চলমান সহিংসতা, নৈরাজ্য ও নাশকতা এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়েছিলেন ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পেশাজীবীসহ দেশের সাধারণ মানুষ।কিন্তু মন্ত্রী ও নেতাদের দেয়া আল্টিমেটামের সময় অনেক আগে পার হয়ে গেলেও জন জীবনে ফিরে আসেনি সস্তি।এখনও দেশের বিভিন্ন স্থানে চলছে সহিংসতা।

আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারী) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারের জগমোহনপুর এলাকায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৭ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২৪ জন।

সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে শুধু নিজের ও তার দলের নিরাপত্তা দিতে পারছে, কিন্তু জনগণের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কথা ভেবে, বর্তমান সঙ্কট নিরসনে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

গত ১৫ জানুয়ারি সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদোনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, 'বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জবাবে আমি বলেছি যে আমরাও উদ্বিগ্ন।'

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'গত একটি বছর বেশ ভালোই গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যে দীর্ঘায়িত হবে এটা আমি বুঝতে পারিনি। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।'

'কিভাবে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে' জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'এটা আমার ব্যক্তিগত আশাবাদ।' চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের করণীয় কিছু আছে কি না-এমন এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, 'থাকতে পারে। তবে আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।'

তবে হরতাল-অবরোধ বন্ধে ব্যবসায়ীদের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ওই সময় মুহিত বলেন, 'এটা ভালো প্রস্তাব। চাইলে তাঁরা আদালতে যেতেই পারেন। এটা একটা চাপ হবে। আমি তাঁদের সমর্থন দেব।'

গত ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ে এক আলোচনায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভুয়া আন্দোলন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার এই ভুয়া আন্দোলন বেশি দিন টিকবে না। খালেদাকে তুলে নিয়ে বাসায় পৌঁছে দেয়ার দরকার হবে না। তিনি নিজেই বাসায় চলে যাবেন। নাশকতাকারী ও সন্ত্রাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন দিন সংলাপ হবে না।

সরকারকে সন্ত্রাস নির্মূল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার কোন চ্যারিটেবল সংস্থা নয়। সরকারকে মানুষের জানমাল রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে অন্য কোন অজুহাত দেয়ার সুযোগ নেই। সরকারকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বীর উত্তম খাজা নিজামুদ্দিন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, আগামী দশদিনের মধ্যে পালিয়েও পার পাবেনা বিএনপি। বিএনপি যে আন্দোলন করছে, এজন্য অচিরেই তাদেরকে খেসারত দিতে হবে। আগামী দশ দিনের মধ্যে বিএনপি আন্দোলনের নাম মুখেও আনতে পারবেনা।

১৯ জানুয়ারী সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ‘সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতে অব্যাহত নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও বোমা হামলায় নিরীহ মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার’ প্রতিবাদে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত এ মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, কথা দিলাম আগামী সাতদিনের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনজীবনের স্বাভাবিক চলাফেরা নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, জনগণকে দেয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ আওয়ামী লীগ নেতারা বর্তমানে ভিন্ন সূরে কথা বলতে শুরু করেছেন। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এখন ভোল পাল্টে বলছেন, 'বড়সন্ত্রাসী দলকে দমন করতে একটু বেশি সময় লাগে। এটা অস্বীকার করার কোনোসুযোগ নেই।’

আজ (মঙ্গলবার)দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজার ওয়াসা ভবনের সামনে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেনহানিফ।

এ পরিস্থিতিতে আর মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের মধ্য দিয়ে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসুক দেশের সাধারণ মানুষ সেটাই প্রত্যাশা করেন।

এমআর