পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে গত সাড়ে ৩ বছরে ৮০০'র বেশি লাশ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ লাশ পাওয়া গেছে কোয়েটা, খুজদার এবং মাকরান অঞ্চলে। ইংরেজী দৈনিক দি ডন-এর কাছে এই তথ্য দিয়েছে বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্র এবং উপজাতি বিষয়ক বিভাগের কয়েকটি সূত্র।

জানা যায়, নিহতদের মধ্যে ৪৬৬ জন বেলুচ, ১২৩ জন পশতুন এবং ১০৭ জন বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর নাগরিক । এছাড়া ১০৭টি লাশের পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি।

নিহত ৪৬৬ বেলুচের মধ্যে অধিকাংশই রাজনৈতিক কর্মী। বাকিরা মারা গেছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, উপজাতীয় বিতর্ক এবং পারিবারিক কলহের জের ধরে।

বেলুচ জাতীয়তাবাদী নেতা ড. হাই বেলুচ ডন'কে বলেন, " এটা একটা ভীতিকর পরিস্থিতি।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেলুচ রাজনৈতিক কর্মীদের কন্ঠ দমন করার জন্য এখনো প্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেলুচিস্তানে প্রচণ্ড আঘাত আসছে। রকেট হামলা, বোমা হামলা এবং পরিকল্পিত খুনের কারণে কোয়েটা ও বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ তাদের প্রাণ হারিয়েছে। যাহোক, অঙ্গ ছাড়া লাশ উদ্ধার করা হতে থাকে ২০০৯ সালের শেষের দিকে।

তখন থেকে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অথচ কম অগ্রসর প্রদেশ বেলুচিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় মরদেহ পাওয়া যেতে শুরু করে।

ড. হাই বলেছেন "বেলুচিস্তানের গণমানুষের দুখের প্রতি মনযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে শাসকরা।"

অজ্ঞাত লাশগুলো দাফন করে ইদিহ ফাউন্ডেশন। নিহতদের উত্তরাধিকারী সনাক্ত করার জন্য খুব কম কাজ করে থাকে প্রশাসন। সরকারের উচিত এমন একটি বিভাগ সৃষ্টি করা, যেটি নিহতের পরিচয় সনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

বেলুচিস্তানে ক্রমবর্ধমান লাশ পাওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উদ্ধারকৃত লাশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে কমিশন।

মানবাধিকার কমিশনের বেলুচিস্তান চ্যাপ্টারের একজন মানবাধিকার কর্মী শামসুল মুলক মানদোখাইল বলেন, "সরকারের উচিত এই হত্যাকণ্ডলোর ব্যাপারে অনুসন্ধান করা।" সূত্র: ডন


ঢাকা, ০৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // টিআই