খন্দকার মোশতাক আহমেদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার জন্ম কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দশপাড়া গ্রামে। তার বাবা দাউদকান্দির পীর হযরত খন্দকার কবিরউদ্দিন আহমেদ।
খন্দকার মোশাতাক আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৪২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম মহাসচিব।
খন্দকার মোশতাক আহমেদ সব সময়ই মাথায় কালো টুপি পড়তেন। মুজিব নগর সরকারের শপথের সময় এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথের সময়ও তার মাথায় কালো টুপিটি ছিল।
খন্দকার মোশতাক আহমেদ দায়িত্ব পেয়ে যখন বর্নচোরা তাবেদারদের নিয়ে মন্ত্রীসভা গঠন করলেন, তখন মন্ত্রীসভায় একটি চমকপ্রদ আবদার করেন। মাথার টুপিটি খুলে টেবিলে রেখে বলেন : আমাদের জাতীয় পোষাক আছে তবে সেটা অসম্পূর্ণ। আমাদের মাথায় কোনো টুপি নাই। আপনারা যদি অনুমোদন দেন তাহলে এই টুপিটা আমাদের জাতীয় পোষাকের অন্তর্ভুক্ত করতে চাই…। প্রস্তাবটি পাশ হয়েছিলো। কার্যকর হয়নি সম্ভবত। তাহলে সবার মাথায় কালো টুপির মাধ্যমে মোশতাক অমর হয়ে থাকতেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব লাভ করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারে তিনি বিদ্যুত, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রন মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তাকে অর্থমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বাকশালের কার্যকারি কমিটির সদস্য ছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হবার পর মোশতাক আহমেদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। এই পদে তিনি মাত্র ৮৩ দিন ছিলেন। রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব নেবার পর তিনি ইনডেমিনিটি বিল পাশ করেন। তিনি "জয় বাংলা" স্লোগান পরিবর্তন করে এর স্থলে "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" স্লোগান চালু করেন। এই সময় তিনি "বাংলাদেশ বেতার" এই নাম পরিবর্তন করে "রেডিও বাংলাদেশ" করেন। তার শাসনামলে চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মোঃ মনসুর আলী ও এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (৩ নভেম্বর) হত্যা করা হয়।
মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর সেনাবিদ্রোহের দ্বারা অপসারিত হন এবং ১৯৭৬ সালে মোশতাক আহমেদ ডেমোক্র্যাটিক লীগ নামক এক নতুন দল প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর সামরিক শাসককে অপসারণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ২ টি দুর্নিতির অভিযোগ আনা হয় এবং আদালত তাকে ৫ বছরের শাস্তি প্রদান করে। জেল থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি আবার সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ৫ মার্চ ১৯৯৬ সালে এই নেতা মৃত্যু বরণ করেন।
ইআর





