লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সিনিয়র কমান্ডার সামির কান্তারের হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটি মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ।

সোমবার রাতে লেবাননের আল-মানার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে নাসরুল্লাহ বলেছেন, “সামির কান্তার আমাদেরই একজন ছিলেন। তার হত্যাকারীদের ছেড়ে দেয়া হবে না। আমরা সঠিক সময়ে যথাযথভাবে প্রতিশোধ নেব।”

ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হিজবুল্লাহর এ ঘোষণায় নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে কী নতুন যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলতে যাচ্ছে? হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধ কী আসন্ন?

হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য

রাজধানী বৈরুতে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে সোমবার কান্তারের নামাজে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তারপর ভাষণ দেন সাইয়্যেদ নাসরুল্লাহ। ভাষণে তিনি বলেন, “আমাদের পছন্দমতো সময় ও স্থানে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার আমরা সংরক্ষণ করি। হিজবুল্লাহর প্রতিটি সদস্যের এই অধিকার রয়েছে।”

হামলা সম্পর্কে সাইয়েদ নাসরুল্লাহ বলেছেন, “ইহুদিবাদী ইসরাইলের জঙ্গিবিমান থেকে হামলা চালিয়ে যে সামির কান্তারকে হত্যা করা হয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের কোনো সংশয় বা প্রশ্ন নেই। সামির কান্তার মুক্তি পাওয়ার প্রথম দিন থেকেই হত্যার বিষয়ে হুমকির মুখে ছিলেন, কারণ ইসরাইল তাকে ভুলে যায় নি।”

শহীদ কান্তারকে ফিলিস্তিনির ‘সত্যিকার প্রেমিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হাসান নাসরুল্লাহ আরো বলেছেন, সামির কান্তারের মনের মাঝে সবসময় ফিলিস্তিন ছিল, ফিলিস্তিনই ছিল তার সমগ্র জীবন, ফিলিস্তিন ছিল তার শেষ গন্তব্য এবং ফিলিস্তিনের জনগণের আন্দোলনই ছিল তার মূল ভাবনার বিষয়।  

এর আগে সামির কান্তারের নামাজে জানাযার সময় হিজবুল্লাহর নির্বাহী পরিষদের প্রধান হাশেম সাফিউদ্দিন তাদের কমান্ডারের শাহাদাতের জন্য তেল আবিবকে দায়ী করেন।

তিনি বলেছেন, “যদি ইসরাইলিরা ভেবে থাকে কান্তারকে হত্যা করার মাধ্যমে তারা হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে পারবে তাহলে তারা ভুল করছে। কারণ, এক কান্তার শহীদ হলেও আরো বহু কান্তার হিজবুল্লায় যোগ দেবে। সামির কান্তারকে হত্যার জন্য ইসরাইলকে মূল্য দিতে হবে।”

যেভাবে হামলা

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে শনিবার রাতে ইসরাইলি জঙ্গিবিমান থেকে ছোঁড়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহীদ হন সামির কান্তার। তিনি যে বাসভবনে থাকতেন ওই হামলায় তা ধ্বংস হয়ে যায় এবং এতে তার সঙ্গে আরো অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।

এ সম্পর্কে হিজবুল্লাহর মিডিয়া রিলেশন্স বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, “১৯ ডিসেম্বর শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটের সময় ইহুদিবাদীদের বিমান সিরিয়ার জারামানা শহরের একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে; এতে কান্তার শহীদ হয়েছেন।”

হিজবুল্লাহ পরিচালিত আল-মানার টেলিভিশন চ্যানেল তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, চারটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরাইল কান্তারের বাসভবনে হামলা চালায় এবং এতে ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। হামলায় আশপাশের কয়েকটি ভবনেরও ক্ষতি হয়েছে।

আল মানার বলেছে, এ হামলার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, সিরিয়ায় যেসব সন্ত্রাসী তৎপর আছে তাদের সঙ্গে ইহুদিবাদী ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।    

এস-৪০০ নিয়ে নানা প্রশ্ন

এদিকে, সিরিয়ায় মোতায়েন এস-৪০০ এর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রধানত রাশিয়া ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা লড়াই করছে। অর্থাৎ সিরিয়ার মাটিতে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান মিত্র বা অংশীদার হচ্ছে হিজবুল্লাহ। অথচ সেই সংগঠনের একজন শীর্ষ কমান্ডারকে বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ইহুদিবাদী ইসরাইল হত্যা করল কিন্তু রাশিয়া তাকে রক্ষার জন্য এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করল না? এর কী কারণ থাকতে পারে? তাহলে কী রুশ এস-৪০০ ব্যবস্থা অকার্যকর? নাকি এ ব্যবস্থা শুধুই রুশ বিমান ও তার বাহিনীর সদস্যদেরকে রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে?

অথবা যেসময় ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তখন কী এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল না? যদি চালু থেকে থাকে তাহলে কেন এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দিল না? অথবা বিষয়টি কী এমন যে, ইসরাইলের তৎপরতা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে রাশিয়া কিছু জানতেই পারে নি এবং সেই ফাঁকে হিজবুল্লাহর কমান্ডার নিহত হয়ে গেলেন? নাকি এ হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়ে রাশিয়াকেও ইসরাইল কোনো বার্তা দিল?

ইসরাইল হিজবুল্লাহকে তাদের আঞ্চলিক প্রধান দুশমন মনে করে। আবার সিরিয়ায় যে উগ্র গোষ্ঠী আইএস তৎপর তাদেরকে সহায়তা দিচ্ছে ইসরাইল। সেই আইএস’র বিরুদ্ধে লড়াই করছে হিজবুল্লাহ ও রাশিয়া। সামির কান্তারকে হত্যা করে কী হিজবুল্লাহ ও রাশিয়া দু পক্ষকেই একসঙ্গে সতর্কতা বার্তা দিল ইসরাইল?

একইসঙ্গে অনেকে অনলাইন জগতে এ প্রশ্নও তুলছেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই কেন হিজবুল্লাহ তেল আবিবকে জবাব দেয় নি? এ ধরনের দেরির কারণে ইসরাইল দিন দিন আস্কারা পেয়েছে বলেও অনেকের মন্তব্য।

হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধ কী আসন্ন?

কমান্ডার সামির কান্তারের মৃত্যুর পর তার রক্তের বদলা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের জাতীয় সংসদ। ২০০’র বেশি সংসদ সদস্য এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। সামির কান্তারের হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তারা হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে, গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন জাবেরি আনসারি সামির কান্তার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি হচ্ছে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের চরম বহিঃপ্রকাশ এবং এটি তাদের প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।

আবার হিজবুল্লাহ মহাসচিবও সামির কান্তারের হত্যার বদলা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও ইসরাইল সরাসরি হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করে নি তবে ইসরাইলের গণমাধ্যমগুলো সে দায় স্বীকার করে নিয়েছে। এ অবস্থায় হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর যদি কোনোভাবে পাল্টা হামলা চালায় তাহলে একটা ছোটখাটো আকারের হলেও যুদ্ধের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

সামির হত্যার একদিন পর লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ রকেট ছুঁড়েছে এমন অজুহাত তুলে ইসরাইল লেবাননের অভ্যন্তরে কামান বা মর্টারের গোলা বর্ষণ করেছে। তবে হিজবুল্লাহ বড় কোনো জবাবে যায় নি। ধারণা করা হচ্ছে- সিরিয়া সংকটে যেহেতু হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত রয়েছে সে কারণে এখনই যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খুলবে না। সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মিত্র জোটের যোদ্ধারা বিজয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে বলে নানা খবর থেকে জানা যাচ্ছে। সে কারণে এখনই ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সম্ভনা কম। কারণ এতে সিরিয়া অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হয়ত এই অংক কষে ইসরাইলও সুযোগ নিয়েছে। এ জন্য হিজবুল্লাহকে শীর্ষ পর্যায়ের একজন কমান্ডারকে হারাতে হলো।

তবে, যে হিজবুল্লাহ দিনে দিন আজকের পর্যায়ে এসেছে এবং সামরিক দিক দিয়ে যথেষ্ঠ শক্তি অর্জন করেছে সে হিজবুল্লাহ বিনা চ্যালেঞ্জে ইসরাইলকে ছেড়ে দেবে -এমন ভাবারও কারণ নেই। বড় জোর ভালো সুযোগ ও সময়ের অপেক্ষা করবে তারা। এই ইসরাইলকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারাই প্রচণ্ড মার দিয়ে দক্ষিণ লেবানন থেকে পালাতে বাধ্য করেছিল।

কে এই সামির কান্তার?

সামির কান্তার ২৯ মতান্তরে ৩০ বছর ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকার পর ২০০৮ সালে হিজবুল্লাহ ও তেল আবিবের মধ্যে এক বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ১৬ বছর বয়সে ইসরাইলের নাহারিয়া এলাকায় এক দুঃসাহসিক অভিযান চালাতে গিয়ে তিনি শেষ পর্যায়ে আটক হয়েছিলেন।

সেই অভিযানে তিনি এবং তার কয়েকজন সঙ্গী ইঞ্জিন বোটে করে ইসরাইলের ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে আটক হলে ইসরাইলি আদালতের বিচারে তাকে ৫৪২ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার আগে তিনি ১৯৭৮ সালে ‘প্যালেস্টাইন লিবারেশন ফ্রন্ট’ এ যোগ দিয়েছিলেন।

১৯৬২ সালের ২০ জুলোই তিনি লেবাননে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জানা যায়- দ্রুজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও পরে তিনি মুসলমান হয়েছিলেন।

কারাগারের দিনগুলোতে সামির কান্তারের ওপর অসম্ভব রকমের নির্যাতন চলেছে এবং এক কারাগার থেকে আরেক কারাগারে নেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি তার অবস্থানে অটল থেকেছেন। এ কারণে ফিলিস্তিন ও লেবানন অঞ্চলে তিনি প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।

২০০৬ সালের ১২ জুলাই লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরাইলের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয় এবং ৩৩ দিনের সে যুদ্ধে ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননের এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ মারা গেলেও ইসরাইল কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি।

শেষ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর তুমুল প্রতিরোধ ও হামলার মুখে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয় এবং ২০০৮ সালে বন্দিবিনিময় চুক্তি করে। সেই চুক্তির আওতায় সামির কান্তারসহ লেবাননের বহু বন্দী ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্ত হন। মুক্ত হয়ে আসার পর সামির বিমাবন্দরেই ঘোষণা করেছিলেন, তিনি ফিরে এসেছেন ফিলিস্তিনের জন্য এবং ফিলিস্তিনের জন্য তার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সেই থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজেকে ইসরাইল-বিরোধী লড়াইয়ে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

চলতি বছরের প্রথম দিকে ভুলক্রমে সামির কান্তারের মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়। সিরিয়ার গোলান মালভূমির কুনেইত্রা এলাকায় একটি বহরের ওপর হামলা চালায় ইসরাইল। সেই হামলায় হিজবুল্লাহর কয়েকজন যোদ্ধা শহীদ হন। সে সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, কমান্ডার সামির কান্তার শহীদ হয়েছেন।  

সিরিয়ায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে তিনি চুপ করে বসে থাকেন নি। এ সহিংসতার পেছনে ইসরাইল ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জগতের মদদ থাকার কারণে তিনি এ যুদ্ধে সিরিয়ার পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য মনে করে। হিজবুল্লাহর শীর্ষ পর্যায় থেকে নেয়া সিদ্ধান্তের আলোকে সামির কান্তার সিরিয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এবং সিরিয়ার সেনাদের পাশাপাশি হিজবুল্লাহর কমান্ডার হিসেবে তিনি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে থাকেন।

ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তার মূল টার্গেট ছিল ইসরাইলের কবল থেকে পবিত্র আল-কুদস মুক্ত করা। কিন্তু সিরিয়ার কারণে সে লক্ষ্য কিছুটা বিচ্যুত হয়ে যায়। তবে তার স্বপ্ন ছিল সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার পর ফিলিস্তিনের দিকে নজর দেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে স্বপ্ন পূরণ অন্যের ওপর অর্পণ করে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেছেন।

সামির কান্তারের শহীদ হওয়ার খবর প্রকাশ হলে লেবাননের প্রতিরোধকামীরা তার পরিবারকে অভিনন্দন জানান। যেহেতু তারা মনে করেন, শহীদ হওয়াটাই হচ্ছে একজন প্রতিরোধ যোদ্ধার চূড়ান্ত লক্ষ্য, সে কারণে সামির কান্তার শাহাদাত বরণের মাধ্যমে সে লক্ষ্য অর্জন করেছেন।

প্রতিরোধ সংগ্রাম, দুঃসাহসিক অভিযান, ইসরাইলের কারাগারে দিনযাপন প্রভৃতি নিয়ে সামির কান্তার “মাই স্টোরি” নামে একটি বই লিখেছেন। তাতে তিনি জীবনের নানা স্মৃতি, নানা পরিকল্পনা ও তৎপরতার কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রতিরোধ আন্দোলনের ৪০ বছর পর তিনি নিজের জীবন দিয়ে বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়ে গেলেন কীভাবে শেষ হলো তার জীবনের গল্প। তার জীবন বইয়ের শেষ অধ্যায় ছিল “স্বাধীনতা” এবং নিজের রক্ত দিয়েই তা লিখে গেলেন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, রেডিও তেহরান