টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের অধিকাংশ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড চলছে মেয়াদহীন কমিটি দিয়ে।
তাই তৃণমূল নেতাকর্মীরা একের পর এক অন্তর্কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় বার পূর্ণমেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও দলকে শক্তিশালী করতে চায় দলটির নীতিনির্ধারকরা। এ ছাড়া সরকারে বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সকল দলের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সোচ্চার রাখতে তৃণমূল গোছাতে আবারও মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
এরআগে গত ৮ জুন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা একটি বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা সমূহের যেসব জেলা সম্মেলন হয়নি, তার মধ্যে কয়েকটি জেলায় সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরমধ্যে দু’একটি জেলায় সম্মেলন হলেও বেশিরভাগ জেলাতেই সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।
আগস্ট মাস জাতীয় শোকের মাস। আর দলীয় সম্মেলন মানে আনন্দ-উল্লাস। একথা মাথায় রেখে শোকের মাস আগস্ট উপলক্ষে জেলা সম্মেলন স্থগিত রাখা হয়েছিল। শোকের মাস শেষে সেপ্টেমবরে আবারও তৃণমূল সাজাতে মাঠে নামেন ক্ষমতাসীনরা। ইতোমধ্যে তৃণমূল গোছানোর কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা। খুব শিগগিরই দু' একটি জেলায় সম্মেলন হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের এক নেতা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অধিকাংশ তৃণমূল কমিটির মেয়াদ নেই। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বেশিরভাগ সময়ই মানছেন না হাই-কমান্ডের নির্দেশ। অপরদিকে, দলের হাই-কমান্ড থেকেও তৃনমূলের নেতাকর্মীদের কাছে যাচ্ছে না সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা। ফলে বিভিন্ন সময় নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
তৃনমূলের অন্ত:দ্বন্দ্ব নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা এতদিন খুব একটা সিরিয়াস না হলেও বিরোধী জোটের আন্দোলনের হুমকী-ধামকির পটভূমিতে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন ক্ষমতাসীনরা। তৃণমূল গোছাতে তাই বর্তমানে অনেকটাই সরব হয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। আবার সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। এর একদিন আগেও নির্বাচন হবে না।
অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করছেন। দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন করা হবে বলেও হুশিয়ারি দিচ্ছেন তারা।
দুই দলের এই অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার কথা ভাবছেন না কোন দলই। বিএনপি যেমন নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে সাধারণ ছোট-খাট কর্মসূচি দিচ্ছেন। তেমনি আওয়ামী লীগও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে নিজ দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বার বার অভিযোগ করা হচ্ছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে দেশব্যাপী সহিংস আন্দোলন করেছেন বিএনপি-জামায়ত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। ফের এ ধরনের কোন নাশকতার চেষ্টা করলে সরকার জনগনের জানমাল রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলেও বিরোধী জোটকে সতর্ক করে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। দলীয় নেতার্মীরাও সব সময় মাঠে সরব থাকবেন বলেও জানিয়েছেন দলের হাই-কমান্ড।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ টাইমনিউজবিডি.কমকে বলেন, আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম সব সময়ই চলে। এখনও চলছে। শোকের মাস আগস্টে সম্মেলন না হলেও সারাদেশে আমরা শোক পালন করেছি।সবাই একত্রিত হয়েছি। এটা তো সাংগঠনিক কাজ। সেপ্টেমবর মাসে আমরা খুলনা ও বরিশালে সম্মেলন করবো। বাকি জেলার সম্মেলন পবিত্র ঈদুল আজহার পরে শুরু করবো। সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষেই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।
ঢাকা, এমআর, ৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





