ঋতু রাজ বসন্তে বাগানের ফুটন্ত ফুলে হফিজারের মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার তালুকবাজিত গ্রামের দিনমজুর আবুল হোসেনের ছেলে হাবিজার। তিনি বানিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল চাষ করে আসছেন প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ।

নিজস্ব দুই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল উৎপাদন করছেন তিনি। হা্বিজার রহমানের উৎপাদিত ফুলের মধ্যে রয়েছে, গোলাপ, সূর্যমূখী, রজনীগগ্ধা, ডালিয়া, ঘাস ফুল, গাধা, জারবারা ইত্যাদি।

হাবিজার রহমান জানায়, বিগত পাঁচ বছর আগে ফুল উৎপাদন শুরু করে মাত্র পনের শতাংশ জমিতে। ফুল বিক্রির লাভ থেকে তিনি এ পর্যন্ত তিন বিঘা জমি ক্রয় করেছেন, ছোট ভাইকে দোকান কিনে দিয়েছেন রংপুর সিটি শহরে, দুই মেয়ের লেখাপড়াসহ পুরো পরিবারের খরচ চলে এই ফুল বিক্রির টাকা দিয়ে।

তার বাবা আবুল হোসেন একজন দিনমজুর। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়, ছোট ভাই আফছার আলী সৌদি আরব প্রবাসী, সব ছোট ভাই মিন্টু মিয়া ফুলের ব্যবসা করেন রংপুর শহরের পুলিশ লাইন এলাকায়।

বাবা আবুল হোসেন, ছোট ভাই মিন্টু মিয়া, স্ত্রী সুফিয়া বেগম ও দুই মেয়ে নিয়ে হাবিজার রহমানের সংসার।
তিনি আরও জানান, দুই বিঘা জমিতে ফুল চাষে মাসিক ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর খরচ বাদে প্রতিমাসে প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো আয় হয়। বাগানের সকল প্রকার কাজে স্ত্রী সুফিয়া বেগমসহ পরিবারের সবাই তাকে সাহায্য করে। এতে করে বাগানের কাজের জন্য অন্যকোন শ্রমিক প্রয়োজন হয় না তার।

একই গ্রামের নুরুল হক জানালেন, হাবিজার রহমান কিছু দিন আগে অনেক কষ্টে দিনাতিপান করেছেন। কখনও শ্রমিকের কাজ, আবার কখনও বা ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু ফুল চাষ শুরু করার পর থেকে তার ভাগ্যের চাকা খুলে গেছে। এখন তিনি একজন সফল ফুলচাষী ও স্বাবলম্বী ব্যক্তি। এছাড়াও ফুলের বাগানের চারপাশে কয়েক’শ লেবুর গাছ রয়েছে তার। এ থেকেও তার বাৎসরিক অনেকটা আয় হয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার সত্যেন কুমার জানান, হাবিজার রহমান ফুল চাষ শুরু করার পর থেকেই কৃষি অফিসের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। হাবিজার রহমানের দেখে ওই এলাকার অনেকেই এখন ফুল চাষের দিকে ঝুকে পড়েছেন বলে জানান তিনি। কিন্তু চলমান অবরোধ-হরতালে সঠিক সময়ে ফুল রংপুর পৌঁছাতে না পেরে অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন এই ফুল চাষী।

ইআর