কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ও বেশি দামের আশায় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে গরু মোটা-তাজাকরণ বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী এবার ঈদে জেলায় প্রায় লক্ষাধিক গরুকে ক্ষতিকর স্টেরন ট্যাবলেট খাইয়ে মোটা-তাজা করা হচ্ছে। এসব গরু বাজারজাত করতে জেলার ৬ উপজেলার কয়েক হাজার মৌসুমি ব্যবসায়ী ও খামারিরা ব্যাপক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছ থেকে যেসব খামারি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা কোনো ক্ষতিকর পদার্থ গরুকে খাওয়াচ্ছেন না। স্বাভাবিক নিয়মেই গরু মোটা-তাজা করছেন তারা।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরুকে মোটা-তাজা করতে স্টেরন জাতীয় ওষুধ খাওয়াচ্ছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ায় গাভীর খামার রয়েছে এক হাজার ২৩৩টি। মাংস উৎপাদনকারী খামারের সংখ্যা ৪০৩টি। খামারভিত্তিক গরু পালনের সংখ্যা ২০১৫টি। ছাগলের খামার রয়েছে ২৪১ টি। এ ছাড়া ভেড়ার খামার রয়েছে ৬৭টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খামারি ছাড়াও মৌসুমি ব্যবসায়ী রয়েছেন ২০ হাজারের অধিক। এসব ব্যবসায়ী প্রায় লক্ষাধিক গরুকে ওষুধ খাইয়ে মোটা-তাজা করে ঈদে বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা কোরবানির ঈদে ৪ থেকে ৫ মাস আগে গরু ক্রয় করে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য খাইয়েও গরু মোটা-তাজার কাজ পরিচালনা করছেন।
কয়েকটি খামার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষতিকর স্টেরন জাতীয় ওষুধ খাইয়ে গরু মোটা-তাজা করা হচ্ছে। এই জাতীয় ওষুধ গরু খেলে দেহে অধিক মাত্রায় পানি ধারণ করতে পারে। এতে গরুর শরীর ফুলে ফেঁপে ওঠে ও স্বাস্থ্যবান দেখায়। এছাড়া দ্রুত মোটা-তাজা হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এ জাতীয় ওষুধ ভারত থেকে সীমান্ত পথে দেশে নিয়ে আসছেন চোরাকারবারিরা। আর তা সরাসরি চলে যাচ্ছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে।
এ বিষয়ে ডা. মোজাম্মেল হক জানান, স্টেরন জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলে গরুর চর্বি মাত্রারিক্তভাবে বেড়ে যায়। চর্বি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া এসব গরুর মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের লিভারের কার্য শক্তি ও কিডনির সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুল হক জানান, সরকারিভাবে গরু মোটা-তাজাকরণ প্রকল্প রয়েছে। যারা প্রকৃত খামারি তারা গরু মোটা-তাজা করতে ক্ষতিকারক কিছু ব্যবহার করছে না। তিনি আরও জানান, যারা মৌসুমি ব্যবসায়ী তারাই মূলত ঈদকে কেন্দ্র করে এসব কাজ করছেন। শুধুই অধিক লাভের আশায়।
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





