চীনে পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে আর নারীর কমছে। নারী-পুরুষের এ অসমতা সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে চীনে। দিন দিন এটা প্রকটও হচ্ছে। প্রেম করা তো দূরের কথা বিয়ের পিঁড়িতে বসতেও কনে মিলছে না দেশটিতে।
এ সমস্যা থেকে উত্তরণে ‘অভিনব’ এক ফর্মুলা দিয়েছেন দেশটির এক অর্থনীতির অধ্যাপক। নিজেদের ব্লগে পোস্ট করা ঝিজাং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শি ঝাওশি-এর ওই ফর্মুলা হচ্ছে ‘এক স্ত্রী অনেক স্বামী’। পুরুষদের মধ্যে বিয়ের বৈধতা দেওয়াও এ সমস্যা থেকে উত্তরণের ভালো পন্থা বলে দাবি করেন তিনি।
১৯৭৯ সাল থেকে আরোপিত দেশটির জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে অনেক পরিবার একটির বেশি সন্তান নিতে পারেন না। সেখানে ছেলেশিশুর নেওয়ার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়। এছাড়া অবৈধ গর্ভপাত ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যার কারণে বর্তমানে চীনে প্রতি ১০০ মেয়ে শিশুর পরিবর্তে ১১৭টি ছেলে শিশু জন্ম নেয়।
কাজের জন্য গ্রাম থেকে বহু মেয়ে শহরে পাড়ি জমায়। ফলে এ সমস্যা আরো প্রকট হিসেবে দেখা দিয়েছে দেশটির গ্রামাঞ্চলে। সেখানে বিয়ের জন্য কনে পাওয়া আরো দুষ্কর হয়ে পড়ছে।
অধ্যাপক শি বলছেন, ২০২০ সালের মধ্যে চীনে কনের অভাবে অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যা দাঁড়াবে তিন কোটি। ফলে মেয়েদের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকবে।
ঘাটতি পন্যের দাম বাড়ে- নারীদের এরকম তুলনা করে তিনি বলেন, ‘ধনী পুরুষেরা পয়সা দিয়ে বউ পেয়ে যাবে, কিন্তু গরীবরা কি করবে? তারা কয়েকজন মিলে একটি মেয়েকে বউ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’
অধ্যাপক শি বলেন, ‘প্রত্যন্ত অনেক দরিদ্র এলাকায় এরকম ঘটনা এখনই ঘটছে। কয় ভাই মিলে একটি মেয়েকে তাদের বউ হিসেবে গ্রহণ করছে। তারা সুখেই বসবাস করছে।’
শির এ ফর্মুলা চীনে তো বটেই সারা বিশ্বে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্যটি ভাইরাল হিসেবে পরিণত হয়েছে।
চীনের একটি নারী অধিকার সংগঠনের মুখপাত্র জিং শিওং বলছেন, অধ্যাপক শি নারীদের পুরুষের যৌন ক্ষুধা মেটানো এবং বাচ্চা পয়দা করার পুতুল হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
এ ব্যাপারে শির মন্তব্য নেওয়ার জন্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তথ্যসূত্র-বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস।
এমএ
বিশেষ প্রতিবেদন
কনে সংকটে বউ ভাগাভাগি !
চীনে পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে আর নারীর কমছে। নারী-পুরুষের এ অসমতা সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে চীনে। দিন দিন এটা প্রকটও হচ্ছে। প্রেম করা তো দূরের কথা বিয়ের পিঁড়িতে বসতেও কনে মিলছে না দেশটিতে।





