দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন সকারদলীয় শতাধিক প্রার্থী। যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় অভিযুক্তদেরকে অব্যাহতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার কমিশনের এক বৈঠকে অব্যাহতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সহস্রাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি বিধি ভঙ্গের যে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল,তার বেশিরভাগই ছিল ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লোক দেখানো তদন্ত করে তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছে। অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত হলে তারা সবাই দোষী সাব্যস্ত হতেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া শতাধিক প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন। বিধি ভঙ্গের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে সহস্রাধিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

এসব অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে হুমকি-ধামকি দেয়া, প্রকাশ্যে অর্থ ছড়ানো, কর্মীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ভুড়িভোজ করানো, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নামে প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া, পোস্টারে দলীয় প্রধান ও প্রতিষ্ঠাতার ছবি ছেপে প্রচার চালানো এবং শতাধিক মোটর শোভাযাত্রা করে দলীয় প্রচার চালানো।

এছাড়াও নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী ২০ জন রিটার্নিং অফিসার (আরও) আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করা হয়।

কিন্তু তদন্ত কমিটি প্রায় ৮ মাস তদন্ত করে একটি অভিযোগেরও সত্যতা খুঁজে পায়নি। পাশাপাশি অভিযোগগুলো নির্দিষ্ট সময়ে তালিকাভুক্ত করা হয়নি বলে ব্যবস্থা নেয়ার কার্যকারিতা হারিয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সূত্র আরোও জানায়, বৈঠকে যে অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা হয় তার মধ্যে একটি হলো-যশোর-২ আসনের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মো. শাহিন উল কবির আচরণবিধি লঙ্ঘন বেশ কিছু অভিযোগ দাখিল করেন।

উপজেলা পরিষদের ভিতরে সরকারি জায়গা ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মনিরুল ইসলাম ও তার প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়া। এছাড়া প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে হুমকি-ধমকি দেয়া, প্রকাশ্যে অর্থ ছড়ানো, কর্মীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ভুড়িভোজ করানোর অভিযোগ করা হয়।

তবে নির্বাচন কমিশনের 'দশম সংসদ নির্বাচনী তদন্ত কমিটি' সাক্ষ্য প্রমাণ ও তদন্তে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পায়নি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। তাই তাদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ফেনী-৩ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্যাহর বিরুদ্ধে গিয়াস উদ্দিন নামে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে হুমকি-ধমকি দেয়া, প্রকাশ্যে অর্থ ছড়ানো, কর্মীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ভুড়িভোজ করানোর অভিযোগ দাখিল করেন।

তবে নির্বাচন কমিশনে দশম সংসদ নির্বাচনী কমিটি কয়েক মাস তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় এমন কাজ সে করেনি। তাকে হয়রানি করার জন্য অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি বিধি ভঙ্গের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে সহস্রাধিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

তার বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশন এদের বিরুদ্ধে লোক দেখানো তদন্ত করেছে। প্রকৃতভাবে এ বিষয়টি তদন্ত হলে সবাই দোষী সাব্যস্ত হতো বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়টি উল্লেখ করে শতাধিক প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ব্যবস্থা নিতে আবেদন করে।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই সকল অভিযোগ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই বর্জন করে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদসহ ১২টি দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়। এছাড়াও ১৫৩ আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ঢাকা, এএম, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর