কিন্তু সবগুলো দেশ চুক্তিতে সম্মত না হওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমা একদিন বাড়িয়ে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এই বর্ধিত শেষদিনে জীবাশ্ব জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধে সম্মত হয় প্রায় ২০০ দেশ। যাকে ৩০ বছরের ইতিহাসে ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি হিসেবে মনে করছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশসহ অপর দেশগুলোর কী প্রত্যাশা ছিল এবং কি পেয়েছে তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
নানা আলোচনা ও দর কষাকষির পর সম্মেলনের বর্ধিত দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এড়াতে তেল, গ্যাস ও কয়লার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধে সম্মত হয়েছেন প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধি।
এবারের সম্মেলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় ছিল জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের বিষয়টি। এরই মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে না পারায় বিশ্বের তাপমাত্রা যে বাড়তে শুরু করেছে সে ব্যাপরে একমত ছিলেন বিশ্ব নেতারা। কিন্তু কখন বা কীভাবে এ জ্বালানি ব্যবহার কমানো হবে, সে বিষয়ে কোনো দেশের সরকার কখনোই একমত হতে পারেননি।
এর আগে আলোচনার এক পর্যায় এবারের সম্মেলনের সভাপতি সুলতান আল জাবের নিজেই বলেছিলেন, ‘এমন কোনো বিজ্ঞান নেই যা নির্দেশ করে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন।’
যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন কপ-২৮ এর সভাপতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় তেল কোম্পানির প্রধান সুলতান আল জাবের। তবে সম্মেলনের শেষ দিনে তার মুখে শোনা যায় অন্য সুর। তিনি বলেন, ‘তেল, গ্যাস ও কয়লার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধের চুক্তিটি একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। যা জলবায়ুতে অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে।’
জাবের আরও বলেন, ‘বিশ্বনেতারা এ পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে বেশ নমনীয়তা দেখিয়েছেন। তারা নিজেদের স্বার্থের চেয়ে সাধারণ স্বার্থকে এগিয়ে রেখেছেন। আমরা বহুপাক্ষিকতার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করেছি। বিশ্ব মানবতা একত্রিত হতে পারে তা আমরা দেখিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি।’
অপরদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে জাতিসংঘের গৃহীত চুক্তিতে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সৌদি আরব। এবারের জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের প্রশংসা করে এটিকে ‘মহান সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছে দেশটি। কপ-২৮ সম্মেলনে সৌদি কর্মকর্তা আলবারা তৌফিক বলেছেন, ‘প্রথমবারের মতো একটি বিশ্বব্যাপী সফল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য সব রাষ্ট্রীয় পক্ষের প্রচেষ্টার প্রতি আমি আরব দেশের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস্পেন বার্থ আইদা বলেছেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে এই প্রথম পরিষ্কার একটি প্রস্তাবনাকে ঘিরে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। যদিও সিদ্ধান্ত গ্রহনটা এক পর্যায় অনিশ্চি হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা এর মোকাবিলা করতে পেরেছি।’
কী আছে খসড়া চুক্তিতে
খসড়া প্রস্তাবের চুক্তিতে বলা হয়েছে, শক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসার জন্য প্রভাবশালী দেশগুলোকে একটি ন্যায্য, ধারাবাহিক ও ন্যায়সঙ্গত পন্থা অবলম্বন করতে হবে, যাতে বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে ২০৫০ সালের মধ্যে এর ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। প্রস্তাবিত চুক্তিতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তিনগুণ করারও আহবান জানানো হয়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ক্রমশ বন্ধ করতে পশ্চিমা দেশগুলো এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়াসহ ঝড়ঝাপটার হুমকির মুখে থাকা সাগর তীরবর্তী ভুক্তভোগী দেশগুলোর দাবির প্রশ্নে এ খসড়ার ভাষা আগের বাতিল হওয়া প্রস্তাবনাগুলোর চেয়ে অনেক শক্তিশালী। প্রায় ২০০ দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে যা এবারের সম্মেলনে অনুমোদন দেয়া হয়।
এবারের চুক্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জনে ক্রমান্বয়ে একটি ন্যায্য, সুশৃঙ্খল ও সমতাভিত্তিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার তিনগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে। কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজের মতো প্রযুক্তির সহায়তায় কয়লার ব্যবহার কমানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় সদস্য দেশগুলোকে এখন তাদের জাতীয় নীতিমালা ও বিনিয়োগ কৌশলের সমন্বয় ঘটাতে বলা হয়েছে।
এর আগে গ্লাসগো ও শার্ম আল শেখে কপ-এর আসরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার জন্য ‘ফেজ আউট’ ও ‘ফেজ ডাউন’ শব্দগুলো ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক হয়। সম্মেলনে সেই বিতর্ক এড়াতে ‘ট্রানজিশন অ্যাওয়ে’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কী?
কপ–২৮ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান ঘোষণা করেছে। বলা হয়েছে, শিল্পোন্নত দেশগুলো যাতে জলবায়ুর ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে অন্য কোনো খাত থেকে অর্থ এনে না দেয়। অর্থাৎ জিসিএফ ও অভিযোজন তহবিলে অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে নতুন তহবিলে বরাদ্দ না দেয়, এ ব্যাপারে বিশ্ববাসীকে শতর্ক করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, বিশ্বের তাপমাত্রা এ শতাব্দীর মধ্যে যাতে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে, সেই লক্ষ্যে শিল্পোন্নত দেশগুলোতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে জিএসটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে কার্বন নিঃসরণ না কমালে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। ফলে এ শতাব্দীর মধ্যে যাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি না পায়, এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২০৩৫ সালের মধ্যে তিনগুণ বাড়াতে হবে।
এ পুরো সম্মেলনেই আলোচনা হয়েছে- তেল, কয়লা এবং গ্যাস পোড়ানোর কারণে নিঃসরিত গ্রিনহাউজ গ্যাস কীভাবে কমিয়ে আনা যায়। কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, ঝুঁকির মুখে পড়ছে লাখ লাখ মানুষের জীবন। যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
এবারের সম্মেলনে প্রথম দিনেই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক তহবিল ঘোষণা করে বিভিন্ন দেশ। কিন্তু প্রথম দিন যে পরিমাণ তহবিলের ঘোষণা এসেছে, তা শেষ পর্যন্ত খুব একটা আশার মুখ দেখেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির তহবিলের চেয়ে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো অভিযোজন তহবিলের বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশের জলবায়ু বিষয়ক দূত সাবের হোসেন চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজের প্রাথমিকভাবে যে তহবিল এসেছে, তা আমার কাছে সামান্য মনে হয়নি। কেবল তো শুরু হলো তহবিল আসা। আমার ধারণা এটা সামনে আরও অনেক বাড়বে। তবে ক্ষয়ক্ষতির তহবিলের চেয়ে বাংলাদেশের জন্য অভিযোজন তহবিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন না, অভিযোজন হলো জীবন-মরণের ব্যাপার। আমরা জীবন ও জীবিকা এবং অভিযোজনে কোনো আপস করতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহ করার বিষয়টি আমাদের কাছে মুখ্য। এ ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা কতটুকু সেটা ভাবতে হবে। শুধু তাই নয়, এ অর্থ সংগ্রহের পর আমি যাদের উদ্দেশ্যে আনছি, তাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেসব বিষয় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এমনকি স্বচ্ছতার মাধ্যমে সঠিক উদ্দেশ্যে অগ্রসর হতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যারা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তাদের কাছে অর্থটা সঠিকভাবে পৌঁছানো।’
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা ক্ষতিপূরণ পাবো সে বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে সাবের হোসেন বলেন, 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড সংগ্রহের যে প্রস্তুতি প্রয়োজন সেই সিদ্ধান্ত আমরা এরই মধ্যে নিয়ে ফেলেছি। সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি। ওদের চাহিদা কী, সে আলোকে আমাদের কাঠামো কী হবে, আমাদের কী কী দরকার ও পরিবর্তন আনতে হবে সেইসব কিছুর কাজ আমরা শুরু করেছি।’
অভিযোজন তহবিল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘জলবায়ু তহবিল ঘোষণা হলেও অভিযোজন তহবিল বাস্তবায়নের দিকে নজর ছিল আমাদের। এবারের সম্মেলনে এ অভিযোজন তহবিল নিয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়নি। এমনকি যে সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ছিলাম তা বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোজন তহবিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৫০ শতাংশ ঘাটতি এখনো আছে। তবে এ সম্মেলনের সবচেয়ে বড় অর্জন জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল গঠন চূড়ান্ত হওয়া।’
ফারাহ কবির আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে গেছে। এসব দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দিতে হবে। বাংলাদেশ যাতে ওই তহবিল থেকে দ্রুত বরাদ্দ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দিতে পারে, সে ব্যাপারে মনোযোগ দিতে হবে।’
এদিকে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসির পরিচালক পার্থ হেফাজ শেখ মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে উত্তরণ ঘটাতে চাইলে বাংলাদেশের লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলের আশায় বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের জায়গা থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে যা যা দরকার তার সবই করতে হবে।
পার্থ হেফাজ শেখ আরো বলেন, ‘আমাদের ক্ষতিপূরণ তহবিলের আশায় বসে থাকলে চলবে না। এতে যত দিন যাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে থাকবে। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে নিজেদের প্রস্তুত থাকতে হবে, কাজ করতে হবে।’
সব সম্মেলনই আশা দেয়, আবার দুঃখও দেয়। এবারও তাই ঘটেছে মন্তব্য করে পার্থ হেফাজ বলেন, প্রথম দিনেই এবারের সম্মেলনে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের মতো তহবিল ঘোষণা হয়েছে তা আশার আলো দেখায়। এ তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কিছু অর্থ সহায়তা পাবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ-এর মতো বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বিষয়ে সচেতন। কারণ বাংলাদেশ এরইমধ্যে মারাত্মক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এ বছর সবচেয়ে উষ্ণতম বছর পার করেছে। এক বছরেই ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট চারটি ঘূর্ণিঝড়ের মুখে পড়েছে। তবে এই সম্মেলন থেকে না হলেও বহুপাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তহবিল পাওয়ার বিষয়ে আশা রয়েছে।’
এডিবি, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ৫ বিলিয়নের একটা বিশেষ তহবিল তৈরি করতে যাচ্ছে। এটা একটি সুসংবাদ বলে মনে করেন উপকূল ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী।
তিনি বলেন, অভিযোজন তহবিলে ১০০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জার্মানি। আমেরিকার মতো দেশ যারা ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার দিলেও জলবায়ু তহবিলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মাত্র ১৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। তাই সব মিলিয়ে বাংলাদেশ অ্যাডাপটেশন ফান্ডের ২০০ মিলিয়নের মতো অর্থ পেতে পারে, যা আসলে প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আমরা যেখানে ট্রিলিয়ন ডলার আশা করছিলাম, এমনকি তারা কমিটমেন্ট করেছিল প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের, সেটা এখন মিলিয়নে নেমে এসেছে। সুতরাং অ্যাডাপটেশন ফান্ডেও আমরা খুব বেশি তহবিল আশা করতে পারছি না।’
এ বিষয়ে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার পাশাপাশি ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের তহবিল বিষয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছিল। এবারের সম্মেলনের প্রথম দিনেই বিপুল পরিমাণ লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল ঘোষণা করা হয়। যা কি না বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করছি জলবায়ুতে বরাদ্দ ক্ষয়ক্ষতির তহবিল বাংলাদেশও পাবে।’
কপ-২৯ সম্মেলন হবে আজারবাইজানে। দুবাই সম্মেলন থেকে ১১ ডিসেম্বর নতুন আয়োজক দেশ নির্বাচন করা হয়। এ বছর আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার অতিথি রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন।





