ঈদুল ফিতরের পর সরকার পতনের লক্ষ্যে মাঠে নামছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। এরইমধ্যে রমজান উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত দলীয় ও জোটের বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে ধারাবাহিক গণসংযোগে এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

জোট নেতারাও বিভিন্ন সভা সেমিনারে আন্দোলনের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এছাড়াও বিএনপির মূখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য সিনিয়র নেতারাও বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও ফোরামে দলীয় প্রধানের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি তুলছেন। তবে আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিরোধী জোটের আন্দোলনের সফলতার মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। কারণ গত ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের আগে সারা দেশে আন্দোলন তুঙ্গে উঠলেও খোদ রাজধানীই ছিল অনেকটা নির্জীব। সে সময় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা মহানগর বিএনপি ছিল কার্যত নিষ্ক্রিয়।

আর এজন্য সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হার্ডলাইন যেমন ভূমিকা রেখেছে তেমনি ঢাকা মহানগর বিএনপির নিষ্ক্রিয়তাও বহুলাংশে দায়ী। যার খেসারত দিতে হয়েছে খোকা-সালামের নেতৃত্বে মহানগর কমিটি। নির্বাচনের পর থেকেই দলের হাইকমান্ড সেই সময়কার নগর কমিটিকে ব্যর্থ বলে পুণর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলে ১৮ জুলাই রাতে খোকা-সালামের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ক্ন্তিু রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে কেবল কমিটি পরিবর্তন করেই কেবল আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা যাবে না। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীকে টার্গেট করে সরকার পতনের রণকৌশল চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নেয়ার ছক আকঁতে হবে।

তবে সরকার যেভাবে একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে তাতে করে তারা যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় থাকতে মরিয়া হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। আর এজন্য যেকোনো আন্দোলন দমন করতে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। তবে বিরোধী জোটেরও উচিত হবে এর পাল্টা কৌশল নিয়ে মাঠে নামা। ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও আন্দোলনের কর্মসূচিতে রাখা উচিত।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর সরকার পতনের এবারের আন্দোলনের কৌশল অনেকটাই পাল্টে যেতে পারে। হরতাল অবরোধের পাশাপাশি রাজধানীতে গণজমায়েত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। আন্দোলন সফল করার জন্য কেবল মহানগর কমিটির ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হবে না। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যারা রাজধানীতে অবস্থান করেন তাদেরও দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হবে। অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা কোনো নেতার গাফলতি বরদাশত না করার কঠোর হুঁশিয়ারিও দেয়া থাকবে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানা কমিটিকে আলাদাভাবে নিজ নিজ শক্তিমত্তা প্রয়োগের নির্দেশনা দেয়া হবে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতাদেরকেও কর্মসূচি পালনের সময় ঢাকার রাজপথে থাকার অনুরোধ জানানো হবে। দলের প্রতিটি কর্মসূচি বিএনপি চেয়ারপারসন নিজে মনিটরিং করবেন। অর্পিত দায়িত্ব পালনে কারও গাফলতি হলে তার কাছে কৈফিয়ত তলব করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ঈদের পরে জনগণের অংশগ্রহণে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হবে তার জন্য অবশ্যই নতুন করে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের আন্দোলনে কোন কৌশলগত ত্রুটি ছিল কিনা সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর এবারের আন্দোলনে ঢাকা মহানগরীকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আন্দোলন প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ঈদের পর আন্দোলন সফল করতে হলে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবেই আন্দোলন সফল হবে।

ঈদের পর আন্দোলনের বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল টাইমনিউজবিডিকে বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী গণবিচ্ছিন্ন জালিম সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের জনগনের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য দেশ নেত্রী খালেদা জিয়া ঈদের পরে যে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বিএনপির প্রতিটা নেতাকর্মী জীবনবাজী রেখে তা সফল করবে।

তিনি আরও বলেন, এদেশের জনগণ অতীতে কখনও স্বৈরাচার ও একদলীয় শাসন মেনে নেয়নি। বর্তমানেও মেনে নেয়নি। তাই বিএনপির নেতৃত্বে গণ আন্দোলনের মাধ্যমেই অবৈধ সরকারের পতন ঘটানো হবে।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে বলেন, সারা দেশের আন্দোলনকে যেমন সফল বলা যায়, তেমনি ঢাকা মহানগরীর নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতার কারণে একদলীয় নির্বাচন ঠেকানো যায়নি এটিও সত্য। তাই এবার আন্দোলন সফল করতে হলে ঢাকা মহানগরীকেই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে।

ঢাকা, এমএইচ, ২৪ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর