সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের দুটি ভুয়া পাসপোর্টের ছবির বরাত দিয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ইংরেজি জাতীয় দৈনিক দি ডেইলি স্টারসাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার (১৩ই আগস্ট ২০১৫)। এতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ ৫ টি বলে জানায় ডেইলি স্টার।

ডেইলি স্টার সংবাদটির শুরুতেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি প্রকাশিত কৌতুক সৃষ্টিকারী বেগম খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের যেই দুটি ছবি ব্যবহার করে তা ভূয়া বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হয়। অনেকেই খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের আসল পেইজটি স্ক্যান করে ডেইলি স্টারকে রীতিমতো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেন।

এমনই পটভূমিতে খবরটি প্রকাশের একদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই ইংরেজি জাতীয় দৈনিকটি তার ভুল স্বীকার করলো। পরদিন শুক্রবার (১৪ই আগস্ট ২০১৫) ডেইলি স্টার “Khaleda’s passport scans are fake!” অর্থাৎ খালেদার পাসপোর্টের স্ক্যান ভূয়া-শীরোনামে নিজেদের আগের ভুল খবরের দায় স্বীকার করে নেয়।

সংশোধিত প্রতিবেদনের শুরুতেই ডেইলি স্টার জানায়, সম্প্রতি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া বেগম খালেদা জিয়ার যেই দুটি পাসপোর্টের স্ক্যানিং ছবিতে তার জন্ম তারিখ ৫ই আগস্ট ১৯৪৬ সাল উল্লেখ করা হয় তা জাল প্রমাণিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে খালেদার আলোচিত ওই দুই পাসপোর্টের স্ক্যানিংয়ে ফটোশপের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে, দুটো পাসপোর্টই যা ২০০৯ সালের পরে ইস্যু করা হয়েছে তাতে খালেদার জন্ম তারিখ ১৫ই আগস্ট ১৯৪৬ সাল উল্লেখ ছিল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে বলেও জানায় ডেইলি স্টার।

পরবর্তীতে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া খালেদার মূল পাসপোর্টের ছবির সাথে একই সূরে ডেইলি স্টার এ পর্যায় জানায়, খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখের যেখানে ১৫ আগস্ট লেখা ছিল সেখানে লাল গোল চিহ্ন দিয়ে মার্কিং করার নামে ১ সংখ্যার ওপর এমনভাবে দাগ দেয়া হয়েছে যে মনে হয় ৫ আগস্ট লেখা রয়েছে।

অপরদিকে, বেগম জিয়ার মেশিন রিডেবল অপর যেই পাসপোর্টে তার জন্ম তারিখ ৫ই আগস্ট ১৯৪৬ সাল বলে উল্লেখ করা হয় এবং ডেইলি স্টারের ১৩ই আগস্টের প্রতিবেদনে যার রেফারেন্স দেয়া হয় তাও ভূয়া প্রমাণিত হয়েছে।

ডেইলি স্টার সোজাসাপ্টাভাবেই বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে। আর তা হলো-এখানে ১৫ই আগস্টের “১” সংখ্যাকে ফটোশপের মাধ্যমে খুব নিখুঁতভাবে “0” করে দেয়া হয়েছে। তবে, জালিয়াত চক্রের ছোট্ট একটি ভুলের কারণে বিষয়টি ধরা পড়ে যায়।

জালিয়াতকারীরা ভুলে গিয়েছিল যে পাসপোর্টে জন্মতারিখ লেখা সংশ্লিষ্ট পাতার নিচের দিকেও জন্ম তারিখ লেখা থাকে। তবে একটু ভিন্নভাবে। যেমন খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের ওই পাতার নিচে লেখা ছিল “BGD19460815” অর্থাৎ তার জন্ম তারিখ ১৫ই আগস্ট ১৯৪৬ সাল। এখানে পরিবর্তন আনতে একদমই ভুলে যায় জালিয়াত চক্র।

এ বিষয়টি স্বীকার করে ডেইলি স্টার জানায়: “In the bottom row, the information about her date of birth remains unchanged as it shows “BGD19460815”. This means the faker had forgotten to manipulate this part.”

প্রতিবেদনের এ পর্যায়ে ডেইলি স্টার জানায়, সম্ভবত জালিয়াতি চক্র এই কাজে উৎসাহিত হয়েছিল এ কারণে যে খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে খালেদা জিয়ার ৪টি জন্ম তারিখ রয়েছে। তা হলো-৫ই আগস্ট ১৯৪৪, ১৯শে আগস্ট ১৯৪৭, ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ এবং ১৫ই আগস্ট ১৯৪৬।

প্রতিবেদনের এখানে এসে ডেইলি স্টার গতকালের (১৩ আগস্ট ২০১৫) প্রতিবেদনের কিছুটা প্রায় পুরোপুরি অপরিবর্তিত রেখেই তুলে ধরে। টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্যও তা উল্লেখ করা হলো:

“খালেদা জিয়া নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে তার জন্ম তারিখ ১৫ই আগস্ট পালন করে আসছেন। এর আগে আমরা কখনই তাকে জন্ম তারিখ পালন করতে দেখিনি।

কিন্তু তার (খালেদার) ১৫ই আগস্টের জন্ম তারিখ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর সাথেমিলে (coincides)যায়।

অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার (খালেদা জিয়ার) জন্ম তারিখ বিভিন্ন রকম উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে গণমাধ্যমের এক রিপোর্টে বলা হয়, খালেদা জিয়া তার মেট্রিকুলেশান পরীক্ষার ফর্মে নিজের জন্ম তারিখ ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ উল্লেখ করেছেন।

খালেদা জিয়ার বিবাহ সনদ ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার রেকর্ডে জানা যায়, ওই দুই ক্ষেত্রে তার জন্ম তারিখ যথাক্রমে ৫ই আগস্ট ১৯৪৪ এবং ১৯ আগস্ট ১৯৪৭।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ১৫ই আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে খালেদা ক্ষমতায় আসার পর ১৫ই আগস্টের জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর আবারও ১৫ই আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে দেয়া পাসপোর্টের বরাত দিয়ে দি ডেইলি স্টারের ১৩ আগস্টের প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে ফেসবুকে পরক্ষণেই প্রতিবাদ জানিয়েছিল নোমান খান নামের একজন যা টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ ৫ই আগস্ট ১৯৪৬ সাল উল্লেখ করে ফেসবুক থেকে খালেদার পাসপোর্টের যেই ছবি ডেইলি স্টার উল্লেখ করেছিল তাকে ভুয়া আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি।

একই সাথে প্রতিবাদকারী নোমান খান খালেদা জিয়ার ওই একই পাসপোর্টের একই পাতার ছবি পোস্ট করেন যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ ১৫ই আগস্ট উল্লেখ করা হয়েছিল। টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য নোমান খানের পোস্ট করা ১৫ই আগস্ট ১৯৪৬ সালে খালেদা জিয়ার জন্ম সংক্রান্ত পেইজটি এখানে আবারও সংযুক্ত করা হলো।

কেবি