বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বিড়ি শিল্প। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির ওপর কর ধার্য করায় কুষ্টিয়ার কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাড়তি করের কারণে গত কয়েক বছরে জেলায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এবারো সে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিড়ি শ্রমিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার বিড়ি কারখানায় কর্মরত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। এসব শ্রমিকদের অধিকাংশই আবার নারী। যার মধ্যে স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারী রয়েছে।
শ্রমিকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে শ্রমিকরা ভালো নেই। উৎপাদন প্রতিদিনই অস্বাভাবিক হারে কমছে। ভারসাম্যহীন করকাঠামোর কারণে বিড়ি শিল্পে এ বিপর্যয় নেমে এসেছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ পেশার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। বেকার হওয়ার আশঙ্কায় অনেক বিড়ি শ্রমিক এরই মধ্যেই কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়েছেন।
তথ্য মতে, জেলার বিড়ি কারখানার বেশিরভাগই দরিদ্রপিড়ীত অঞ্চলে অবস্থিত। এসব কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকদের অধিকাংশই গরিব, অসহায় ও স্বামী পরিত্যক্তা নারী। জানা গেছে, শুল্কের এই বৃদ্ধির কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়েনি বরং কমেছে দ্বিগুণ হারে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, বিড়ির বাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসায় ভর্তুকি দিয়ে আর কারখানা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে কারখানা বন্ধের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। সামগ্রিকভাবে ধূমপায়ীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিড়ি কারখানা।
এ প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া বিড়ি শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ মজিবর রহমান জানান, কমদামি সিগারেট এখন বিড়ির বাজার দখল করে নিচ্ছে। এ কারণে মালিকরা একের পর এক বিড়ি কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় এ শিল্পকে রক্ষা ও শ্রমিকদের রুটি-রুজির স্বার্থে সরকারকে বিড়ি শিল্পের ওপর শুল্কের পরিমাণ কমিয়ে না আনলে এটি একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিড়ি ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শ্রমিক সাহারা খাতুন, বিলকিচ বেগম, নুরজাহানসহ কয়েকজন জানান, চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে বিড়ি কারখানায় কাজ করে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু এখন চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি। এ শিল্পের প্রতি সরকার যদি নজর না দেয় তা হলে আমাদের বেকার হয়ে পথে বসতে হবে।
স্থানীয় বিড়ি ফ্যাক্টরির ম্যানেজার আব্দুল বাতেন জানান, বিড়ি শিল্প এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। কারখানা বন্ধ হলে মালিকের কিছুই হবে না, কিন্তু মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমিকরা।
তিনি বলেন, এই শিল্পে করারোপ করার পর থেকে ক্রমাগতভাবে করের বোঝায় বিড়ি শিল্প আজ ধ্বংসে দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
বেসরকারি এনজিও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ধূমপান নিরুৎসাহিত করার কথা বলে প্রত্যেক বাজেটে বিড়ির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এভাবে কর বৃদ্ধির ফলে বিড়ির দাম বেড়ে প্রায় সিগারেটের সমপর্যায় পৌঁছে গেছে।
এ কারণে বিড়ি ভোক্তাদের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে বিড়ি বাদ দিয়ে কমদামি সিগারেটের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ কারণে বিড়ি শিল্পের উপর এর প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ বলেন, এখনি বিড়ির ওপর কর কমিয়ে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরী। না হলে এই বিড়ি শিল্প ও এরসাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক ধ্বংসের মুখে পড়বে।
এআর





