অবশেষে ৬৮ বছরের বন্দিদশার পর ছিটমহলবাসী পেল স্বাধীনতার স্বাদ । এ বন্দিদশা কাটিয়ে শনিবার প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের সীমানায় যোগ হওয়া ছিটমহলগুলোতে ওড়ানো হয় বাংলাদেশের পতাকা, ৬৮ প্রদীপে প্রোজ্জ্বল প্রতিটি বাড়ি।

আর সেই সঙ্গে দীর্ঘ অপেক্ষার মুক্তির স্বাদ অনন্য হয়ে ধরা দিয়েছে পঞ্চাশ হাজার অধিবাসীর কাছে, ঘুচেছে ‘নিজ দেশে পরাধীনতার’ গ্লানি। এর মধ্যে দিয়ে বিলীন হয়ে গেল এ দুটি দেশের ছিটমহল নামের বন্দিশালাগুলোর। মুক্তি মিললো এসব বন্দিশালায় দুঃসহ জীবন কাটানো প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের।

এ ইতিহাস সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব আর মানবতার ইতিহাস। ৬৮ বছর ধরে যাদের কোনো রাষ্ট্র ছিল না, ছিল না পরিচয়, সবাই যাদের চিনতো ছিটবাসী হিসেবে। এখন থেকে এই মানুষগুলো তাদের জাতীয়তার পরিচয় পাবেন। নাগরিকত্বের পরিচয় দেবেন গর্বে বুক ফুলিয়ে।             

বাংলাদেশ-ভারতের স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ক্যালেন্ডারের তারিখ ১ অাগস্টে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হল ছিটমহল বিনিময়। ৬৮ প্রদীপে প্রজ্জ্বলিত হলো প্রতিটি বাড়ি।

এর ফলে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর আয়তনের ভারতের ১১১ ছিটমহল হলো  বাংলাদেশি ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে ভারতের মধ্যে থাকা ৭ হাজার ১১০ দশমিক ২ একর আয়তনের বাংলাদেশের ৫১ ছিটমহল মিলে গেল ভারতের মানচিত্রে ।

এতদিন যে ছিটমহলের মালিক ছিল ভারত, এখন সেখানে উড়বে বাংলাদেশের পতাকা। একইভাবে ভারতের পতাকা উড়বে এতদিন বাংলাদেশের মালিকানায় থাকা ছিটমহলগুলোতে। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই সমস্যার অবসানের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেল বাংলাদেশ ও ভারতের মানচিত্র।

মুক্ত জীবনের প্রত্যাশায় উন্মুখ হয়ে থাকা ছিটমহলগুলোতে তাই উৎসবের আমেজ। শুক্রবার মধ্যরাতের পর ছিটমহল শব্দটি ঠাঁই নিল ইতিহাসের পাতায়। সীমান্তে আর কোনো জনপদকে ‘ছিটমহল’ হিসেবে পরিচিত হতে হবে না। বাসিন্দারা পাবেন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, দেশের আর সবার মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন তারা।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দেশ ভাগের সময় সিরিল রেডক্লিফ কমিশনের তাড়াহুড়োয় চিহ্নিত করা সীমান্তে ছিটমহল জটিলতার শুরু। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই সমস্যার অবসানে ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়। এরপর তা কার্যকরে প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয় ২০১১ সালে।

গত ৭ মে ভারতের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ওই চুক্তি বাস্তবায়নের পথ তৈরি হলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর হয়। বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে ১৬২ ছিটমহল, অপদখলীয় ভূমি এবং অচিহ্নিত সীমানার বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করে।

ইআর