তুরস্কের ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান উমিত দান্দার শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন যে ষড়যন্ত্রকারী ১০৪ সেনাসদস্য এবং ৪৭ জন সাধারণ মানুষসহ আরও অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়িলদিরিমের বরাত দিয়ে আলজাজিরার খবরে আরও বলা হয়, অন্তত ১৪৪০ জন আহত হয়েছেন এবং ২৮৩৯ বিদ্রোহী সেনা সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে অবশ্য দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় (Interior Ministry) এক বিবৃতিতে জানায় ব্যর্থ সেনা অভুত্থানকে ঘিরে তুরস্কে শনিবার অন্তত ১৫৬৩ জন বিদ্রোহী সেনাকে আটক করা হয়েছে । তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদুলুর খবরে এমনটি বলা হয়।
মন্ত্রনালয় সূত্রে আরও বলা হয়, এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন উচ্চ পদস্থ সেনা সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন ৫ জন জেনারেল এবং ২৯ জন কর্নেল।
![]()
এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সেনাবাহিনীর একটি অংশ সরকার উৎখাতের উদ্যোগ নিয়েছিল।
শুক্রবার রাতে সেনা বাহিনীর ক্যু ঘোষণার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক তুর্কি টেলিভিশনে দেয়া এক বার্তায় এরদোগান মানুষকে রাস্তায় নেমে আসার আহবান জানান। “স্কয়ারে চলে যান, তাদেরকে উপযুক্ত জবাব দিন (go to squares, let us give them the best answer)”.
সেনাবাহিনীর একটি অংশের ক্যু ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইস্তাবুলে আতাতুর্ক বিমানবন্দরে পৌঁছান এরদোগান এবং ঘোষণা দেন যে, দেশের অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করবেন না।
এ সময় বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হওয়া বিপুল সংখ্যক তুর্কিবাসীকে লক্ষ্য করে এরদোগান বলেন, তুরস্কের বিমান চলাচল শুরু হয়ে গেছে। রাজধানী আঙ্কারায় কিছুটা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “এখান থেকে কেউ পিছু হটবেন না। আমিও এই স্থান ত্যাগ করবো না।”
এই ক্যু প্রচেষ্টার মূলে যারা আছেন তাদের উদ্দেশ্য করে এরদোগান প্রশ্ন করেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে উৎখাত করতে চান?
তিনি বলেন, এই জাতির সাথে যথেষ্ট প্রতারণা করেছেন, আর নয়। তিনি প্রতারণার পথ পরিহার করে দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়ারও আহবান জানান ক্যু প্রচেষ্টার সাথে জড়িত মূল হোতাদের।
![]()
এরদোগান কারো নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেননি। তবে, অনেকেই ধারণা করছেন আমেরিকাভিত্তিক আধ্যাত্মিক ধর্ম প্রচারক ফেতুল্লাহ গুলেনকে উদ্দেশ্য করেই এরদোগান এসব কথা বলেছেন।
এদিকে, ইরানভিত্তিক প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ক্যু ষড়যন্ত্রের মূল হোতা আসলে কে তা নিয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী খবর।
শনিবার এক বিবৃতিতে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়িলদিরিমও আমেরিকা ভিত্তিক ফেতুল্লাহ গুলেনকে এই ক্যু প্রচেষ্টার জন্য দায়ী করেছেন।
এক সময়ের পরামর্শক ও আধ্যাত্মিক গুরু ফেতুল্লাহ গুলেনের সাথে নানা কারণে দূরত্ব সৃষ্টি হয় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের এবং গুলেনও বেশ কয়েক বছর ধরে আমেরিকায় অবস্থান করছেন এবং তুরস্কে ফিরছেন না।
তবে, ক্যু ষড়যন্ত্রের ঘটনায় দেয়া এক বিবৃতিতে গুলেন বলেন, এই চক্রান্তের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। এমনকি শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে এই সামরিক অভুত্থান প্রচেষ্টার নিন্দাও জানান গুলেন।
তিনি বলেন, “একের পর এক সেনা অভুত্থানের মুখে গত ৫ দশক ধরে যিনি ভুগছেন, তার বিরুদ্ধে সেনা ক্যু’র উস্কানির অভিযোগ বিদ্রুপ ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি সুস্পষ্টভাবে এই অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি”।
এদিকে, তুরস্কের নাগরিকদের অনেকেরই ধারণা এককালের গভীর বন্ধু এরদোগান ও ফেতুল্লাহ গুলেনের ভেতরে সৃষ্ট তিক্ততার পেছনে ইহুদি-খৃষ্টান লবীর গভীর চক্রান্ত রয়েছে। দেশ ও ইসলামের স্বার্থে দু’জনই আবার এক মেরুতে আসবেন বলেও অনেকের প্রত্যাশা।
কেবি





