কিছুদিন আগে সায়েদাবাদ ও উত্তরাএলাকায় আরও দুই ব্যক্তি ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হন। সম্প্রতি ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, বিভিন্ন পেশার আড়ালে রাজধানীতে গড়ে ওঠেছে ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারীচক্র। পরিবহনের চালক, হেলপার, রিকশা চালক ও ফুল ব্যবসার আড়ালে একাধিক চক্র ছিনতাইয়ে জড়িত। ওরা দিনে নানা ধরণের কাজ করে; আর রাত হলেই নেমেপড়ে ছিনতাই চাঁদাবাজিতে। ছদ্ধবেশি এই ছিনতাইকারী চক্রের হাতে খুন হয়েছেন কয়েকজন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে র্যাব ও পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সম্প্রতি রাজধানীতে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযানে নামে পুলিশ। ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়ে গেছে যে, পথে-ঘাটে অনেকেই নিরাপদ বোধ করছে না। এরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে শুধু রাস্তাঘাটেই নয় যাত্রীবাহী বাসে, রাস্তায় গাড়ী থামিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে। তবে সব ছিনতাইয়ের মামলা হয় না বিধায় পুলিশের কাছে প্রকৃত পরিসংখ্যানও নেই। বাসে চালকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ছিনতাই এবং শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ আছে। রাতে গ্যাং ছিনতাই বেশি হচ্ছে।
জানা গেছে, এরআগে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ বেশ কিছু এলাকা চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ নগরীর ১৪১ স্পটকে ছিনতাই ও অপরাধপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। বর্তমানে এই স্পটের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, রাজধানীর ৪৯ থানা এলাকায় অপরাধপ্রবণ বেশকিছু এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব স্পটে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে এখন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা রয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত থানা এলাকাগুলোতে টহল পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। এর ফাঁকে কোনো ঘটনা ঘটলে সেগুলো বিচ্ছিন্ন বলে উল্লেখ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে দিন দুপুরে প্রাইভেট কার নিয়ে প্রকাশ্যে ছিনতাইকরা একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, পথে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর ব্যাগ টেনে নেয়ার সময় প্রতিরোধ করেন সেই নারী। তবে গাড়ি নিয়ে ছিনতাইকারী টান দিলে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি। রাজধানীর উত্তরার এই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারী ওই গাড়ি চালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিনব এ ছিনতাইকারীর নাম সুমন। গাড়িতে থেকে পথচারিদের কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যেত সুমন। পুলিশ জানায় ওই ছিনতাইকারী পেশায় প্রাইভেট কার চালক। গাড়ি চালানোর পাশাপাশি ছিনতাই করতো সে। এ জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করতো। ভুক্তভোগী ওই নারী উত্তরার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঘটা ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ওই নারীসহ কয়েকজন রাস্তায় গল্প করছিলেন। এ সময় গাড়িচালক সুমন তার ব্যাগ ধরে টান দেন। চলন্ত গাড়ির পাশে দৌঁড় দিয়ে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পরে হাল ছেড়ে দেন তিনি। তবে, মাটিতে পড়ে গিয়ে তিনি মারাত্মক আহত হন স্কুল শিক্ষিকা। উত্তরা থেকে ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে সে বেশক'টি ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেছে।





