পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কামার শিল্পীরা। সারাবছর অলস সময় কাটলেও ঈদুল আজহার সময় কামারদের লোহা পিটুনির টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে কামারপাড়া। দিন-রাত পরিশ্রম করে পশু জবাইয়ের উপকরণ ছোরা, দা, ছুরি, বটি চাপাতিসহ বিভিন্ন লোহার যন্ত্রাংশ তৈরী করেন তারা।

বছরের অন্য সময়ে কামারদের মুখে হাঁসি না থাকলেও ঈদুল আজহা আসলেই তাদের জীবনে আনন্দ-উল্লাসের কমতি থাকে না। এই ঈদের সময় দৈনিক টানা ১৪-১৫ ঘন্টা কাজ করলেও তাদের ক্লান্ত অনুভব হয় না। কারণ এই সময়টা তাদের জীবনে বছরে এক বারই আসে। আর এই সময়ে কিছু টাকা আয় করে পুরো বছর সুখে থাকার কথা ভাবেন কামার শিল্পীরা।

কারওয়ান বাজার কামার পট্টির একাধিক ব্যবসায়ী টাইমনিউজবিডি.কমের এই প্রতিবেদককে ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বর্তমানে কারওয়ান বাজারে প্রায় ৩৪টি কামারের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত মাত্র ১২টি দোকান। বাকি ২২টি দোকান ক্ষমতাসীন, প্রভাবশালী ও প্রসাশনের সহয়তায় অবৈধভাবে বসানো হয়েছে। সরকার অবৈধ দোকানগুলি সরিয়ে দিলে প্রকৃত কামাররা খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারতেন।

কামাররা এ প্রতিবেদককে আরও জানান, এখন লোহার দাম অনেক বাড়তি। এক কেজি লোহা কিনতে প্রায় ৫০০ টাকা লাগে। ১২০০ টাকায় একটি কয়লার বস্তা কিনতে হয়। এরপর কর্মচারী খাটিয়ে তা দিয়ে সামগ্রী তৈরী করে বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়ে সারা বছর মোটামুটিভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা যায়।

কোরবানির ঈদ এলে তারা দিনরাত পরিশ্রম করে ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ হাজার টাকা আয় করেন। এই টাকা দিয়েই তারা মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ-পোষন এবং লেখাপড়ার খরচ চালান।

আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে কামারদের জিনিসপত্র এখন তৈরি করা হচ্ছে। আধুনিক এইসব যন্ত্রপাতি আসার কারণে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালীর এই ঐতিহ্য। কামার পেশা ছেড়ে এখন অনেকে অন্য কোন পেশায় অর্ন্তভূক্ত হচ্ছেন। তবে বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে যেতে অনেকই নারাজ। শত দু:খ-কষ্টের মাঝেও তারা এ পেশা চালিয়ে যেতে চান।

ঈদের আগে কামারদের কর্মব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল হক (৬৫) টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, ৫০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। স্বাধীনতার ১০ বছর আগে এই কারণ বাজারে এসে কামারের কাজ শুরু করেছি, এখনো চলছে। এক সময় আমাদের খুব মূল্য ছিল। এখন আর সেটা নেই। বছরে এই কোরবানির ঈদের আগে কিছু কেনা-বেচা হয়। বাকি পুরো বছর বিক্রি খুব কম হয়।

আব্দুর রহমান টাইমনিউজবিডি.কমকে গত মঙ্গলবার বলেছেন, এখন আমাদের কেনা-বেচা মোটামুটি ভালোই চলছে। তবে চাঁদ রাতের একদিন আগে এবং চাঁদ রাতে আমদের বিক্রি বাড়বে। এই সময়ই আমাদের বিক্রি ভালো হয়। এজন্য এখন আমরা রাত জেগে কাজ করে কোরবানির ঈদের পশু জবাইয়ের সামগ্রী তৈরি করে রাখছি। পুরো বছরের মধ্যে এই দু’একদিনই আমাদের বিক্রি খুব ভালো হয়।

এমআর, কেবি