বক্সিংয়ের ইতিহাসের উজ্জল নক্ষত্র মোহাম্মদ আলী ক্লে। এই বিশ্ববিখ্যাত বক্সার যখন ক্যারিয়ারের চূড়ায় অবস্থান করছেন, দুনিয়াজুড়ে যখন তাকে নিয়ে মাতামাতি তখনই তিনি খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে আশ্রয় নিয়েছিলেন শান্তির ধর্ম ইসলামের পতাকাতলে।
জীবনের ঝুঁকি, তারকাখ্যাতি ভূলুণ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি এবং সর্বপরি তারকাদের জন্য সবচেয়ে অশ্বস্তিকর সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিকে দু পায়ে ঠেলে দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন ইসলাম গ্রহণের কথা।
নিজেকে মুসলমান ঘোষণা করার পর থেকে এক মুহুর্তের জন্যও আপোষ করেননি অন্যায়ের সাথে। নিজ দেশ আমেরিকার হাজারো চাপ সত্ত্বেও অংশ নেননি ভিয়েতনাম যুদ্ধে। এজন্য তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছিল বিচারের। তবুও মাতা নত করেননি অন্যায়ের সামনে।
যাই হোক, এই বক্সারের বৈচিত্রময় জীবনের একেক দিক যেন এক একটি সমুদ্র। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে, হবে। যুগের পর যুগ চলতে থাকবে এই আলোচনা।
তবে, এই বক্সারের মধ্যে মানবিক প্রেম, মমত্ব ও ভালোবাসা ছিল অসামান্য। তার লড়াকু জীবনের ডামাডোলে অনেক সময়ই হারিয়ে যায় তার মানবিক জীবনের নানা দিক।
এই কীংবদন্তী বক্সার শিশুদের প্রচন্ড ভালোবাসতেন। কোলে তুলে নিতেন। পরম আদরে চুমু দিতেন। মনে হয় যেন এক নরম-কোমল হৃদয়ের বাবা তার সন্তানকে আদর করছেন। এমন কারো হাতের মুষ্টি যে মুহুর্তেই ধরাশায়ী করে দিতে পারে বিশাল দেহের কোন দ্বৈত্যাকার ব্যক্তিকে তা যেন বিশ্বাস করাই কষ্টকর।
দেখুন নিচের ভিডিও ক্লিপিংয়ে কিভাবে বক্সিংয়ের কিংবদন্তী হেরে গিয়েছিলেন এক মাছুম বাচ্চার কাছে। বাচ্চাটির একের পর এক আঘাতে ধরাশায়ী হয়েছিলেন এই অপ্রতিহত বক্সার।
তবে মানুষ জীবনে যত সফলতাই অর্জন করুক না কেন, নিজ অঙ্গনে যতটাই শক্তিশালী হোক না কেন, একদিন না একদিন তাকে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়মের কাছে যে হেরে যেতে হয় তার এক জ্বলন্ত উদাহরণও যেন এই মহামানব।
এত শক্তিশালী, প্রতিপক্ষের কাছে এক মূর্তিমান আতংক, কীংবদন্তীর বক্সার জীবনের শেষ দিনগুলোতে ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারতেন না। বয়স, আর অসুস্থতা তাকে এতটাই কাবু করে দিয়েছিল যে তার হাতের মুষ্ঠিতে যে এককালে বজ্রপাত হতো তা যেন বিশ্বাস করাই ছিল অসম্ভব।
২০১৩ সালে এই কীংবদন্তীর ৭০তম জন্মদিনের এই ভিডিও ক্লিপিংটি দেখা যেতে পারে। এ যেন সবাইকে মনে করিয়ে দেয় পবিত্র আল-কুরআনের সূরা আল হাজ্জের ৫ থেকে ৬ নম্বর আয়াতের কথা।
"হে মানবজাতি! যদি পুনরুত্থান সম্পর্কে তোমাদের সন্দেহ থেকে থাকে, তবে জেনে রাখ, আমরা তোমাদের প্রথমে মাটি হতে সৃষ্টি করেছি, পরে শুক্র হতে, তারপর ঘনীভূত রক্ত হতে, অতঃপর পূর্ণাকৃতি প্রাপ্ত এবং অপূর্ণাকৃতি মাংসপিণ্ড হতে; যাতে তোমাদের জন্য স্পষ্ট করে দিই (যে, আমরা তোমাদের পুনরুত্থিত করতে সক্ষম)। এবং যাকে আমরা ইচ্ছা করি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাতৃগর্ভে রেখে দিই, অতঃপর আমরা তোমাদের শিশুরূপে বের করি; পরে (তোমাদের জীবিত রাখি) যাতে তোমরা পরিণত বয়সে উপনীত হও। এবং তোমাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে মৃত্যুদান করা হয় এবং কিছু সংখ্যককে এমন জরাগ্রস্ত বার্ধক্যে উপনীত করা হয় যে, তারা যা জানতো তার সবই ভুলে যায়। এবং তুমি ভূমিকে শুস্ক বা মৃতবৎ দেখে থাক, অতঃপর যখন আমরা তার ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও বর্ধিত হতে থাকে এবং সব ধরনের দৃষ্টিনন্দন (উদ্ভিদ) উদ্গত করে।"
দেখুন বয়স আর অসুস্থতায় নুব্জ এই ব্যক্তিটি কিভাবে তার যৌবনে সব কিছুকে তাসের খড়ের মতো উড়িয়ে দিতেন। হাতের এক একটি বক্সিং যেন এটম বোমার মতো আঘাত হানতো প্রতিপক্ষের মুখে, মুহুর্তে মাটিতে লুটিয়ে পড়া ছাড়া যেন কোন উপায়ই থাকতো না প্রতিপক্ষের সামনে।
কেবি





