রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা ইয়াছিন রানা যাবেন বাংলামোটর। সকাল থেকে বৃষ্টিতে পানিতে ভেসে গেছে সমস্ত এলাকা। একটি রাস্তায় নেই যেই রাস্তায় হাটু থেকে কমর পানি না। কি আর করবো প্যান্ট হাটু পর্যন্ত তুলে বিশ মিনিট হেটে এর পর মেইন রোডে এসে বাসে উঠলাম। এরপর বাংলামোটর আসছি।

ইয়াছিন রানা বলেন, সরকারের কাছে আবেদন হয় জলাবদ্ধতা দূর করেন, না হয় রাস্তার উপর দিয়ে ব্রিজ করে দেন।ঈদের দ্বিতীয় দিনের বর্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এমনই ক্ষোভের কথা জানালেন তিনি।

সকাল থেকে থেমে থেমে, কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি আবার কখনও বৃষ্টি হচ্ছে প্রবল। আর বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় রাজধানীর ব্যস্ততম প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন অলিগলিতে হাঁটু পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

রোববার রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, আগারগাঁও, মিরপুর, যাত্রাবাড়ি, খিলক্ষেত, দক্ষিণখানসহ বেশকিছু এলাকা ও মহাসড়কে বৃষ্টির কারনে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অপরিকল্পিত নগরায়নে পানি জমার সমস্যাটা দিন দিন প্রকট হচ্ছে বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

এদিকে গুঁড়ি গুঁড়ি আর ভারি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঈদে ঘুরতে বেরিয়েছেন নগরবাসী। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতা ঈদ আনন্দে ভাটা পড়ছে। ঈদে নতুন জামা-কাপড় পরে রাস্তায় বের হয়ে বিড়ম্ভনায় পরেছেন অনেকে। আবার জলাবদ্ধতার কারণে জুতা খুলে যাতায়াত করতে দেখা গেছে অনেককে। কোথাও কোথাও রাস্তায় জমে থাকা পানি বাসে উঠার সিড়ি পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। এতে বাসে উঠা-নামা করার সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

এদিকে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের ওপর দিয়ে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন সারাদেশে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুরে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

নগরীর সড়ক গুলোতে পানি জমে যাওয়ায় বাস, ট্যাক্সিসহ গণপরিবহন কম দেখা গেছে রাস্তায়। আবার অনেক রাস্তায় খানা খন্দকে রিকশা ভ্যান পড়ে আহতও হয়েছেন। এলাকার অনেক অলিগলির ড্রেন উপচে পড়ে রাস্তাঘাট ঘর বাড়িতে পানি একাকার হয়ে গেছে। ফলে রাস্তায় জন-সাধারণের ভোগান্তি চোখে পড়ার মতো।

এদিকে বৃষ্টির কারণে যানজট নামক এ দুর্ভোগে প্রতিনিয়ত ভুগছেন এবং ভোগান্তি আরো বেড়ে যাচ্ছে। অথচ সিটি নির্বাচনের কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও এ সমস্যা সমাধানে মেয়রদের কোনো উদ্যোগই পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা জাহিদ হাসান যাবেন পল্টনে। সকাল থেকে বৃষ্টিতে মালিবাগ জমেছে হাঁটু পানি। শান্তিনগর কর্ণফুলী গার্ডেন থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত রাস্তায় হাঁটু পানি। জলাবদ্ধতার বিড়ম্ভনায় পড়ে তিনি জানালেন, মেইন রোডে হাটুঁ পানি জমে গেছে। কিভাবে যাবো। জুতা হাতে নিয়ে ময়লা পানি পেরিয়ে যাচ্ছি।

জাহিন বলেন, বৃষ্টির দিনে বৃষ্টি হবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা, জরাজীর্ণ রাস্তার সংস্কার না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে।

এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়নে পানি জমার সমস্যাটা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এছাড়া প্রতিবছর কার্পেটিং করায় অধিকাংশ সড়ক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উঁচু হচ্ছে। আর বসত এলাকা নিচু হচ্ছে।

এছাড়া জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসাবে রাজধানীর অপরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা দায়ী। আর পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে রাজধানীবাসীর দুর্দশা আরো বাড়বে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

ইআর