বসফরাস প্রণালীতে রাশিয়ার কয়েক ডজন জাহাজ আটকে দিয়েছে তুরস্ক। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুৎনিক জানিয়েছে, আটকে দেয়া জাহাজ কৃষ্ণসাগর থেকে বসফরাস প্রণালী পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগর দিয়ে সিরিয়ার পথে ছিল। কিন্তু তুর্কি কর্তৃপক্ষের বাধার কারণে এসব জাহাজ আটকে রয়েছে এবং তুরস্কের সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তুরস্কের এ পদক্ষেপকে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিষ্কার লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। রাশিয়া সীমান্তে এক হাজারের বেশি তুর্কি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে দেয়ার পর বসফরাস প্রণালীতে রুশ জাহাজ আটকে দেয়ার খবর বের হলো।
রুশ-তুর্কি বাগযুদ্ধ:
জাহাজ আটকে দেয়ার ঘটনার পাশাপাশি তুরস্ক ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার মধ্যে বাগযুদ্ধ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সর্বশেষ খবর হচ্ছে- “রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জোরালো ভাষায় বলেছেন, সিরিয়া ও ইরাক থেকে আইএস যে তেল পাচার করছে তাতে সহযোগিতা করছে তুর্কি সরকার। সন্ত্রাসীরা তুরস্কের কাছে অর্ধেক দামে তেল বিক্রি করছে। এই তেলের বহরে হামলা চালিয়ে এক হাজারের বেশি ট্রাক ও ট্যাংকার ধ্বংস করার কারণে তুরস্ক অতিমাত্রায় ক্ষিপ্ত হয়েছে এবং গত ২৪ নভেম্বর রুশ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে।”
প্রেসিডেন্ট পুতিন আরো বলেছেন, এ বিষয়ে তার কাছে নতুন বাড়তি প্রমাণ এসেছে। একইসঙ্গে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের ছেলে বিলাল এরদোগান এই তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও রাশিয়ার সরকার ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো গণমাধ্যম বিলাল এরদোগানকে আইএস’র তেলমন্ত্রী বলেও আখ্যা দিয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না- রুশ হামলার কারণে আমেরিকা, ইসরাইল ও তুরস্কের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
খুব সাম্প্রতিক এক তথ্যে বলা হয়েছে- দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়া থেকে যে তেল চুরি করে সন্ত্রাসীরা তুরস্কের কাছে বিক্রি করেছে তাতে তুরস্কের কাছে সিরিয়ার পাওনা হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, সিরিয়া ও ইরাক থেকে সম্মিলিতভাবে ইসরাইল এবং তুরস্ক যে পরিমাণ অবৈধভাবে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তেল নিয়েছে তাতে ওই দুই দেশের কাছে দামেস্ক ও বাগদাদের পাওনা হয়েছে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এসব তেল পাচার হয়েছে সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ট্যাংকারের মাধ্যমে এবং ইরাকের কিরকুক তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তুরস্ক হয়ে।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বক্তব্য অস্বীকার করে এরদোগান বলেছেন, আইএস’র তেল পাচারে তুরস্ক সরকার সহযোগিতা করছে এমন ঘটনা প্রমাণ করতে পারলে তিনি তিনি পদত্যাগ করবেন। এর আগে তিনি রাশিয়াকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, “আগুন নিয়ে খেলবেন না।” রুশ বিমান ভূপাতিত করার বিষয়ে তুরস্ক ক্ষমা চাইবে না বলেও এরদোগান ও প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাউদওগ্লু বার বার উল্লেখ করেছেন।
সীমান্ত রক্ষার জন্য এ বিমান ভূপাতিত করে তুর্কি সামরিক বাহিনী জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে বলেও তুরস্কের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তুরস্ক যখন এ বক্তব্য দিচ্ছে তখন তাদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করছে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা ন্যাটো। আর আমেরিকার সমর্থন তো আছেই। সে কারণে রাশিয়া তার পাইলট ও বিমান হারিয়ে যেমন শক্ত অবস্থান নিয়েছে, তেমনি তুরস্কও শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে।
এ অবস্থায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যার কারণে দু দেশের মধ্যে এমনকি রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হতে পারে। অনেক সামরিক বিশ্লেষক আশংকা করছেন- সম্ভাব্য এ যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত পরমাণু যুদ্ধেও রূপ নিতে পারে। সে আলোচনায় যাওয়ার আগে প্রাসঙ্গিক আরো কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজন।
জাহাজ আটক ও মনট্রিয়াক্স কনভেনশন:
জাহাজ আটকে দেয়া প্রসঙ্গে রাশিয়ার নৌবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ ভিক্টোর ক্রাভচেংকো বলেছেন, তুরস্ক যদি একতরফাভাবে বসফরাস প্রণালী বন্ধ করে দেয় তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তিনি আশা করেন, রাশিয়ার জাহাজগুলোকে সিরিয়ায় যাওয়ার পথ বন্ধ করবে না তুরস্ক। যদি এমনটি করে তবে তা হবে মনট্রিয়াক্স কনভেনশনের লঙ্ঘন। ওই কনভেনশনে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ সই করেছিল।
১৯৩৬ সালে সুইজার্যলান্ডের মনট্রিয়াক্স শহরে বসফরাস ও ডারডানেলেস প্রণালী ব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে যে প্রস্তাব পাস হয়েছিল তাই মনট্রিয়াক্স কনভেনশন নামে পরিচিত। কনভেনশনের আর্টিকেল-টু-তে বলা হয়েছে- “যেকোনো দেশের পতাকাধারী কার্গো ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দিনে কিংবা রাতে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে।”
“শান্তিকালীন চলাচলের ক্ষেত্রে সব দেশের নৌবাহিনীর ছোট এবং মাঝারি আকারের যুদ্ধজাহাজগুলোকে তুরস্ক অবশ্যই পথ করে দেবে। কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী শক্তি (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং আজকের রাশিয়া) এ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রেও শুধু শর্ত থাকবে যে, জাহাজগুলো একেক করে প্রণালী পার হবে এবং দুটির বেশি ডেস্ট্রয়ার সে জাহাজকে এস্কর্ট করে নিয়ে যেতে পারবে না। আর যুদ্ধের সময় যুদ্ধজাহাজগুলোর চলাচল সম্পূর্ণভাবে তুর্কি সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।”
১৯৮২ সালে জাতিসংঘ এ আইন আরো বিস্তৃত করে কিন্তু তুরস্ক তাতে যোগ দিতে অস্বীকার করলে মন্ট্রিয়াক্স কনভেনশনই বলবত থেকে যায়। তবে ১৯৯৪ সালে এ প্রণালী দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে তুরস্ক একতরফা নতুন আইন পাস করে।
ধারণা করা হচ্ছে- রাশিয়ার ক্ষেত্রে তুরস্ক তার নিজের আইন বলবৎ করেছে অথচ কিছুদিন আগে ফ্রান্সের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘চার্লস দ্যা গলে’-কে তুরস্কের মেরসিন বন্দর ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে এবং ফরাসি জঙ্গিবিমানগুলো তুরস্কের ইনসিরলিক বিমানঘাঁটি ব্যবহার করছে।
দুই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তুরস্কের হাতে:
কৃষ্ণসাগর থেকে বসফরাস প্রণালী পাড়ি দিয়ে মর্মর সাগর হয়ে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর আগে রুশ জাহাজগুলোকে ডারডানেলেস প্রণালী ও এজিয়ান সাগর পার হতে হবে। এখানে উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে- বসফরাস ও ডারডানেলেস প্রণালী দুটিতেই তুরস্কের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বসফরাস প্রণালী তুরস্ককে দু ভাগ করেছে এবং এর এক পাড়ে পড়েছে আংকারা অন্য পাড়ে ইস্তাম্বুল।
এজিয়ান সাগরে পৌঁছানোর আগে যে ডারডানেলেস প্রণালী পার হওয়ার প্রশ্ন তাতেও তুরস্কের বিরাট নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মর্মর সাগরের এক মাথায় বসফরাস প্রণালী আরেক মাথায় ডারডানেলেস প্রণালী। ভূমধ্যসাগর হয়ে সিরিয়ায় যেতে গেলে এ পথ ছাড়া রাশিয়ার জন্য আপাতত সহজ বিকল্প পথ মেলানো মুশকিল। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে তুরস্ক যদি সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ করতে চাই তাহলে রাশিয়ার জন্য তা বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
পরমাণু যুদ্ধের আশংকা:
সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলা শুরুর পর থেকেই বৃহত্তর যুদ্ধের একটা আশংকা ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ নভেম্বর তুরস্কের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার বোমারু বিমান ভূপাতিত করার পর সে আশংকা জোরদার হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, এর জন্য মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে। পুতিনের এ বক্তব্য থেকে বিশ্লেষকরা আশংকা করছেন, মস্কো হয়ত পরমাণু যুদ্ধের অবতারণা করতে পারে। আর এ আশংকার কথা তুলে ধরেছেন লেখক, সাংবাদিক ও খ্যাতনামা অনুবাদক পোলিনা তিখোনোভা। তিনি আমেরিকা, ইউরোপ, রাশিয়া ও ইউক্রেনের বহু মিডিয়ায় কাজ করেছেন। “তুরস্ককে পরমাণু যুদ্ধের সিগন্যাল পাঠালো রাশিয়া” এ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে তিনি বলছেন, “বিভিন্ন খবর থেকে জানা যাচ্ছে- রাশিয়া এবং তুরস্কের মধ্যে একটি পরমাণু যুদ্ধ বেধে যেতে পারে।”
এ বিষয়ে রাশিয়ার সর্বজন শ্রদ্ধেয় সামরিক বিশ্লেষক পাভেল ফেলগেনগাওয়ার বলেছেন, “তুরস্কের পেছনে রয়েছে ন্যাটো এবং ন্যাটোর আর্টিকেল-ফাইভে বলা হয়েছে এ জোটের কোনো একটি সদস্য দেশ শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হলে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ বলে ধরে নিতে হবে। এ অবস্থায় ন্যাটো যদি হামলা চালায় তাহলে খুব সম্ভবত রাশিয়া একটি পরমাণু যুদ্ধ শুরু করবে। বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর সে আশংকা জোরদার হয়েছে।”
এক বোমায় ধ্বংস হবে তুরস্ক:
সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকিতে বলা যায় ঘি ঢেলেছেন রাশিয়ার বিরোধীদলীয় এমপি ভ্লাদিমির ঝিরনোভস্কি। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে সহজেই তুরস্ককে ধ্বংস করা সম্ভব। ঝিরনোভস্কি বলেছেন, “প্রণালী দুটির ভেতরে শুধুমাত্র একটি পরমাণু বোমা মারুন এবং তাতে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস হবে। বোমার আঘাতে ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচুতে উঠবে পানি এবং পুরো শহর হারিয়ে যাবে।” ব্রিটেনের ডেইলি মেইল তার এ বক্তব্য প্রচার করেছে।
রুশ বিমানকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করুন:
ব্রিটিশ কয়েকটি সূত্র থেকে বলা হয়েছে, “তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান রুশ বিমান ভূপাতিত করার বিষয়ে মস্কোর কাছে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আবার যদি আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে তাহলে তার দেশের জঙ্গিবিমান ঠিক একই কাজ করবে।” তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, তুরস্কের আনাতালিয়া শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সময় তিনি তার দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন না করার জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সতর্ক করে দেন।
জবাবে পুতিন নাকি রাশিয়ার বিমানকে “মেহমান” হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বলেছেন। জবাবে এরদোগান বলেছেন, তার দেশ কোনো “আমন্ত্রণবিহীন অতিথিকে গ্রহণ করবে না”। এছাড়া, গত শুক্রবার এরদোগান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্যও পুতিনকে অভিযুক্ত করেছেন। সে সময় সিরিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেন তিনি।
এর আগে, রুশ বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর পুতিন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে বলেছিলেন- “সন্ত্রাসীদের সহযোগী” এবং আইএস’র তেল পাচার থেকে তুরস্কের কর্মকর্তারা লাভবান হচ্ছেন। পুতিন আরো বলেছিলেন, রুশ হামলায় যেহেতু আইএস’র তেল ট্যাংকার ধ্বংস হয়ে গেছে সে কারণেই তুরস্ক রুশ বিমান ভূপাতিত করেছে।
রাশিয়া ও ন্যাটোর প্রস্তুতি:
রুশ বিমান ভূপাতিত হওয়ার পরপরই সিরিয়ায় এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এর ফলে সিরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় চলে এসেছে। এস-৪০০ হচ্ছে এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা আমেরিকার বিদ্যমান ব্যবস্থার চেয়েও উন্নত।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র যেমন চিহ্নিত করা যায় তেমনি তা প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে। এতে রাডার সিস্টেম থাকে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। রাশিয়া এস-৪০০ মোতায়েনের পাশাপাশি নতুন করে অত্যাধুনিক সুখোই-৩৪ বিমান মোতায়েন করেছে সিরিয়ায়। এ বিমান বোমা হামলার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে শত্রুর বিমান ঘায়েল করতে পারে।
এদিকে, তুরস্ক যেহেতু ন্যাটোর সদস্য সে কারণে ন্যাটোকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় তুরস্ককে এখন সমর্থন দিতেই হচ্ছে। যদিও অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন, আমেরিকা তথা ন্যাটোর উসকানি ও অনুমোদনে তুরস্ক রুশ বিমান ভূপাতিত করেছে। রুশ বিমান অভিযান শুরুর পরপরই তুরস্ক, আমেরিকা, ন্যাটো, সৌদি আরব ও ফ্রান্স এক সুরে বলেছে, রাশিয়াকে এজন্য চরম মূল্য দিতে হবে। বিষয়টি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনেরও মাথায় রয়েছে বলেই মনে হয়। সে কারণে তিনি একদম কম প্রস্তুতি নিয়ে সিরিয়ায় বিমান অভিযানে নেমেছেন তা ভাবার কোনো কারণে নেই। এরমধ্যে আমেরিকা সিরিয়ায় স্থল সেনা পাঠিয়েছে।
এছাড়া, ৫০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশ রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করল। সিরিয়ায় মার্কিন কমান্ডো সেনা পাঠানোর ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এপাশে তুরস্কের বসফরাস প্রণালীতে রুশ জাহাজ আটকে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ন্যাটো দেশগুলোও সিরিয়ার আশাপাশে তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে বলে রুশ বার্তা সংস্থা স্পুৎনিক খবর দিচ্ছে।
তুরস্ক রাশিয়ার জাহাজ আটকে দেয়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা কোথায় গিয়ে শেষ হয় সেটি দেখার বিষয়। আবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বক্তব্য অনুযায়ী তুরস্ক যদি নতুন করে রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করে তাহলে রাশিয়া তুরস্কের ওপর হামলা চালাবে-তাতে সন্দেহ থাকার কারণ নেই। এমন হলে ন্যাটো জোট তার চার্টার অনুযায়ী শত্রুপক্ষ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য। এ অবস্থায় আশংকা জোরদার হচ্ছে- দু পক্ষের মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
পরিস্থিতি এমন হলে খুব দ্রুতই এতে আমেরিকার আঞ্চলিক মিত্র সৌদি আরবসহ অন্য কয়েকটি আরব রাষ্ট্র এবং ইসরাইল যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে। এমন যুদ্ধ শুরু হলে ২৮ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাটো জোটের চেয়ে আপাতত সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে থাকবে রাশিয়া। সেক্ষেত্রে যুদ্ধের প্রথম ধাক্কা সামলে নিতে রুশ বাহিনী পরমাণু বোমা ব্যবহার করে বসতে পারে এবং সে হামলা হতে পারে তুরস্কের ওপর।
বলা হয়- যেকোনো বড় যুদ্ধ শুরুর জন্য “স্ফুলিঙ্গ” দরকার। সিরিয়া ইস্যুতে সে স্ফুলিঙ্গ এরইমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। বিমান ভূপাতিত করে স্ফুলিঙ্গ তৈরি করে দিয়েছে তুরস্ক। এর জের ধরে যদি পরমাণু যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে বিশ্বের চেহারা কী হবে তা ধারণা করাও মুশকিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা সবেমাত্র পরমাণু বোমা অর্জন করেছিল কিন্তু এখন তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী শত-সহস্র বোমার অধিকারী বিশ্বের অনেকগুলো দেশ। নিশ্চয় আমরা এ মুহূর্তে অনেক বেশি অনিরাপদ বিশ্বে বসবাস করছি।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, রেডিও তেহরান





