মোহাম্মাদ নাসসার (Mohammed Nassar)। গত ১৫ বছর ধরে নিজ সন্তানের খোঁজ পাচ্ছেন না। ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা (Intifada) তথা ফিলিস্তিনিদের গণ-আন্দোলন চলাকালে ২০০২ সালের ৭ মার্চ বাসা থেকে বের হয়েছিল নাসসারের ছেলে শাদী (Shadi)। সেই যে বাসা থেকে বের হলো শাদী আজও ফেরেনি।

দখলদার ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে পশ্চিম তীরের (West Bank) আরিয়েল অঞ্চলে আত্মঘাতি বোমা হামলার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল শাদী। ধারণা করা হয় সেই হামলায় সে নিহত হয়। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিল ১৫ ইসরাইলি।

শাদীর বাবা নাসসারের দাবি, তার ছেলে যে এ ধরনের একটি ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছিল সে ব্যাপারে পরিবারের কোন ধারণাই ছিল না।

তিনি বলেন, যদি ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারতাম, তাকে পিটিয়ে ঘরে আটকে রাখতাম। একজন বাবা হয়ে নিজের সন্তানকে হারানো - এটা যে কতটা কষ্টের তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।  

পনের বছরেও ইসরাইলিরা শাদীর মৃতদেহ ফেরত দেয়নি। যদিও এত বছর পরে কবরে দেয়ার মতো আর কি বা অবশিষ্ট আছে? তবুও সব পরিবারই চায় তাদের নিহত স্বজনদের প্রত্যেককেই কোন না কোন নির্দিষ্ট কবরে সমাহিত করা হোক।

ইসরাইলের নামহীন কোন কবরে হয়তো শাদীর লাশ রাখা হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের কবরে ইসরাইল শুধুমাত্র মোট লাশের সংখ্যা লিখে রাখে, কারো নাম উল্লেখ থাকে না।

ফিলিস্তিনের একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শাদীসহ অন্তত ২৪৯ জন ফিলিস্তিনের লাশ ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রনাধীন কবরগুলোতে রয়েছে। এছাড়া ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের হিমাগারে রয়েছে আরো ৯ জনের লাশ।

ওই কবরগুলো তৈরিই করা হয়েছে গণকবরের আদলে। সেখানে এক একটি কবরে শুধু লাশের সংখ্যা লিখে রাখা হয়, কারো নাম লেখা থাকে না। এমনকি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে অদ্যবদি নিহত অনেকের লাশ রয়েছে এসব কবরে।

“আমরা সব সময় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকি। এমনকি ১৫ বছর পার হওয়ার পরও আমাদের অবস্থা একই।” অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরে নিজ বাসায় বসে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে কথাগুলো বলছিলেন শাদীর বাবা নাসসার।

তিনি আরো বলেন, “মাঝে মাঝেই আমাদের মনে সন্দেহ জাগে সত্যিই কি আমার ছেলে মারা গেছে, আমরা তো নিজ হাতে তাকে কবর দেইনি!”

“এটা আমাদের জন্য খুবই কঠিন। একমাত্র আল্লাহই জানেন বছরগুলো আমরা কিভাবে পার করছি। এটা এক ধরনের মানসিক নিপীড়ন। প্রত্যেকটি দিনই যেন যন্ত্রনার। আমরা প্রতিনিয়ত ধারণা করতে থাকি যে সে বেঁচে থাকতে পারে।”

ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ইসরাইলি দখরদারিত্বের পটভূমিতেই শাদী আত্মঘাতি হামলা চালিয়েছিল। বিশেষ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠণ সংক্রান্ত ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তি (Oslo Accords) ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতরো হতো থাকে।

একই বছর ইসরাইলের ধূর্ত রাজনীতিবিদ এরিয়েল শ্যারন (Ariel Sharon) পবিত্র আল- আকসা মসজিদ (al-Aqsa Mosque) পরিদর্শনের পর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে।

তৎকালীন লিকুদ (Likud) পার্টির নেতার ওই সফরের পরই দ্বিতীয় ইন্তিফাদা তথা গণ-অসন্তোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে যা ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

ফিলিস্তিনিরা এই ধরনের আত্মঘাতি হামলাকে তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের আন্দোলনের অংশ হিসেবেই মনে করেন। তাদের মতে বিগত ৫০ বছর ধরে ইসরাইলি দখলদারদের বিরুদ্ধে এটা তাদের বৈধ সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধেরই একটি অংশ।

আর এই সংঘাতের ফলে বিগত ৫০ বছরে অন্তত ৩ হাজার ফিলিস্তিনি এবং ১ হাজার ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। এসব নিহতদের বেশিরভাগের লাশই ইসরাইলিদের কাছে রয়েছে।

আত্মঘাতি হামলা চালিয়ে ২২ দখলদার ইসরাইলির প্রাণ কেড়ে নেয়া আরেক যুবকের নাম আব্দুল বাসেত আদেহ (Abdel Basset Odeh)। এই যুবকের লাশও এখনো ইসরাইলিদের দখলে রয়েছে। তার পিতা আবু ইসসাম (Abu Issam) এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মৃতদেহ আটকে রাখা এক ধরনের নির্যাতন।

বাসেতের পিতা ইসসাম নিজের সন্তানের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আপনি আপনার সন্তানকে টানা ২৫ বছর ধরে এমন অবস্থার মুখোমুখি করে রাখবেন যে সেই ছোট বয়স থেকেই সে এটা দেখে আসছে তার অনেক বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। সেই সন্তানকে কতক্ষণ আপনি পাহাড়া দিবেন? ১৯৯৪ সালে মাত্র ১২ বছর বয়মে বাসেত ৫ মাস কারাভোগও করেছিলো বলে জানান পিতা ইসসাম।

শুধু সংখ্যার হিসাব রেখে যদি আমাদের সন্তানদের কবর দেয়া হয় তাহলে শেষমেশ আমরা বড়জোর যা পেতে পারি তাহলো একটি ব্যাগে তাদের দেহাবশেষের অবশিষ্টাংশ। অর্থাৎ - কিছু হাড়, কিছু মাটি এবং হয়তো বা এর সাথে সামান্য কিছু কাপড়। ‍অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারেম (Tulkarem) অঞ্চলে নিজ বাসায় বসে আল জাজিরাকে কথাগুলো বলছিলেন আবু ইসসাম।

তিনি বলেন, একেবারে তরুণ বয়স থেকেই আমাদের সন্তানরা দেখতে পায় তাদের ওপর কিভাবে দখলদার ইসরাইলিরা নিপীড়ন চাপিয়ে দিচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়ন সহ্য করতে করতে এক পর্যায়ে তারা বিদ্রোহী হয়ে উঠে এবং তাদের মধ্যে প্রতিশোধ পরায়নতা সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, দখলদার ইসরাইলি সেনাদের হাতে নিহত এক ফিলিস্তিনের লাশ হাসপাতাল থেকে গোপণে সরিয়ে নিচ্ছে তার কয়েকজন বন্ধু। পরে তারা দখলদার ইসরাইলিদের সামনে তাদের বন্ধুর লাশ সমাহিত করলো।

দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে এই ধরনের কর্মকান্ডের ফলে যন্ত্রনা ভোগ করতে হচ্ছে। প্রিয়জনদের লাশ ফেরত পেতে এসব পরিবারকে দশকের পর দশক অপেক্ষা করতে হয়।

যে বিষয়টি এখন সবারই জানা তা হলো - ইসরাইলি দখলদার বাহিনী তাদের যুদ্ধ কৌশল হিসেবেই এভাবে লাশ জিম্মি করে রাখে। বিশেষ করে যখন কোন ইস্যুতে সমঝোতার প্রশ্ন আসে তখন তারা প্রতিপক্ষের সাথে কঠোর দর কষাকষি করে জিম্মি করে রাখা লাশকে কেন্দ্র করে।

বিগত ২০১২ সালে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে ‍শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রাক্কালে ইসরাইল ৯০জন ফিলিস্তিনির লাশ ফেরত দিয়েছিলো। এছাড়া, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের মধ্যেও একইভাবে আরো ২৭টি মৃতদেত ফিলিস্তিনিদের কাছে হস্তান্তর করেছিল ইসরাইল।

গত শুক্রবার (১১ আগস্ট) চার ফিলিস্তিনের লাশ ফেরত দেয় ইসরাইলি বাহিনী। এদেরকে গত জুলাই মাসে হত্যা করেছিল দখলদাররা।

জেনেভা কনভেনশানে (Geneva Conventions) সামরিক সংঘাত তথা যুদ্ধে নিহতদের লাশ দাফনের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। নিহতদের লাশ অত্যন্ত সস্মানের সাথে সমাহিত করতে হবে। তাদের ধর্মীয় পরিচয় জানা সম্ভব হলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে প্রত্যেককে তার স্ব-ধর্মের নিয়মে কবরস্থ করার জন্য। তাদের কবরকে সম্মান করতে হবে, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং এমনভাবে চিহ্নিত করে রাখতে হবে যাতে সব সময় কবরটি কার তা সবাই জানতে পারে।

অপরদিকে, ইসরাইলের জাতীয় আইনের আলোকেও এভাবে লাশ জিম্মি করা অবৈধ। চলতি বছরের ২৫ জুলাই ফিলিস্তিনভিত্তিক আইন সহায়তা কেন্দ্র আদালাহ (Adalah) কর্তৃক দায়েরকৃত এক আবেদনের প্রেক্ষিতে এক রুল জারি করে ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট। রুলে বলা হয়েছে, লাশ জিম্মি করে রাখার কোন এখতিয়ার ইসরাইলি পুলিশের নেই। আদালাহর আইনজীবী মোহাম্মাদ বাসসাম (Mohammed Bassam) গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।

একইভাবে, ২০১৬ সালে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন (United Nations Convention against Torture) লাশ জিম্মি করার ইসরাইলি কৌশল নিয়ে পর্যালোচনা করে। পরে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘ কমিটি ইসরাইলের এই কুটকৌশলের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

এখনো যেসব ফিলিস্তিনের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি তা যত দ্রুত সম্ভব ফেরত দেয়ার জন্যও কমিটি ইসরাইলের প্রতি অনুরোধ জানায়। এতে করে স্বজনরা তাদের নিজস্ব ধর্ম ও সামাজিক রীতি অনুযায়ী লাশগুলো সৎকার করার সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর জন্যও ইসরাইলের প্রতি অনুরোধ জানায় কমিটি।

এমনকি প্রিয়জনদের নিকট লাশ ফেরত দেয়ার জন্য সম্প্রতিইসরাইলি আদালত ও কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে জেরুজালেম আইন সহায়তা ও মানবাধিকার কেন্দ্র (Jerusalem Legal Aid and Human Rights Center - JLAC) দেশব্যাপী প্রচারাভিযান (campaign) কর্মসূচি পালন করেছে।

সংগঠনটি দুটি উপায়ে লাশ সনাক্ত ও ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, স্বজনদের মাধ্যমে লাশ চিহ্নিত করা সম্ভব হলে তা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য সংগঠনগুলোকেও এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

বিগত ২০১০ সালে ইসরাইলি মানবাধিকার কেন্দ্র- জেএলএসির মাধ্যমে মাশৌর আল- আরৌরির (Mashour al-Arouri) লাশ ফেরত দেয়া হয়। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে তার লাশ ইসরাইল জিম্মি করে রেখেছিল। একইভাবে ২০১১ সালে ইসরাইল হাফেজ আবু জান্ত (Hafez Abu Zant) এর লাশ হস্তান্তর করেছিল ৩৫ বছর পর।

জেএলএসির আইনজীবী এবং প্রচার সমন্বয়ক (campaign coordinator) সালওয়া হামমাদ (Salwa Hammad) এর দেয়া এক তথ্য মতে ইসরাইলে গণকবরের মতো এরকম সংখ্যাভিত্তিক কবর রয়েছে ৬টি। তার মতে হিমাগার থেকে লাশ কবরস্থানে সমাহিত করতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আদালতের সিদ্ধান্ত দরকার।  

আল জাজিরাকে হামমাদ আরো বলেন, পরিবারের সদস্যদের ডেকে লাশের ছবি দেখানো যেতে পারে। এছাড়া ভিসেরা পরীক্ষা (DNA test) করার জন্য লাশের হাটুর নিচ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। এর বাইরেও প্রথম সারির স্বজনদের কাছ থেকে নমুনা (saliva samples) সংগ্রহ করেও এই পরীক্ষা করা যেতে পারে।  

ইসরাইলের এই সংখ্যা উল্লেখপূর্বক গণকবর দেয়ার প্রবণতাকে নিহতদের পরিবারের ওপর বড় ধরনের মানসিক চাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন হামমাদ।

তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের সবাইকে একসাথে শাস্তি দিতেই এমনটা করছে ইসরাইল। এটা বলে বোঝানো সম্ভব নয় এই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো কতটা মানসিক যন্ত্রনা ভোগ করছে।

হামমাদ আরো জানান, তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে টেলিফোন পান। টেলিফোনে পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা জানতে পেরেছেন যে তাদের অমুক আত্মীয়কে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে কিংবা অমুক সন্তান সম্পর্কে তারা এটা জানতে পেরেছেন।

“যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের সন্তানের লাশ দেখতে না পান, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই আশাই করতে থাকেন যে হয়তো তাদের সন্তান এখনো বেঁচে আছে এবং কোন কারাগারে আটক রয়েছে।”

ফিলিস্তিনের গাজায় মানবাধিকার কেন্দ্র আল মিজান (Al Mezan rights centre) থেকে মারভাত নাহাল (Mervat Nahhal) বলেন, ইসরাইল ২০০০ সাল থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে এই কৌশলকে জোরদার করেছে।

নাহাল আরো জানান, ইসরাইল কোন মৃতদেহের সাথে ডেথ সার্টিফিকেট দেয় না। এমনকি নিহতদের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা থাকে না। আসলে ইসরাইল এমনই এক দেশ যে কিনা কোন আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করে না।

কিন্তু প্রিয় সন্তানের লাশটি অন্তত ফেরত পাবার প্রানান্তকর এই প্রচেষ্টা যে পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে সব সময় চালিয়ে যাওয়া হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। শাদী বাবা নাসসারের কথায় সেই প্রত্যয়ই যেন ফুটে উঠেছে। “আমাদের সাধ্যে যতটুকু আছে তার সবটুকু দিয়ে আমরা চেষ্টা করবো। নিজ সন্তানদের ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আমরা সব সময়ই আশাবাদী।”

(সূত্র: আল জাজিরায় প্রকাশিত জিনা তাহহান (Zena Tahhan) এর প্রতিবেদন অবলম্বনে)