কুরবানীর আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন বাকি। এখনো ভারত থেকে গরু আসছেনা, তাই দেশীয় পশুর উপর ভরসা করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার ঈদে কুরবানির পশুর দাম বাড়তে পারে। আর ব্যাবসায়ী ও খামারীরা মনে করছেন ভারত থেকে যদি আর গরু না আসে, তাহলে তারা লাভবান হবে।
মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেছেন, 'ঈদের আর বাকি মাত্র ১০/১২ দিন আর ভারত থেকে গরুও কম আসছে তাই এবার গরুর দাম বাড়তে পারে।'
অপরদিকে সরকারি এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিবছরে ভারত থেকে প্রায় ২০ লাখ গরু আসে সেখানে এবছর ৮ মাসেও ২ লাক্ষ গরুও আসেনি।
যার কারণে দেশের মাংস বাজার ইতপূর্বেই বেড়ে গেছে। এ কারণে এবার গরুর বাজার বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে সবাই।
এদিকে বগুড়া সদরের লাহিড়ীপাড়ার ইউনিয়নের খামারি আঃ লতিফ টাইমনিউজকে বলেন, 'আমি প্রতিবছরই গরুর দাম কম পাই যেহেতু এবার ভারত থেকে গরু আসছেনা তাই এবার ভাল একটা দাম পাওয়া যাবে।'
নাটোরের বাড়াইগ্রামের খামারী জাফর ইকবাল টাইমনিউজকে বলেন, 'ভারত থেকে গরু আসুক আর না আসুক কুরবানির পশুর দাম তেমন কোন প্রভাব পড়বেনা।'
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরুর হাটগুলোতে এখনো গরুর দাম তেমন না বাড়লেও ঈদের আগে যদি ভারত, মিয়ানমার থেকে গরু না আসে তাহলে দাম বাড়তে পারে এমনটি বলছিলো বগুড়ার মহাস্থান হাটের আব্দুস সালাম নামের এক ব্যাবসায়ী।
এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং পশ্চিম বঙ্গের সীমান্ত পরিদর্শন করে বিএসএফের প্রধানকে সীমান্ত দিয়ে যেন কোন গরু পাচার না হয় সে নির্দেশ দেয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ হয়ে যায়।
তারপর দীর্ঘদিন ভারত থেকে গরু না আসায় বাংলাদেশের সীমান্ত গরু ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়ে। অনেকেই জড়িয়ে পড়ে মাদক চোরাচালানে। আবার অনেকেই গরু নেওয়ার জন্য ভারতের ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দিয়ে গরু আনতে না পারায় সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।
গেল সপ্তাহে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কিছুটা নমনীয় হওয়ায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে সীমিত পরিসরে গরু আসা শুরু করেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেনাপলের পুটখালি সীমান্তে ৪২০টি ও সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ৬৫০টি গরু বাংলাদেশে আসে।
সীমান্তবর্তী রুদ্রপুরের গরু ব্যবসায়ী তবি মেম্বর জানায়, একদিন যদি ৭০০-৮০০টি গরু ও মহিষ আসে তাহলে ৩ দিন আসেনা। এভাবে অল্পসংখক গরু আসছে। গরু আসা শুরু হলেও মূল্য কমছে না। গরু আসার পরিমাণ যদি বেশি হতো, তাহলে গরুর দাম অনেক কমে যেত। ভ্যাট আদায়কারীরা ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে অনেক গরু পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল আব্দুর রহিম জানান, 'গত বছরের চেয়ে এ বছরে গরু ও মহিষ অনেক কম আসছে। এভাবে সীমান্ত পথ দিয়ে নিয়মিত গরু আসলে এলাকার মানুষ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা থেকে সরে এসে গরুর ব্যবসায় নিয়োজিত হবে। সরকার উপার্জন করবে প্রচুর রাজস্ব।'
এদিকে দিনাজপুরের বিভন্ন সীমান্ত দিয়ে এখনো উল্লেখ্যযোগ্য কোন গরু আসছেনা যার প্রভাব ঈদের বাজারে পড়তে পারে বালে মনে করছেন বিরামপুর গরুর বাজারে আসা গরু ব্যবসায়ী আনসারুল জানান, প্রতি বছর এই সময় ভারত প্রচুর গরু আসে আমাদের ব্যবসাও জমজমাট চলে, কিন্তু এবারে বর্ডারে কড়া নিরাপত্তা থাকায় কোন গরু আসছেনা, তাই আমাদের ব্যবসাও জমে উঠছেনা।
বোঁচাগঞ্জ উপজেলার আইনুল ইসলাম নামের এক গরু ব্যবসায়ী জানান, আমরা কুরবানীকে সামনে রেখে চড়া দামে অনেক গরু কিনেছি, এসময় ভারত থেকে গরু আসলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে। কোরবানির পশুর বাজারে কোনো ঘাটতি হবে না। কারণ, এখনো কৃষকের ঘরে বিক্রির উপযোগী ৩৪ লাখ গরু-মহিষ ও ৭৯ লাখ ভেড়া-ছাগল আছে। এগুলো কোরবানির বাজারের জন্য প্রস্তুত আছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগ পর্যন্ত মায়ানমার থেকে গরু আসবে। দেশীয় উৎপাদনে জোর দেওয়ায় আগামী বছর নিজস্ব উৎপাদন বাড়বে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
আগামীতে সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র।
ভারত থেকে গরু না আসায় সরবরাহ কমেছে, ব্যবসায়ীরাও লাভের সুযোগ নিচ্ছে। এই আশঙ্কা থেকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিবেশ যেন কেউ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। আমরাও ব্যবস্থা নেব।
গত বছরে চাহিদার তুলনায় বেশি গরু বাজারে ঢুকে যাওয়ায় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পায়নি।
মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, ঢালাওভাবে গরু আসুক আমরাও তা চাই না। এতে আমাদের প্রাণিসম্পদের ক্ষতি হবে, ব্যবসায়ীরাও লোকসানে পড়বে।
কেএইচ





