সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং সাংবাদিক ও প্রবাসী কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে আগামী সপ্তাহে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসছে। ইসলামী দল-সংগঠনগুলো পৃথক কিংবা যৌথভাবে এই কর্মসূচি দিতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
লতিফ সিদ্দিকীকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং ধর্ম নিয়ে কটূক্তিকারী বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইন পাশ ও ওই আইনে লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসি এবং আল্লাহর গুণবাচক নাম নিয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরীর আপত্তিকর মন্তব্যে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে টাঙ্গাইল সমিতির এক মতবিনিময় সভায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এবং পবিত্র হজ সম্পর্কে কটূক্তি করায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের ঝড় উঠে। দেশের আলেম সমাজ ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন তার গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করে। বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে সরকার তাকে মন্ত্রী পরিষদ থেকে সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ তার প্রাথমিক সদস্যপদ কেড়ে নেয়।
এই ঘটনায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সারাদেশে দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৯টি মামলা দায়ের করে বিভিন্ন ব্যক্তি। তার মধ্যে ঢাকার সিএমএম আদালতেই সাতটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর দুই মাস পর ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। এর তিনদিন পর ২৬ নভেম্বর ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করলে লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং গত ২৯ জুন রমজানের মধ্যে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপরই ইসলামী দল ও সংগঠনলোর মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিলও করে তারা। হেফাজতে ইসলাম ২ জুলাইয়ের মধ্যে লতিফকে গ্রেপ্তার না করলে শুক্রবার দেশব্যাপী বাদ জুমা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেয়। পরদিন শুক্রবার রাজধানীসহ সারা দেশে ইসলামি দলগুলো ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করলেও আর নতুন কোনো কর্মসূচি দেয়নি। একইদিন ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিম, সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল করে। কিন্তু রমজান মাস থাকায় তারা আরো কঠোর কোনো কর্মসূচি দেয়নি। ওই সময় তারা বলেন, রমজান মাসের পর কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
এর মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ খারিজের জন্য স্পিকারের কাছে গত ৫ জুলাই চিঠি দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর নির্বাচন কমিশনের মতামত চেয়ে স্পিকার চিঠি দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন এখনও তাদের মতামত জানায়নি।
অপরদিকে, গত ৩ জুলাই আমেরিকায় একটি অনুষ্ঠানে আল্লাহর গুণবাচক নামসহ আরবি ভাষা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন লন্ডন প্রবাসী লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী। রমজানে ইসলামি দলগুলোর কয়েকটি ইফতার মাহফিলের আলোচনায় ইস্যুগুলো তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এখনো বক্তব্য বিবৃতিতে দাবি পেশ করে আসছে।
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকী ও আবদুল গাফফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, শিগগির ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের একটি বৈঠক আছে। সেই বৈঠকে লতিফ-গাফফারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরবর্তী কর্সসূচির বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ‘মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। ধর্মের ওপর আঘাত করে কেউ এ দেশে টিকে থাকতে পারবে না। লতিফ-গাফফারাও টিকে থাকতে পারবে না।’
তিনি বলেন,‘ ঈদের আমেজ এখনও কাটেনি। আমাদের নেতৃবৃন্দ এই সপ্তাহেই ঢাকায় আসবেন। তারা ঢাকায় আসলেই বৈঠকে বসবো। এই বৈঠকে আমরা আন্দোলনের কর্মসূটি চূড়ান্ত করে মাঠে নামবো- ইনশাল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘নাস্তিক লতিফ-গাফফারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্যান্য ইসলামী দল ও সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। আমরা পৃথক কিংবা যৌথভাবে এই কর্মসূচি দিতে পারি।’
এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী এমন সময়ে জামিনে মুক্তি পেলেন, যখন সবাই রমজানের সিয়াম সাধনায় ব্যস্ত। সেই সময় জোরালো কোনো কর্মসূচি দেয়া হয়নি। তারপরও আমরা সারাদেশে বিক্ষোভ-মিছিল সমাবেশ করেছি।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কোন আন্দোলন করবো। কেন আন্দোলন করে দাবি বাস্তবায়ন করতে ব্যাধ্য করাবো। যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা মুসলমান। যারা আল্লাহ নাম এবং ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইন পাশ করা এবং শাস্তি দেয়ার দায়িত্ব রয়েছে তাদের।’
তিনি বলেন, ‘ঈদের পর এখনও সবাই নিজ নিজ কর্মস্থলে আসেনি। আমরা শিগগির ওলামা-মাশায়েকদের সঙ্গে বসবো। এই পরিস্থিতিতে ওলামাদের নিয়ে একটি সম্মেলন হবে। সেখানে লতিফ-গাফফারের বিষয় কী কর্মসূচি নেয়া যায় সিদ্ধান্ত হবে।’ তবে এই সম্মেলন কবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ আগামী সপ্তাহে ঘোষণা আসতে পারে।’
ইআর





