মিয়ানমারের উত্তরের রাখাইন প্রদেশে নিজ গ্রাম ছেড়ে যখন ফাইজুল পালিয়ে আসছিলেন তখনও আকাশপানে আগুনের কুণ্ডলি ও ধোয়া উড়ছিল। এদিকে, বিধ্বস্ত গ্রামের বনজঙ্গলের মধ্য দিয়ে পালানোর সময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শক্ত গাছ-গাছালির আঘাতে শরীরের প্রায় সর্বত্রই যে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে সেদিকে খেয়ালেই ছিল না ফায়জুলের।
মৃত্যুর তাড়া খেয়ে ছুটে পালানো এই রোহিঙ্গার তখন একটাই লক্ষ্য মাথার ওপর উড়তে থাকা হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষিপ্ত গোলার আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচানো। অবশেষে কোনমতে প্রাণটা নিয়ে সে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে, অনেক চেষ্টার পর জীবনটা বাঁচাতে পারলেও এক পর্যায়ে বুলেটে এসে আঘাত হানে তার ডান পায়ে।
গলফ খেলার বলের মতো ফুলে গেছে ফায়জুলের সেই পা। পায়ের মাংসপেশী অনেকটাই হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে যা পচন ধরার সংকেত দিচ্ছে।
এরই মধ্যে গত হয়ে গেছে দুই সপ্তাহ। প্রতিনিয়ত ফায়জুলের শ্রান্ত-ক্লান্ত শরীরটার আরো গভীরে আঘাত হানার পায়তারা করছে ব্যাকটেরিয়া। কোনমতে তাকে একটি শরনার্থি শিবিরে হয়তো বা পৌঁছে দেয়া হবে, কিন্তু অদ্যাবদী সে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দেখা পাননি।
“আমি প্রতিদিন হন্নে হয়ে ঘুরে বেরিয়েছি এ বাড়ি থেকে সে বাড়িতে। কারণ এখানে আমার পরিচয় আমি একজন অবৈধ।” ভাবলেশ ভঙ্গিতে ফায়জুল যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন তার মুখ বেয়ে একনাগারে ঘাম ঝড়ছিল, যেন ফোটা ফোটা ঘামের মুক্তো দিয়ে গড়া মালা ঘিরে ধরেছে তার মুখমন্ডলকে।

মিয়ানমার সেনাদের বর্বরতা
ইয়া খো চং খোয়া সোন (Yay Khaw Chaung Khwa Sone) গ্রামটি যখন ভয়ানহ হামলার শিকার হয় তখন ফায়জুল তার গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই বছরের এক সন্তান নিয়ে সেখানেই বাস করছিলেন। একদিন আগে রোহিঙ্গা যোদ্ধাদের এক হামলায় এক সামরিক কমান্ডার (column commander) নিহত হওয়ার পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবেই মিয়ানমার জান্তা এই গ্রামে ওই নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল। মিয়ানমারের নিয়মিত ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণে থাকা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক ও স্বাধীন বেসরকারী সংগঠনের প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়।
“সেনাবাহিনী গ্রামটিতে প্রবেশ করলো এবং সামনে যাকেই পাচ্ছিল তাকেই হত্যা করছিল। আমার সাথে পালাতে থাকা চারজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।আমি নিজের চোখে সেটা দেখেছি।” কথাগুলো জানালেন ফায়জুল। এমনই আরো বহু নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হয়েছিল বলেও জানান ফায়জুল।
“আমি দেখেছিলাম দু’জনকে একটি খড়ের স্তুপের মধ্যে লুকোতে। তাদেরকে সেখানেই জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়…। সেই আগুনে দুটি মেয়েকেও ছুঁড়ে ফেলা হয়।” আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে কথাগুলো বললেন ফায়জুল।
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার সাথে এক প্রতিক্রিয়ায় এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জো হিতে (Zaw Htay)।
তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা তিনি অস্বীকার করছেন না…, কিন্তু মংডুর (রাখাইন প্রদেশের একটি শহর) মুসলিমরা যা বলে তা বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ তারা নিজেদের গ্রামে আগুন দিচ্ছে। সেখানে অবস্থানরত স্থল সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে এমনই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।”
তবে, মিয়ানমার সরকারের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয়। কারণ রাখাইন প্রদেশটি বরাবরই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। সেখানে কোন দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমকে ঢুকতে দেয়া হয় না। আর এরই মধ্যে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রদেশে মিয়ানমার সেনাদের গণহত্যা ও ধর্ষণের খবর প্রচারিত হচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
বিগত কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের পটভূমিতে প্রথমবারের মতো পাল্টা প্রতিরোধের খবর শোনা যায় দুই মাস আগে। ওই খবরে বলা হয়, রোহিঙ্গা যোদ্ধারা মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীদের (Myanmar border guard) এক চৌকিতে হামলা চালায়। এতে নয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন।
ওই প্রতিরোধ হামলার জবাবে তীব্র নিপীড়ন ও প্রতিশোধ হামলায় মেতে উঠে মিয়ানমার সরকার। সত্যিকার অর্থে কাদের আক্রমনে নয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হলেন তার কোন নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য ছাড়াই একতরফা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনে মেতে উঠে দেশটির সেনা সদস্যরা। মিয়ানমার সরকারের হিসেবেই এ পর্যন্ত শতাধিক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সেনা হামলায় নিহত হয়েছেন।
তবে, স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি। একইসাথে মিয়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাযজ্ঞ, গণগ্রেফতার, জ্বালাও-পোড়াও ও ধর্ষণের ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার অভিযোগ, মিয়ানমার সরকার মূলত রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ‘সাম্প্রদায়িক নিধনযজ্ঞ (ethnic cleansing)’ চালাচ্ছে।

প্রথমবারের মতো আকাশ পথে হামলা
সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনা ও চরমপন্থীদের সবশেষ প্রতিশোধমূলক নিপীড়ন শুরুর পর এই প্রথম ইয়া খো চং খোয়া সোন গ্রামে হামলার ক্ষেত্রে কামান ও বিমানের ব্যবহার করা হলো। এসব আক্রমনের পরে রক্তাক্ত শিশু এবং আগুনে পোড়া মৃতদেহের চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। আর এর সবশেষ ফল হিসেবে উত্তরের রাখাইন প্রদেশ থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমের আশ্রয়ের সন্ধানে প্রতিবেশী বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসতে থাকেন।
এদিকে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি হলো এরইমধ্যে স্বদিচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ৩ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়েছে নিজ ভূখন্ডে। বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছেন।
দুই দেশের অমানবিক আচরণের শিকার
এদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (United Nations High Commissioner for Refugees – UNHCR) পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ সরকার শুধুমাত্র ৩০ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গাকে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাকিরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশেপাশে লুকিয়ে থাকছেন এবং অনেক সময়ই খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য ক্যাম্পের স্বীকৃত রোহিঙ্গাদের ওপর নির্ভর করছেন। তারা প্রতিনিয়ত বিতাড়িত হবার শঙ্কার মধ্যেই এভাবে মানেবেতর জীবন যাপন করছেন।
এভাবে বছরের পর বছর বাংলাদেশের বিরক্তিকে উপেক্ষা করে জীবনের তাগিদে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। একইভাবে, সবশেষ এই চরম দুর্যোগের সময়ও যখন রোহিঙ্গারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসছেন তখনও তারা তাদের পূর্বসুরীদের মতোই বাংলাদেশের কাছ থেকে অবজ্ঞাপূর্ণ ব্যবহার পাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (Amnesty International)-এর দেয়া তথ্যমতে গত দুই সপ্তাহে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর বাংলাদেশ সরকারের ব্যবহার ছিল খুবই রুঢ় এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবি (Border Guard Bangladesh-BGB) তাদেরকে জোর করে ফের মৃত্যুপুরীর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন যে নীতিমালার (principle of non-refoulement) কথা বলা হয়েছে তার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের এভাবে জোর করে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার মধ্য দিয়ে। এর ফলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানরা ফের মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলেও অভিযোগ অ্যামনেস্টির।
অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক চম্পা প্যাটেল (Champa Patel) বলেন, মিয়ানমার এবং বালাদেশ-উভয় দেশের সরকারের নিষ্ঠুর আচরণের বলী হচ্ছেন রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারের চরমপন্থী বৌদ্ধ ও সরকারী বাহিনীর যৌথ হামলা থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এমন নিষ্ঠুরতার ফাঁদে আটকা পড়া রোহিঙ্গারা খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চরমভাবে।

ফায়জুলের কান্না
আবারো ফেরা যাক ফায়জুলের গল্পে। রাতের আঁধারে লুকিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে ঢুকে পড়েছিলেন ফায়জুল। বাংলাদেশের সীমান্ত পুলিশের চোখে ফাঁকি দিতেই ফায়জুলের এই কসরত। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে বিচ্ছিন্নকারী সেই ভয়াল নাফ নদী পাড়ি দিয়ে ফায়জুল এসেছেন এই দেশে। তার সাথে ছিলেন আরো সাতজন পুরুষ। মিয়ানমারে নিজ গ্রামের পাশে আরেক গ্রামে ফায়জুল তার গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তানকে রেখে এসেছেন।
অসহায় স্ত্রী ও ছোট্ট সন্তানকে এভাবে বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে আসার পর থেকেই এক অপরাধবোধ পীড়া দিচ্ছে ফায়জুলকে। যদিও এছাড়া তার কাছে আর কোন উপায়ও ছিল না। তারপরও নিজেকে কিছুটা হালকা করতে ফায়জুল চোখের পানি ফেলতে ফেলতে জানালেন, ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে এমন যাত্রা খুবই বিপদজনক হতে পারতো, যে কোন সময় তার শব্দ করে কেঁদে ফেলার সম্ভাবনা ছিল। আর সেক্ষেত্রে সবারই জীবন বিপন্ন হতে পারতো।
কিন্তু সান্তনার এই বাণীগুলো ফায়জুলের নিজের কাছেই ফিঁকে লাগছিল। পরক্ষণেই তাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন: “যখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হবে, আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আসবো। আমি সারাক্ষণ আমার স্ত্রীর জন্য উদ্বিগ্ন…আর মাত্র দুই মাস পর আমাদের নতুন সন্তান জন্ম নেয়ার কথা।”
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র নিন্দাবাদ সত্ত্বেও সীমান্তে সেনা হত্যার পাল্টা প্রতিশোধ নেয়ার অজুহাতে মিয়ানমার সরকার তার তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। একতরফা হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধার ওপর। আগুনে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দিচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম, গণধর্ষণ চালাচ্ছে অসহায় নারীদের ওপর।
পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে ফায়জুল জানায়, নিজ গ্রাম ইয়া খো চং খোয়া সোন ছেড়ে চলে আসতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। কারণ মিয়ানমার সেনা চৌকিতে যারা হামলা চালিয়েছিলেন তাদের কেউ এই গ্রামে আছে বলে মিয়ানমার সেনাদের বিশ্বাস। এ পরিস্থিতিতে যখনই কোন পুরুষ সদস্যের দেখা পায় সেনারা তাকেই ওই গ্রুপের সদস্য ভেবে হত্যা করছে।
মিয়ানমার সেনাদের যারা হত্যা করেছিল
সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালিয়ে আট মিয়ানমার নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যাকারী দলটি নিজেদের এই কাজকে আল ইয়াকিন (Al Yaqeen) তথা আদর্শ ও স্বপ্নের জন্য আন্দোলন (movement of faith or hope) বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের দাবি ধর্মের জন্য নয়।
গ্রুপটির ইউটিউব সাইটে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, দলটির সদস্যরা বন্দুক নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে বসে আছেন। তাদের একটাই দাবি ১৯৮২ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা তাদের যেই নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল তা ফেরত দিতে হবে, তাদেরকে নিজ দেশ মিয়ানমারে সমঅধিকার দিতে হবে।
সবশেষ দুই সপ্তাহ আগে ইউটিউবে দেয়া ভিডিও বার্তায় এই গ্রুপটি চিকিৎসা সেবা চেয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানায়। তাদেরকে “সন্ত্রাসী (terrorists)” আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে, ফায়জুলের দেয়া তথ্য মতে, মিয়ানমারের সীমান্ত চৌকিতে যারা হামলা চালিয়েছিলেন তারা ইয়া খো চং খোয়া সোন গ্রামেও আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র চারজনের হাতে বন্দুক ছিল। বাকিদের হাতে স্থানীয়ভাবে তৈরি তলোয়ার ছিল।
ফায়জুল আরো জানায়, স্বাভাবিকভাবেই আল ইয়াকিন গ্রুপের প্রতি তার গ্রামের মানুষের নৈতিক সমর্থন রয়েছে। কারণ বছরের পর বছর মিয়ানমারের সেনারা তাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে এই গ্রুপ তাদের অধিকার রক্ষায় সংগ্রাম করছে।
জাতিসংঘের দেয়া হিসেব মতে গতমাসে মিয়ানমার জান্তার বর্বরতা শুরুর পর থেকে উত্তরের রাখাইন প্রদেশ থেকে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া আরো অন্তত ৭০ হাজার মানুষের জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা দরকার। এই এলাকার তিন হাজার শিশুর অর্ধেকেরও বেশি চরমভাবে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এদের জীবন এখন খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় পৌছেছে।

মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা কাজে নিয়োজিত জাতিসংঘ দপ্তরের (UN Office for the Coordination of Humanitarian Affairs office in Myanmar) গত মধ্য নভেম্বরের এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য দেয়া হয়। তবে, পরবর্তীতে গত ২০ দিনে এই পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ রুপ নিয়েছে তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরের দিকে নজর দিলেই বোঝা যায়।
নিজের আহত শরীরটাকে কোনমতে বিছানায় দিকে নিতে নিতে ফায়জুল বললেন, “এক সময় আমি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির জন্য জীবন দিতে পর্যন্ত প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু তিনি আর এখন আমাদের পক্ষে কোন কথা বলছেন না।”
বিশ্ববাসীর কাছে ফায়জুলের আকুতি, “এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিবেকের হস্তক্ষেপ জরুরী, তারা যদি আমাদের সাহায্য না করে, তাহলে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত বলতে আর কিছু থাকবে না (There will be no future for the Rohingya)”।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ফায়জুল নামটি আসল নয়, ছদ্মনাম। এই নিপীড়িত রোহিঙ্গার পরিবার ও জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে আসল নাম ব্যবহার না করে ছদ্মনাম ফায়জুল ব্যবহার করা হয়েছে। স্ত্রী-সন্তান ফেলে পালিয়ে আসা এমন হাজারো রোহিঙ্গার জীবনেরই যেন প্রতিচ্ছবি এই ফায়জুল। (সূত্র: আলজাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম)
কেবি





