিযানের মূল এলাকায় পৌঁছানোর কয়েক কিলোমিটার আগে থেকেই। যখন শত্রুরা বুঝতে পারল ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মতো কিছু একটা ঘটছে ততক্ষণে অপারেশন শেষ।

রুশ বাহিনীর উদ্বেগ ছিল যে, পশ্চিমা স্যাটেলাইটগুলো সন্ত্রাসীদের কাছে এ অভিযানের কথা ফাঁস করে দিতে পারে। যাহোক, শেষ পর্যন্ত স্পেশাল ইউনিট শত্রু লাইনের ছয় কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করে। এ সময় শত্রুপক্ষের উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জমাদি ধ্বংস করা হয় এবং এগুলো যারা পরিচালনা করছিল তারাও নিহত হয়। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে- যে ২৪ জনকে নিয়ে স্পেশাল ইউনিট গঠন করা হয়েছিল তাদের সবাই পাইলট মুরাখতিনকে নিয়ে নিরাপদে ঘাঁটিতে ফিরে আসেন। বিপজ্জনক এ মিশনে ২৪ জনের কেউই সামান্য একটু আহতও হয় নি।”

অভিযান সফল হওয়ার কারণ:

সিরিয়ার যে সেনা কর্মকর্তা এ কাহিনী বর্ণনা করেছেন তার মতে অভিযান সফল হওয়ার অন্যতম করণ হলো-পাইলটের ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়ে তুরস্ক ও সন্ত্রাসীদের মধ্যকার মত-ভিন্নতা। তুরস্ক এ পাইলটকে ব্যবহার করে রাশিয়াকে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিং করবে- এমন পরিকল্পনা করছিল। অন্যদিকে, ওই এলাকায় তৎপর সন্ত্রাসীরা চাইছিল তারা রুশ পাইলটকে পুড়িয়ে মারবে যেমনটি ঘটেছিল জর্দানের পাইলটের ক্ষেত্রে।

তারা ভাবছিল- পুড়িয়ে মারার মাধ্যমে রুশ পাইলটদের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে দেয়া যাবে। এই মত-ভিন্নতার কারণে সময়ক্ষেপণ হয়েছে এবং নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের পথ বেরিয়ে এসেছে। স্বর্ণালী কয়েক ঘণ্টার দুর্দান্ত অভিযানে উদ্ধার হয়েছে রুশ পাইলট মুরাখতিন। শত্রুপক্ষভাবতেই পারে নি এত দ্রুত পরিকল্পনা করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তাদের এই ভাবনাও বিপরীত পক্ষকে অভিযান পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে।

সিরিয়ার সেনা কর্মকর্তা বলেন, জেনারেল সোলায়মানি পীড়িপীড়ি করছিলেন যে, অপারেশন সফলভাবে শেষ করা পর্যন্ত তার বাহিনীর প্রধান যেন অপারেশন রুমে বসে অভিযানের খুঁটিনাটি সব পর্যবেক্ষণ করেন।

সাংবাদিক আবশেনাস কয়েকটি মজার পয়েন্ট উল্লেখ করে তার রিপোর্ট শেষ করেছেন। যেমন-

১)জেনারেল সোলায়মানি সম্পূর্ণভাবে সুস্থ রয়েছেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার আহত হওয়া নিয়ে যে গুজব ছড়িয়েছে তার জবাব দিচ্ছেন কাজে; কথায় নয়।

২) সিরিয়ায় চরমপন্থী ও উদারপন্থী বলে আলাদা কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নেই; বরং বিভিন্ন নামে ও ভিন্ন ভ্ন্নি বেশে মুখাশধারী সন্ত্রাসীরা সিরিয়ায় তৎপরতা চালাচ্ছে।

৩) ৪+১ গ্রুপ (ইরান, রাশিয়া, সিরিয়া, ইরাক+হিজবুল্লাহ) কোনো ক্ষেত্রেইঅন্য দেশকে বিশ্বাস করতে পারে না এবং নিজেদের ওপরই তাদের ভরসা করা উচিত। সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার ক্ষেত্রেও তাদের নিজেদের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করা দরকার।

৪) সিরিয়ায় ইরান ও রাশিয়ার সমন্বয় অত্যন্ত উঁচুমানের এবং তারা শত্রুরযেকোনো ফ্রন্ট ভেঙে দিতে পারে।

৫) রাশিয়ার বিমান হামলা ও কমান্ডো যুদ্ধের পর ফ্রি সিরিয়ান আর্মির বেশিরভাগ সদস্যকে ওই এলাকা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিরিয়ার নাগরিক নয় এমন যারা সেখানে ক্ল্যাসিক কৌশল অবলম্বন করে যুদ্ধ করছিল তারা হতে পারে তুরস্ক অথবা অন্য কোনো দেশের সেনা।অভিযানের সময় তাদেরকে হত্যা করা ছাড়া কমান্ডোদের সামনে আরো কোনো উপায় ছিল না। তাদের হাতে এত বেশি সময় ছিল না যে তারা তাদেরকে আটক করতে পারে।  

৬) ওই এলাকার সন্ত্রাসীদের হাতে অত্যাধুনিক কিছু অস্ত্র ছিল যা ভূমি থেকে ভূমিতে অথবা ভূমি থেকে আকাশে ব্যবহার করা যায়। এসব অস্ত্র এমনকি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সদস্য অনেক দেশের সেনাদের হাতে নেই।

৭) জ্ঞাত সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী,শত্রুপক্ষের ওয়্যারলেস যোগাযোগ ট্র্যাক করে দেখা গেছে যে, সন্ত্রাসীরা সবচেয়ে বেশি কথা বলে আরবি, তুর্কি, রুশ ও ফারসি ভাষায়। সে কারণে এসব দেশের জন্য বিপদের মাত্রাও বেশি। এসব সন্ত্রাসী দেশে ফিরলে তাদের তৎপরতা সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর জন্য বিপদের বড় কারণ হয়ে দেখা দেবে। সেকারণে রুশ বাহিনী সিরিয়ায় লড়াই করতে বাধ্য হয়েছে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত এসব সন্ত্রাসী নিমূর্ল ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত রুশ বাহিনীর লড়াই চলবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, রেডিও তেহরান