আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী শাখা ঢাকা মহানগর। দলের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সেই নগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা নিয়ে স্থবিরতা কাটছেই না। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে ২ ভাগ (উত্তর-দক্ষিণ) করা এবং পদ-পদবি নিয়ে ২টি গ্রুপ তৈরী হয়েছে। আর এ কারণেই বারবার স্থবির হয়ে পড়ছে কমিটি ঘোষণার দিনক্ষণ।

গত মাসে বেশ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সেপ্টেম্বরে কমিটি ঘোষণার কথা বলেছিলেন নগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এ নিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিবেদনও তৈরী করে ছিল। তবে অক্টোবরের মাঝামাঝিতে এসেও কমিটি ঘোষণার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি নগর নেতৃবৃন্দরাই জানেন না কোনদিন ঘোষণা করা হবে তাদের কাঙ্ক্ষিত কমিটি।

এর আগেও গত ১৩ জুলাই দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে যে উত্সাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে কাউন্সিল হয়েছে, আশা করি শোকের মাস আগস্ট সেভাবে পালন করবেন। ঢাকা মহানগরকে শক্তিশালী করতে ঈদের পর সব থানা ও ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হবে।”

সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হক সবুজসহ অনেক সিনিয়র নেতারা টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেছিলেন, কমিটি এ মাসেই (সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে। দুই- এক দিনের মধ্যে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। অথচ আজ পর্যন্ত তারা কমিটির ব্যাপারে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

এর আগে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা নগরের নেতৃবৃন্দকে ২ মাসের মধ্যে নগরের সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী রাজধানীর ৪৯টি থানা, ১০৩টি ওয়ার্ড ও ১৭টি ইউনিয়নের সম্মেলন শেষ করেছেন। দলীয় আন্তর্কোন্দলের কারণে ডেমরা, শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী থানায় সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের এক নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটি ঘোষণা নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নতুন কমিটি আদৌ ঘোষিত হবে, নাকি নিকট ভবিষ্যতে হবে না, মহানগর কমিটি উত্তর-দক্ষিণ দু’ভাগে বিভক্ত হবে কি হবে না- এ নিয়ে অন্ধকারে তারা। সম্মেলন শেষ হলেও নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের দ্বন্দ্ব ও নেতাকর্মীদের গ্রুপিংয়ের জন্য বারবার আটকে যাচ্ছে এই কমিটি। এই কারণে নগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার দ্বায়িত্ব এখন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউই জানে কবে হবে নগর কমিটি।

সম্মেলন শেষ হওয়ার পরও কমিটি ঘেষাণা না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে মহানগরের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে। স্থবির হয়ে পড়েছে দলীয় কার্যক্রম। ঢাকা মহানগর দু’ ভাগে বিভক্ত করার বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় মহানগর আওয়ামী লীগে বেড়েছে কোন্দল। এ কারণেও কমিটি গঠন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাচ্ছে বারবার।

আওয়ামী লীগের একটি ঘনিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে ঢাকা মাহনগরে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করবে আওয়ামী লীগ। যারা রাজপথে থাকবে এবং বিরোধী জোটের সহিংসতা মোবাবেলা করবেন। কেবল তারাই মহানগরের নেতৃত্ব পাবেন। তাই নগর নেতাকর্মীদের সকল অন্তর্কোন্দল দূর করে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের রুপ রেখা দেখে সেই অনুযায়ী একটি কমিটি গঠন করবেন আওয়ামী লীগ। তাই দলীয় সভানেত্রী নিজেই মহানগর কমিটি দিবেন।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের জুনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফকে সভাপতি ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মারা যাবার পর বর্তমান সভাপতি এম এ আজিজ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই কমিটি দিয়ে এখনও চলছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়া টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, আমাদের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ভাই হল্যান্ড সফর শেষে বাংলাদেশে ফিরছেন। দু’ এক দিনের মধ্যে আমার একটি ওয়ারকিং কমিটির বৈঠক করে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের একটি খসড়া কমিটি গঠন করে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করবো। এরপর নেত্রী যা ভালো মনে করবেন, তাই করবেন।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, আমরা নেতাকর্মীরা বলেছিলাম সেপ্টেম্বর মাসে কমিটি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু নেত্রী তো বলেন নি। আমরা সম্মেলন শেষ করে তার রিপোর্ট নেত্রীর কাছে দিয়েছি। এখন কমিটি ঘোষণার দ্বায়িত্ব নেত্রীর। তিনি ছাড়া কেউ কমিটি ঘোষণা তারিখ বলতে পারবেন না। তিনি চিন্তা-ভাবনা করে সুন্দর একটি কমিটি ঘোষণা করবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, দল যেহেতু আছে কমিটি তো হবেই। আগস্ট মাস গেল। এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঙ্গের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ছিলেন। এদিকে লতিফ সিদ্দিকী একটি কাণ্ড ঘটিয়েছেন। এখন আবার প্রধানমন্ত্রী ইতালীর মিলানে গেছেন। এই সব কারণেই আমাদের কমিটি ঘোষাণায় দেরি হচ্ছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণার ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আমরা আশা করছি।

এমআর/কেএইচ