নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংলাপের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে বেগবান করে একদফায় পরিণত করতে চায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, দেশব্যাপী টানা দু সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা অবরোধ কর্মসূচিকে আন্দোলনের প্রাথমিক সফলতা বলেই মনে করেছে বিরোধী জোটের নীতিনির্ধারকরা।

রাজপথে অংশ নেয়া কর্মীদের এই মানোভাব বুঝতে পেরে হাইকমান্ড চলমান আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে চূড়ান্ত কৌশলও প্রণয়ন করছেন।

২০ দলীয় জোটের সূত্র মতে, আজ (বুধবার) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া ঢাকা ও খুলনা বিভাগের সব জেলায় ৪৮ ঘন্টার হরতাল এরই প্রাথমিক অংশ।

আগামী সপ্তাহে দেশব্যাপী অবরোধের পাশাপাশি ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচির ঘোষণাও আসতে পারে।

তবে সবশেষ ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে লাগাতার অবরোধের সঙ্গে হরতাল কিংবা অসহযোগ কর্মসূচির দিকে যেতে পারে বিরোধী জোট।

তবে সরকার পতনের এক দফায় যাওয়ার আগে আরেকবার ক্ষমতাসীনদের প্রতি দাবী মেনে আলোচনার আহ্বান জানানো হতে পারে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, ধাপে ধাপে আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনার বেশিরভাগই রাজধানী ও এর আশপাশের জেলাগুলো কেন্দ্রীক।

আর এজন্য  চলমান অবরোধ ও হরতাল কেন্দ্রীক পিকেটিংকে আরও জোরালো করতে দলের সব পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জেলার নেতাদের এ ব্যাপারে আলাদা নির্দেশনা দেয়া হয়।

ঢাকা মহানগরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আন্দোলনকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে জোটের শীর্ষ নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন যে অনড় ও দৃঢ় সেই বার্তাও নেতাকর্মীরা বুঝে গেছেন।

কারণ গুশশান কার্যালয়ের পুলিশি ব্যারিকেড সরানো হলেও আন্দোলনের স্বার্থেই বেগম খালেদা জিয়া কার্যালয়ের ভিতরেই অবস্থান করছেন। এটিকেও নেতাকর্মীরা আন্দোলনের নতুন মাত্রা হিসেবেই দেখছেন।

বিরোধী জোট মনে করছে, সরকারের কঠোর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েই আন্দোলন সফল করতে হবে। সরকারের অপপ্রচার, আইন-শৃঙ্খলা বাহীনি দিয়ে দমন এসব মোকাবিলা করেই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

কারণ ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, অতীতের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে শাসক দল কর্তৃক সন্ত্রাসী ও বিশৃঙ্খলাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এবারেও এর ব্যতিক্রম হবে না। আর সেজন্য দমন পীড়ন যত বাড়বে আন্দোলন তত তীব্র হবে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সরকার আরও কঠোর হবে এমনটা ধরে নিয়েই তারা আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল চূড়ান্ত করে রেখেছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সেরকম দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ গ্রেফতার হলে যাতে তা থমকে না যায় সে বিকল্পও তারা প্রস্তুত রেখেছেন। একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে কোন উপায়ে তা অব্যাহত রাখা হবে সে ব্যবস্থা আগে থেকেই নিয়ে রেখেছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আমরা এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছি সেখান থেকে ফিরতে চাচ্ছি না। এখান থেকে ফেরার উপায়ও নেই।

এটা আরও জোরালো করা হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনটা এখন আর আমাদের হাতে নেই। এটা জনগণের কাছে চলে গেছে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কি করবে।

২০ দলীয় জোটের একজন শীর্ষ নেতা ও সাবেক সেনা কমকর্তা নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আন্দোলন মাত্র দুই সপ্তাহ হয়েছে। এমন গণতান্ত্রিক আন্দোলন মাসের পর মাস চলে। আমাদের আন্দোলনও চলবে। এটা জনগণের দাবি। পর্যায়ক্রমে তা আরও বেগবান করা হবে।

বিএনপি চেয়রপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সরকার যেভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বলে দমনের কথা বলছে তাতে সংকটের সমাধান হবে না। রাজনৈতিকভাবেই সংকট নিরসনে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু সরকার মোটেই সেদিকে হাঁটছে না।

এমএইচ/এসএইচ